পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজে প্রথম টেস্টে নাজমুল হোসেন শান্তর সেঞ্চুরি, মুমিনুল হক ও মুশফিকুর রহিমের ধীর-সৌন্দর্যের ইনিংসে বড় সংগ্রহের পথে ছুটছিল বাংলাদেশ। প্রথমদিনের খেলা শেষে তিনশ পার করে সেই আভাস দিয়েছিল। দ্বিতীয় দিন খেই হারিয়েছে টাইগার ব্যাটিং। প্রথম সেশনে ৩ উইকেট হারানোর পর দ্বিতীয় সেশন শুরুর কিছু সময়ে গুটিয়ে যায় স্বাগতিকরা। তাসকিন আহমেদ ও নাহিদ রানার শেষ উইকেটে ২৯ রানের জুটিতে চারশ পার করেছে লাল-সবুজের দলটি।
শুক্রবার ডাচ-বাংলা ব্যাংক বাংলাদেশ-পাকিস্তান টেস্ট সিরিজের প্রথম ম্যাচে টসে হেরে ব্যাটে নেমে ৪ উইকেটে ৩০১ রানে দিনের খেলা শেষ করে বাংলাদেশ। দ্বিতীয় দিনের মধ্যাহ্ন বিরতির খানিক পর গুটিয়ে যাওয়ার আগে আরও ১১২ রান যোগ করেছে, হারিয়েছে বাকি ৬ উইকেট। প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের সংগ্রহ ১১৭.১ ওভারে ৪১৩ রান।
মুশফিকুর রহিম ৪৮ রানে এবং লিটন দাস ৮ রানে দ্বিতীয় দিনের খেলা শুরু করেছিলেন। প্রথম সেশনে ৭৯ রান যোগ করে ৩ ব্যাটার হারায় স্বাগতিকরা। মধ্যাহ্ন বিরতির আগে সংগ্রহ দাঁড়ায় ১০৯ ওভারে ৭ উইকেটে ৩৮০ রান। বিরতির পর ৮.১ ওভার ব্যাটিং করে ৩৩ রান যোগ করে থামে ইনিংস।
শনিবার সকালে ৩৯তম জন্মদিনে টেস্ট মেজাজে খেলে ১১৪ বলে ফিফটির দেখা পান মুশফিক। দিনের ১২তম ওভারে লিটনের উইকেট হারায় বাংলাদেশ। ৯৬.৪ ওভারে ৩৩৮ রানে উইকেট বিলিয়ে আসেন লিটন। মোহাম্মাদ আব্বাসের অফ-স্টাম্পের বাইরে কিছুটা শর্ট লেন্থের ডেলিভারি পিচে পড়ে একটু ধীর হয়েছিল। লিটন পুল শট খেলার চেষ্টা করেন। মিডঅনে টাইমিং মিস করায় বদলি ফিল্ডার আমাদ বাট বাঁদিকে সরে গিয়ে সহজে বল তালুবন্দি করেন। ৩৩ রানে থামেন লিটন।
১০০.৪ ওভারে দলীয় ৩৫৪ রানে ষষ্ঠ উইকেট হারায় টিম টাইগার্স। মোহাম্মাদ আব্বাসের অফ স্টাম্পের অনেক বাইরের খাটো লেন্থের ডেলিভারিতে মিরাজ কিছুটা উপরে পাঞ্চ করার চেষ্টা করেন। ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্টে ইমাম বল তালুবন্দি করেন। ১০ রান করেন টাইগার সহ-অধিনায়ক।
মুশফিককে খানিক সঙ্গ দিয়ে তাইজুল ১৭ রানে বিদায় নেন। আব্বাসের অফ-স্টাম্পের উপরের বাউন্সারে তিনি হুকের চেষ্টা করেন, বল ব্যাটের উপরের কানায় লেগে উইকেটরক্ষক রিজওয়ানের সহজ ক্যাচ হয়। ৩৭৮ রানে সপ্তম উইকেট হারায় বাংলাদেশ। ইবাদতকে নিয়ে সেশন শেষ করেন মুশফিক।
মধ্যাহ্ন বিরতির পর ৩৮০ রানে শাহিন আফ্রিদির দারুণ ডেলিভারিতে বোল্ড হন মুশফিক। শেষ মুহূর্তে ফুল লেন্থের বল ভেতরে ঢুকে গেলে তার ব্যাট-প্যাডের ফাঁক গলে বেরিয়ে যায়। অভিজ্ঞ ব্যাটার এগিয়ে এসে অন দ্য রাইজ ড্রাইভ করতে চেয়েছিলেন। ভুল লাইনে ব্যাট চালানোয় ফাঁক গলে বল অফ স্টাম্প উপড়ে দেয়। ৮ চারে ১৭৯ বলে ৭১ রান করে যান টাইগার কিংবদন্তি।
খানিক পর মোহাম্মদ আব্বাসের পঞ্চম শিকার হন ইবাদত হোসেন। তার মিডলস্টাম্পে করা বল ব্যাটের উপরের অংশে লেগে রিজওয়ানের গ্লাভসে চলে যায়। ৩৮৪ রানে নবম উইকেট হারায় বাংলাদেশ। দশম উইকেটে তাসকিন ও নাহিদ রানা মিলে ৪০০ রান পার করে নেন। ৪৬ রানে ৫ উইকেট হারায় বাংলাদেশ।
নাহিদ রানা ও তাসকিন মিলে যোগ করেন ২৯ রান। শাহিন আফ্রিদির বলে দ্বিতীয় স্লিপে সৌদ শাকিলের দারুণ ক্যাচে জুটি ভাঙে। তাসকিন ৩ চার ও এক ছক্কায় ১৯ বলে ২৮ রান করে আউট হন। নাহিদ রানা ২৩ বলে ৪ রান করেন।
প্রথমদিনে সেঞ্চুরি করেন নাজমুল হোসেন শান্ত। ১২ চার ও ২ ছক্কায় ১৩০ বলে ১০১ রান করেন অধিনায়ক। ১০ চারে ২০০ বলে ৯১ রান করেন মুমিনুল হক। দুই ওপেনার সাদমান ইসলাম ১৩ এবং মাহমুদুল হাসান জয় ৮ রান করে আউট হন।
প্রথম ইনিংসে পাকিস্তানের হয়ে মোহাম্মদ আব্বাস ৫ উইকেট নেন। শাহিন আফ্রিদি নেন ৩ উইকেট। হাসান আলি ও নোমান আলি একটি করে উইকেট নেন।







