কিশোরগঞ্জ

হাসি-খুশির ছোট্ট হুমায়রা আজ লাশ, শিয়ালের হিংস্রতা কাঁপিয়ে দিল গ্রাম

শিশু হুমায়রা হাসি-খুশি, গ্রামে শিয়ালের হিংস্রতা আতঙ্ক. Channel i News - চ্যানেল আই নিউজ

ছবি: প্রতিনিধি

অডিও সংবাদএই খবরটি পডকাস্টে শুনুন

কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার বৌলাই ইউনিয়নে শিয়ালের কামড়ে দুই বছর বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

সোমবার ১ ডিসেম্বর সন্ধ্যা ৭ টার পর উত্তর রাজকুন্তী পুঁথিপাড়া গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। নিহত শিশু হুমায়রা গাড়ী চালক হুমায়ুন কবিরের মেয়ে।

জানা গেছে, মায়ের কোলে বসে খেলতে খেলতে হুমায়রা তার বড় চাচা গোলাম মোস্তফার ঘরে যাওয়ার বায়না ধরে। এসময় মা তাকে চাচার ঘরে দিয়ে ফিরে আসেন। কিছুক্ষণ পর আবার মা’কে ডাকতে ডাকতে বের হয় ছোট্ট হুমায়রা। চাচার ঘর থেকে একা মায়ের কাছে ফিরতে ঘরের উঠোন অতিক্রম করতেই অন্ধকারে ওঁত পেতে থাকা এক শিয়াল ঝাঁপিয়ে পড়ে হুমায়রার ওপর। মুহূর্তেই শিশুটিকে গলায় কামড়ে টেনে নিয়ে যায় ঝোপের আড়ালে। প্রথমদিকে কেউ কিছু বুঝতে না পারলেও বেশ কিছু সময় পর হুমায়রা না ফেরায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন মা। এরপর চাচার ঘরে গিয়ে জানতে পারেন-হুমায়রা অনেক আগেই বের হয়ে গেছে। তখনই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে পুরো পরিবারে। শুরু হয় খোঁজাখুঁজি। অবশেষে ঘরের পেছনের ঝোপে মিলল ছোট্ট হুমায়রার ক্ষতবিক্ষত নিথর দেহ। শরীরে নখের আঁচড়, ক্ষত-বিক্ষত অঙ্গ।

এমন ঘটনা এর আগেও এলাকায় ঘটেছে। গত রমজানে ইফতারের পর আরাফ নামে আরেক শিশুকে উঠান থেকে টেনে নিয়ে গিয়েছিল শিয়াল। তারও লাশ মিলেছিল জঙ্গলে।

হুমায়রার চাচী সমলা আক্তার বলেন, এশার আযানের পর হুমায়রাকে তার চাচার ঘরে দিয়ে আসে তার মা। কিছুক্ষণ পর আবার মায়ের কাছে আসতে চেয়ে চোখের আড়ালে ঘর থেকে একা একা বের হয়ে আসে। আমরা কেউ বলতে পারিনা। অনেকক্ষণ পর হুমায়রার মা এসে মেয়েকে খুঁজতে শুরু করলে সবাই ঘর থেকে বের হই। পরে ঘরের পেছনে গিয়ে হুমায়রার ক্ষতবিক্ষত দেহ পড়ে থাকতে দেখি। পুরো শরীরে নখের আঁচড়, শরীরের বিভিন্ন অঙ্গে মাংস নাই, কামড়ের দাগ।

হুমায়রার বাবা হুমায়ুন কবির বলেন, আমি ব্যাটারী চালিত অটো রিক্সা চালিয়ে সংসার চালাই। এশার আযানের পর ফোন করে মেয়ের মৃত্যুর খবর জানানো হয়। আমার তিনটা ছেলে আর একটা মেয়ে ছিল।

কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, শিশু হুমায়রার এমন মৃত্যুর সংবাদ আমার জানা নেই। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখছি বলে জানান তিনি।

বিষয়:লাশ

আরও পড়ুন

পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…