ভুল হয়ে গেলে যে দোয়ায় আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইবেন

ছবি: সংগৃহীত
মানুষ মাত্রই ভুল করে। কখনো রাগের মাথায় কাউকে কষ্ট দিয়ে ফেলি, কখনো নিজের অজান্তে অন্যায় করি, আবার কখনো জেনেও এমন কিছু করে বসি, যা পরে অনুশোচনার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। ভুলের পর অনেকেই অপরাধবোধে ভোগেন। কিন্তু ইসলাম শেখায়, ভুল হয়ে গেলে হতাশ হয়ে পড়া নয়; বরং আল্লাহর কাছে ফিরে এসে ক্ষমা চাওয়া জরুরি।
পবিত্র কোরআনে হজরত আদম (আ.) ও হাওয়া (আ.)-এর এমন একটি দোয়া বর্ণিত হয়েছে, যেখানে তাঁরা নিজেদের ভুল স্বীকার করে আল্লাহর কাছে ক্ষমা ও রহমত প্রার্থনা করেছিলেন।
দোয়াটি কী?
আরবি: رَبَّنَا ظَلَمْنَا أَنْفُسَنَا وَإِنْ لَمْ تَغْفِرْ لَنَا وَتَرْحَمْنَا لَنَكُونَنَّ مِنَ الْخَاسِرِينَ
উচ্চারণ: রব্বানা জালামনা আনফুসানা, ওয়া ইল্লাম তাগফির লানা ওয়া তারহামনা, লানাকুনান্না মিনাল খাসিরিন।
অর্থ: হে আমাদের প্রতিপালক! আমরা নিজেদের প্রতি অন্যায় করেছি। আপনি যদি আমাদের ক্ষমা না করেন এবং আমাদের প্রতি দয়া না করেন, তবে অবশ্যই আমরা ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হব।- সূরা আল-আ‘রাফ, আয়াত ২৩।
দোয়াটি আমাদের কী শেখায়?
১. নিজের ভুল স্বীকার করা
দোয়াটিতে আদম (আ.) ও হাওয়া (আ.) নিজেদের ভুলের দায় স্বীকার করেছেন। এটি শেখায়, ভুল করলে অজুহাত না দেখিয়ে নিজের কাজের দায় নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
২. আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ না হওয়া
মানুষের ভুল যত বড়ই হোক, আন্তরিকভাবে তওবা করে আল্লাহর কাছে ফিরে আসার সুযোগ রয়েছে। আল্লাহ বলেন, তাঁর রহমত থেকে নিরাশ না হতে। (সূরা আয-যুমার, ৩৯:৫৩)
৩. ক্ষমা চাওয়ার পাশাপাশি নিজেকে সংশোধন করা
শুধু মুখে ক্ষমা চাওয়াই যথেষ্ট নয়। আন্তরিক তওবার জন্য গুনাহ ছেড়ে দেওয়া, অনুশোচনা করা এবং পুনরায় সেই ভুল না করার সংকল্প জরুরি। আর কারও অধিকার নষ্ট করলে তা ফিরিয়ে দেওয়া বা যথাসম্ভব সংশোধন করাও প্রয়োজন।
কখন এই দোয়া পড়বেন?
নিজের ভুল বুঝতে পারলে, কোনো গুনাহের জন্য অনুশোচনা হলে কিংবা আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইতে চাইলে এই দোয়া পড়তে পারেন। এর জন্য নির্দিষ্ট কোনো সংখ্যা নির্ধারিত নেই।
ভুল মানুষের জীবনের অংশ হতে পারে, কিন্তু ভুলের পর কীভাবে ফিরে আসছি, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। এই দোয়া আমাদের শেখায় নিজের সীমাবদ্ধতা স্বীকার করে আল্লাহর ক্ষমা ও দয়া চাওয়াই মুমিনের পথ।





