২০২৫ সালে বাংলাদেশ ও চীন কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার ৫০ তম বার্ষিকী একসঙ্গে উদযাপন করবে। সম্প্রতি চারদিনের রাষ্ট্রীয় সফরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চীন গিয়েছিলেন। এই সফরে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং, প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংসহ অন্যান্য জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বৈঠক এবং ২১টি সমঝোতা স্মারক, সাতটি ঘোষণা এবং ১৬টি ব্যবসায়িক সমঝোতা হয়েছে।
বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে বাংলাদেশের বিনিয়োগ সম্মেলন ‘দ্য রাইজ অব বেঙ্গল টাইগার: ট্রেড অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট অপরচুনিটিজ বিটুইন বাংলাদেশ অ্যান্ড চায়না।’ বাংলাদেশে চীনা ব্যবসায়ী ও কোম্পানির বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে চীনের বেইজিংয়ে বিজনেস সামিট আয়োজন করেছে বাংলাদেশ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চীন সফরের মধ্যে ৯ জুলাই সকালে বেইজিংয়ের এক হোটেলে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। অর্থ মন্ত্রণালয়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বিএসইসি, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা), বাংলাদেশ চায়না চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (বিসিসিসিআই) ও বেইজিংয়ে বাংলাদেশ দূতাবাস যৌথভাবে বেইজিং ট্রেড অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট সামিট আয়োজন করেছে।
বাংলাদেশে নতুন বিনিয়োগ বাড়ানোর জন্য এ সামিট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এর আগে বাংলাদেশ বেশ কয়েকটি দেশে রোড শো আয়োজন করেছে। তবে চীনের এই বিজনেস সামিট আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি ফলপ্রসূ হয়েছে। এই সামিট আমাদের অর্থনীতির নতুন দ্বার খুলে দিয়েছে। বিশেষ করে বাংলাদেশে নতুন বিনিয়োগ বাড়ানোর জন্য এ সামিট ছিল গুরুত্বপূর্ণ। এর মাধ্যমে বাংলাদেশে আগের চেয়ে অনেক বেশি নতুন বিনিয়োগ হবে। দুই দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে। বাংলাদেশ থেকে আসা ব্যবসায়ীরা চীনের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে দুই দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে। বিস্তারিত আলোচনা শেষে বাংলাদেশ ভালো কিছু পেয়েছে। বিনিয়োগে আকৃষ্ট করতে আগেও অনেক রোড শো করেছে বাংলাদেশ। তবে সেগুলোর তুলনায় আমরা এখানকার আয়োজন নিয়ে অনেক বেশি সাড়া পাওয়া গেছে। সামিট নিয়ে সেখানে উৎসাহ-উদ্দীপনা কাজ করছে। এই সামিটের মাধ্যমে বাংলাদেশে চীনের বিনিয়োগ অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি হবে বলে আমরা প্রত্যাশা করি। বিনিয়োগের সূত্র ধরে দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রেও নতুন মাত্রা প্রত্যাশা আমাদের। চীনের সঙ্গে আমাদের যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আছে, আশা করি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এই সফরের মধ্য দিয়ে তা আরও মজবুত হবে। দুই দেশের সম্পর্কের আরও এক নতুন দিগন্তের সূচনা হবে। চীনে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া বিজনেস সামিট আমাদের অর্থনীতির নতুন দুয়ার খুলে দিতে পারে। বিশেষ করে বাংলাদেশে নতুন বিনিয়োগ বাড়ানোর জন্য এ সামিট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ইতিপূর্বে অনুষ্ঠিত বেশ কয়েকটি দেশে রোড শোর ধারবাহিকতায় এবার চীনে অনুষ্ঠিত বিজনেস সামিট, অতীতের যে কোন সময়ের চেয়ে বেশি ফলপ্রসূ হয়েছে।
বাংলাদেশের বড় বড় অবকাঠামোসহ বিভিন্ন খাতে চীনের বিনিয়োগ বৃদ্ধি, বাংলাদেশে চীনের শিল্প স্থাপন, বাণিজ্য ঘাটতি কমায়ে আনা সাত বিলিয়ন ডলারের ঋণসহায়তা ও দ্বিপাক্ষিক কৌশলগত সম্পর্ক উন্নয়নে চীন সফরে গিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। চীন ও বাংলাদেশের বিভিন্ন কোম্পানির মধ্যে স্বাক্ষরিত এই সমঝোতা চুক্তিগুলো দুই দেশের মধ্যকার ব্যবসায়িক সম্পর্ককে আরও জোরদার করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে বাংলাদেশে নতুন বিনিয়োগ বাড়ানোর জন্য এ সামিট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশে আগের চেয়ে অনেক বেশি নতুন বিনিয়োগ হবে। চীন ও বাংলাদেশের বিভিন্ন কোম্পানির মধ্যে স্বাক্ষরিত এই সমঝোতা চুক্তিগুলো দুই দেশের মধ্যকার ব্যবসায়িক সম্পর্ককে আরও জোরদার করবে। সাক্ষরিত স্মারকগুলোর মধ্যে হুয়াওয়ে টেকনোলজিস লিমিটেডের সঙ্গে নগদের একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে, যেখানে স্মার্ট বাংলাদেশ গড়তে নতুন প্রজন্মের ডিজিটাল আর্থিক প্ল্যাটফর্ম গড়ে তুলতে কৌশলগত অংশীদারিত্বের অংশ হিসেবে প্রায় ৫০ মিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ হবে বাংলাদেশে।
দেশের পুঁজিবাজারের ডিজিটাল রূপান্তরের প্রক্রিয়ায় ২০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়াগের একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে ডিইএক্স বাংলাদেশ টেক লিমিটেড ও হুয়াওয়ে টেকনোলজিস (বাংলাদেশ) লিমিটেডের মধ্যে। বাংলাদেশ চাইনিজ আর্থিক ও শিল্প এলাকায় বিনিয়োগ অবকাঠামোবিষয়ক একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে চায়না রোড অ্যান্ড ব্রিজ করপোরেশন (সিআরবিসি) ও নিংবো সিক্সিং কোম্পানি লিমিটেডের মধ্যে। মোংলা অর্থনৈতিক অঞ্চলে ৩৩ একর জায়গাজুড়ে বৃহত্তম পিএসএফ ও পেট বোতল উৎপাদন কারখানা টেক্সটাইল গ্রেড কারখানা স্থাপনের জন্য ৪০০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের জন্য সমঝোতা হয়েছে দেশবন্ধু গ্রুপ কেমটেক্স ও চায়না কেমিকেল সিএনসিইসি’র মধ্যে। দেশে ইলেকট্রিক গাড়ি উৎপাদনের জন্য একটি সমেঝোতা স্মারক সই হয়েছে বিলিয়ন ১০ কমিউনিকেশন লিমিটেড ও সিএইচটিসি (হেংইয়াং) ইন্টেলিজেন্ট ইভি কোম্পানি লিমিটেডের মধ্যে।
অন্যদিকে সিলেটে সোলার পার্ক স্থাপনের জন্য সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে বিলিয়ন ১০ কমিউনিকেশনের সঙ্গে নিংবো সান ইস্ট সোলার কো. লিমিটেডের। বিলিয়ন ১০ কমিউনিকেশন আরও দুটি সমঝোতা স্মারক সই করেছে। এর মধ্যে হেশেং (হোশাইস) সিলিকন ইন্ডাস্ট্রি কোম্পানি লিমিটেডের সঙ্গে নবায়নযোগ্য শক্তি এবং ঝোংকে গুয়োরুই (ঝুহাই) নিউ ম্যাটেরিয়াল টেকনোলজি কোম্পানি লিমিটেডের সঙ্গে সমঝোতা হয়েছে ওয়েস্ট লুব্রিক্যান্ট অয়েল রিকভারি অ্যান্ড রিফাইনিং বিষয়ে। এছাড়া হংজি ইন্টেলিজেন্ট ট্রান্সপোর্ট কোম্পানি লিমিটেড ও নিংবো শেরিং নিউ এনার্জি টেকনোলজি লিমিটেডের সঙ্গে দুটি সমঝোতা চুক্তি করেছে ইবি সলিউশন লিমিটেড। এর মধ্যে হংজি ইন্টেলিজেন্ট ট্রান্সপোর্ট কোম্পানি লিমিটেডের সঙ্গে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকটি ঢাকা শহরের জন্য মোবাইক প্রকল্প নিয়ে। আর নিংবো শেরিং নিউ এনার্জি টেকনোলজি লিমিটেডের সঙ্গে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকটি স্মার্ট কোল্ড চেইন লজিস্টিক সলিউশন নিয়ে। এছাড়া স্থল ও জল পথে সিএনজি পরিবহণে কারিগরি ও আর্থিক বিনিয়োগ খাতে ২০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে ইন্ট্রাকো রিফুয়েলিং স্টেশন পিএলসি এবং শিঝুয়াং এনরিক গ্যাস ইকুইপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেডের (সিআইএসমসি এনরিক) মধ্যে।
এককভাবে সর্বোচ্চ পাঁচটি সমঝোতা স্মারক সই করেছে দেশের অন্যতম শিল্প গ্রুপ নিটল নিলয় গ্রুপ। এর মধ্যে জিবো জিনহুয়াটেং পেপার মেশিনারি কো. লিমিটেড, চায়নার সঙ্গে পেপার মেশিনারি খাতে বিনিয়োগ; ঝেংঝো ডংফেং মিড-সাউথ এন্টারপ্রাইজ কো. লিমিটেড, চায়নার সঙ্গে টিবিআর টায়ার প্রকল্পে বিনিয়োগ; এবং শ্যাংডং সুনাইট মেশিনারি কো. লিমিটেড, চায়নার সঙ্গে অ্যারিয়েটেড অটোক্লেভ কংক্রিট (এএসি) ব্লক খাতে বিনিয়োগের জন্য সমঝোতা করেছে কোম্পানিটি। এছাড়া রাবার মেশিনারিজ খাতে বিনিয়োগের জন্য নিটল নিলয় গ্রুপ সমঝোতা স্মারক সই করেছে দালিয়াম হুয়াহান রাবার অ্যান্ড প্লাস্টিক মেশিনারি কো. লিমিটেডের সঙ্গে। আর লিথিয়াম ব্যাটারি ও ইলেকট্রিক যানবাহনের জন্য তারা সমঝোতা স্মারক সই করেছে জেডপি টেকনোলজিস (আনহুই) কো. লিমিটেড, চায়নার সঙ্গে।
এই সফরের আগেই ভারতের সংবাদ মাধ্যমে উদ্বেগ জানানো হয়েছিল প্রধানমন্ত্রী হয়তো এবার চীনের সঙ্গে তিস্তা প্রকল্প নিয়ে কোন চুক্তি করে ফেলতে পারেন। কিন্তু বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী এই বিষয়ে কোন আলোচনাই করেননি। এমনকি চীনের পক্ষ থেকে দেয়া বৈশ্বিক নিরাপত্তা উদ্যোগের( জিএসআই) বিষয়েও নীরব থেকেছে বাংলাদেশ। যা ভারতকে এই মূহুর্তে অনেকটাই স্বস্তি দিয়েছে। অন্যদিকে তাইওয়ান চীনের অংশ যৌথ ঘোষণায় বাংলাদেশের স্বীকৃতি আদায় করতে পেরেছে চীন। এই স্বীকৃতি চীনকেও সন্তুষ্ট করেছে। এবারই প্রথম বাংলাদেশের কাছ থেকে তাইওয়ান প্রশ্নে প্রকাশ্যে কোনো বক্তব্য পেয়েছে চীন। প্রধানমন্ত্রীর এই সফরে চীনের অর্থনৈতিক সাপোর্ট প্রত্যাশা করেছিল ঢাকা। গত ফেব্রুয়ারিতে বিশ্ববাণিজ্য সংস্থার মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকের সাইড লাইনে চীনা প্রতিনিধি বাণিজ্য সহায়তা হিসাবে বাংলাদেশকে ৫ বিলিয়ন ডলারের সমপরিমাণ চীনা মুদ্রা প্রদানের প্রস্তাব করেছিল। যা নিয়ে গত চার মাস ধরে আলোচনায় কাটায় দুই দেশ। পররাষ্ট্র সচিবের বেইজিং সফরে এবং ইআরডি’র সঙ্গে সিরিজ বৈঠকে এ নিয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা হয়েছিল। এই সফরে ৫০০ কোটি ডলার ঋণের এই ধারাবাহিকতা বজায় রয়েছে। বাংলাদেশ ও চীনের যৌথ ঘোষণায় ঋণ প্রাপ্তির বিষয়ে চীনের একটি টেকনিক্যাল কমিটি বাংলাদেশ সফর করবে বলে ঘোষণা দেয়া হয়েছে। এখানে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সুবিধার বিষয়টি শুধু ৫ বিলিয়নই নয়, ভবিষ্যতে আলোচনায় আরো বিস্তৃতির একটা বিষয় যুক্ত হয়েছে। কারণ টেকনিক্যাল কমিটি আলোচনায় সন্তুষ্ট হলে এই ঋণের পরিমাণ বৃদ্ধিও করতে পারবে। তবে অনুদান হিসাবে খুব দ্রুতই ১০০ কোটি ইউয়ান (১৬০০ কোটি টাকা) পাবে বাংলাদেশ।
প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরের অর্জন বিশ্লেষণ করেছে চীনের মিডিয়া গ্লোবাল টাইমসের প্রতিবেদনে। সেখানে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ যদি দ্রুত অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নতি করতে চায় তাহলে অবশ্যই চীনের সহযোগিতা প্রয়োজন। ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের নাম উল্লেখ করে ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, চীনের কাছ থেকে অর্থনৈতিক সহযোগিতা পেতে ঘনিষ্ঠ হওয়া দেশগুলোর ওপর অপরিহার্যভাবে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশগুলো রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা চাপ বাড়াচ্ছে। চীন এক্ষেত্রে তৃতীয় কোন দেশকে এই সম্পর্কে টার্গেট করবে না। চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বলেন, তৃতীয় কোনো পক্ষকে টার্গেট করবে না চীন-বাংলাদেশের মধ্যকার সম্পর্কের উন্নয়ন। লি কিয়াং বলেছেন, চীন সবসময়ই ‘জিরো-সাম’ গেমের বিরোধী এবং চীনের অবস্থান হলো পারস্পরিক সুবিধা ও সহযোগিতার পক্ষে। তিনি আরও বলেন, জটিল ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের কৌশলগত পছন্দকে সম্মান করে চীন। অন্য দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের বন্ধুত্বপূর্ণ ও সহযোগিতামূলক সম্পর্কে বেইজিংয়ের যে আপত্তি নেই তাও খোলাসা করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরে সমাপনীতে ২৭ দফা যৌথ ঘোষণা প্রকাশ পেয়েছে। ভবিষ্যতের দলিল হিসেবে থাকা ওই যৌথ ঘোষণায় যেসব বিষয়ে দুপক্ষ এক হয়েছে বা ছাড় দিয়ে রাজি হয়েছে তাই স্থান পেয়েছে। প্রতিরক্ষা সহযোগিতার ক্ষেত্রে সব পর্যায়ে এবং বিভিন্ন সশস্ত্র বাহিনী ও বিভাগের মধ্যে বিনিময় আরও জোরদার করতে এবং ব্যবহারিক সহযোগিতাও বাড়াতে রাজি হয়েছে চীন-বাংলাদেশ। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা ও শান্তি বিনির্মাণের বিষয়ে পারস্পরিক বোঝাপড়া ও সম্পৃক্ততা ধরে রাখতে একমত হয়েছে দুই দেশ। বাংলাদেশ থেকে চীনে আম রপ্তানির প্রাথমিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে জানিয়ে বিবৃতিতে পাট, চামড়া, জলজ পণ্য এবং অন্যান্য উচ্চমানের বিশেষ পণ্য রপ্তানি সমপ্রসারণে বাংলাদেশকে চীন স্বাগত জানায় বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ছাড়া উচ্চমানের বাংলাদেশি কৃষিপণ্য চীনে রপ্তানির বিষয়ে যোগাযোগ আরও নিবিড় করতেও উভয়ে সম্মত বলে জানানো হয়। প্রধানমন্ত্রী সফরে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আরেকটি বড় চাওয়া ছিল সাউদার্ন ইন্টিগ্রেটেড ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভ (সিডি) বা পায়রা বন্দরকে কেন্দ্র করে দক্ষিণাঞ্চলের উন্নয়নে চীনের সম্পৃক্ততা। এ বিষয়ে বেইজিং ইতিবাচক। বিবৃতিতে চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের (বিআরআই) অধীনে আরও গুণগত মানসম্পন্ন প্রকল্প গ্রহণ করা হবে বলে জানানো হয়েছে। সেইসঙ্গে আশা করা হয়েছে, একসঙ্গে পরিকল্পনা এবং বাস্তবায়নে উভয়পক্ষই লাভবান হবে। যৌথ বিবৃতিতে সাবওয়ে, মেট্রোরেল ও সড়ক; তেল ও গ্যাস অনুসন্ধান; হাসপাতাল এবং পানিসম্পদ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের বিষয়ে চীনের এন্টারপ্রাইজগুলোকে উৎসাহিত করার কথা উল্লেখ রয়েছে।
যৌথ বিবৃতির সূচনাতে রোহিঙ্গাদেরকে ‘মিয়ানমার থেকে বাস্তচ্যুত মানুষ’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। দ্রুত প্রত্যাবাসনই সেই সংকটের সমাধান তাও উল্লেখ করা হয়েছে। যা বাংলাদেশের জন্য একটি বড় প্রাপ্তি। দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন নির্বিঘ্নভাবে অনুষ্ঠানের জন্য ও বিজয়ী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে অভিনন্দন জানিয়েছে চীন। ২০২৫ সালে বাংলাদেশ ও চীন কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার ৫০তম বার্ষিকী একসঙ্গে উদযাপন করবে বলেও ঘোষণা এসেছে। চীন অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে বাংলাদেশের অর্জনকে সাধুবাদ জানানো ছাড়াও ২০২৬ সালে এলডিসি উত্তরণ এবং ‘স্মার্ট বাংলাদেশ রূপকল্প ২০৪১’ বাস্তবায়নে সমর্থন ব্যক্ত করেছে।
(এই বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। চ্যানেল আই অনলাইন এবং চ্যানেল আই-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)









