বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম কমতে শুরু করেছে। প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম এখন ২ হাজার ৬০০ ডলারের নিচে নেমে এসেছে। যা গত ২ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন। ফলে দেশের বাজারেও দাম কমতে পারে। মঙ্গলবার (১২ নভেম্বর) বাজারে স্বর্ণের দাম অবস্থান করছিল ২ হাজার ৫৯৬.৯৫ ডলারে। প্রতি আউন্সের দাম একদিনে ২২.৫৮ ডলার বা শূন্য দশমিক ৮৬ শতাংশ কমেছে।
স্বর্ণের আন্তর্জাতিক বাজার পর্যবেক্ষণকারী সংস্থাগুলোর বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে রয়টার্স জানিয়েছে, ডলারের মান শক্তিশালী হতে থাকায় কমতে শুরু করেছে স্বর্ণের দাম। বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে গত দুই মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন দামে স্বর্ণের বেচাকেনা হচ্ছে। গতকাল বুধবার স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম আগের দিনের তুলনায় দশমিক ৯ শতাংশ কমেছে। প্রতি আউন্সের মূল্য নেমেছে ২ হাজার ৫৯৭ ডলার ৯১ সেন্টে, যা ২০ সেপ্টেম্বরের পর থেকে সর্বনিম্ন।
বাংলাদেশে স্বর্ণের দাম বিশ্ব বাজারের প্রভাবেই ওঠানামা করে। গত কিছু দিনে, আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম কমলেও দেশের বাজারে কিছুটা হেরফের হয়েছে। সবশেষ, বৃহস্পতিবার ১৪ নভেম্বর ভরিতে ১ হাজার ৬৮০ টাকা কমিয়ে নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে এক লাখ ৩৪ হাজার ৫০৯ টাকা।
তার আগে, গত ১২ নভেম্বর সব থেকে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের এক ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম ২ হাজার ৫১৯ টাকা কমিয়ে ১ লাখ ৩৬ হাজার ১৮৯ টাকা নির্ধারণ করা হয়ে। এর আগে, গত ৫ ও ৮ নভেম্বর আরও দুদফা স্বর্ণের দাম কমানো হয়। ৫ নভেম্বর ভালো মানের এক ভরি স্বর্ণের দাম কমানো হয় ১ হাজার ৩৬৫ টাকা এবং ৮ নভেম্বর কমানো হয় ৩ হাজার ৪৫৩ টাকা। ফলে চার দফায় ভালো মানের এক ভরি স্বর্ণের দাম কমানো হলো ৯ হাজার ১৭ টাকা।
এই বিষয়ে বাংলাদেশ জুয়েলারি সমিতি- বাজুস এর রিসার্চ এন্ড ডেভেলপমেন্ট বিভাগের কো-অর্ডিনেটর রাহাত ইসলাম চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, দাম কমার অন্যতম কারণ হল ট্রাম্পের জয়। তার জয়ের খবরের পরপরই বিশ্ববাজারে এর দাম কমতে শুরু করছে।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বাজার পর্যবেক্ষণ সংস্থা কেসিএম ট্রেডের শীর্ষ বাজার বিশ্লেষক টিম ওয়াটেরার বলেন, সাম্প্রতিক প্রেসিডেন্ট নির্বাচন এবং তার ফলাফল ডলারের মানের জন্য আশীর্বাদ বয়ে এনেছে। স্বর্ণের দাম কমার মূল রহস্য লুকিয়ে আছে ডলারের মান শক্তিশালী হওয়ার মধ্যে।
ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম আনন্দবাজার জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সরাসরি প্রভাব পড়েছে স্বর্ণের দামে। বিশেষজ্ঞদের দাবি, ভোটে দ্বিতীয় বারের জন্য ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় আসায় ডলার শক্তিশালী হতে শুরু করেছে। যার কারণে এই পতন লক্ষ করা যাচ্ছে। স্বর্ণের দাম যুক্তরাষ্ট্রের মুদ্রাস্ফীতির সঙ্গেও কিছুটা সংযুক্ত।
ডলারের মান বৃদ্ধির অন্যতম কারণ বিটকয়েনের ব্যবহার বেড়ে যাওয়া। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বিজয়ী ডোনাল্ড ট্রাম্প বাণিজ্যিক লেনদেনের মাধ্যম হিসেবে বিটকয়েন ব্যবহারের পক্ষে থাকায় নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর থেকেই আন্তর্জাতিক লেনদেনের ক্ষেত্রে ব্যাপকভাবে বেড়ে গেছে বিটকয়েনের ব্যবহার। ফলে ডলারের মানও বাড়ছে।
স্বর্ণের বাজার বিশ্লেষণকারী অপর মার্কিন সংস্থা বেরেনবার্গ জানিয়েছে, বিটকয়েনের ব্যবহার বৃদ্ধির এই ধারা যদি অব্যাহত থাকে, তাহলে আগামী ২০২৫ সালে স্বর্ণের দর কম-বেশি স্থিতিশীল থাকবে।
সেপ্টেম্বর থেকে পূর্ব ইউরোপ এবং পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের গতি তীব্রতর হওয়ায় স্বর্ণের দাম বেড়েছিল। ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর যা কিছুটা কমেছে। তাছাড়া ইউরোপে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধ হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে ট্রাম্পের জয়ের পর। তাছাড়া বিশ্বের বর্তমান অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই মূল্যবান ধাতুটির চাহিদাও কমতে দেখা যাচ্ছে। আর চাহিদা কমার সাথে দামের বিষয়টি সম্পৃক্ত।
এছাড়া স্বর্ণকে নিরাপদ বিনিয়োগ বলে মনে করা হয়ে। রাহাত ইসলাম জানান, দাম কমার আরেকটি কারণ হল, রিটেইল ইনভেস্টরদের স্বর্ণে বিনিয়োগের চাহিদা কমে যাওয়া। বর্তমানে বিশ্বের অনেক দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক স্বর্ণ কেনা বন্ধ রাখায় বিনিয়োগকারীদের চাহিদা কিছুটা কমেছে। তিনি আরও বলেন, মধ্যপ্রাচ্য এখন স্থিতিশীল রয়েছে। ইরান-ইসরায়লে উত্তেজনা যদি না বাড়ে তাহলে দাম আরও কমতে পারে।








