অভিবাসন ও প্রত্যাখ্যাত আশ্রয়প্রার্থীদের ফেরত পাঠানোর বিষয় নিয়ে প্রথমবারের মতো আফগানিস্তানের তালেবান সরকারের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক বৈঠকে বসতে যাচ্ছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) ব্রাসেলসে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। বেলজিয়াম সরকার জানিয়েছে, নিরাপত্তা যাচাই শেষে তালেবান প্রতিনিধি দলের পাঁচ সদস্যকে এক দিনের জন্য বৈধ ভিসা দেওয়া হয়েছে, যাতে তারা আলোচনায় অংশ নিতে পারেন।
ইউরোপীয় কমিশন জানিয়েছে, আফগানিস্তান থেকে অনিয়মিত অভিবাসন এবং ইউরোপে আশ্রয় আবেদন প্রত্যাখ্যাত হওয়া আফগান নাগরিকদের দেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়টি বৈঠকের মূল আলোচ্যসূচি। তবে তালেবান প্রতিনিধি দলের সদস্যদের পরিচয় আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।
২০২১ সালের আগস্টে ক্ষমতায় ফেরার পর নারীদের শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও চলাচলের অধিকার সীমিত করাসহ বিভিন্ন মানবাধিকার ইস্যুতে আন্তর্জাতিক সমালোচনার মুখে রয়েছে তালেবান। এ কারণে ইউরোপের অনেক দেশ কাবুলে তাদের দূতাবাস কার্যক্রম স্থগিত বা সীমিত করেছে।
ইউরোপীয় কমিশনের মুখপাত্র মার্কাস ল্যামার্ট বলেন, সদস্য দেশগুলো বিশেষ করে গুরুতর অপরাধে জড়িত বা নিরাপত্তা ঝুঁকি হিসেবে বিবেচিত ব্যক্তিদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর কার্যকর উপায় খুঁজছে। এই লক্ষ্যেই তালেবান কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করা হচ্ছে।
তবে মানবাধিকার সংগঠনগুলো এ উদ্যোগ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বলেছে, তালেবানের সঙ্গে যেকোনো ধরনের যোগাযোগে মানবাধিকার সুরক্ষা ও জবাবদিহিতাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালও সতর্ক করে জানিয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে আফগানিস্তানে জোরপূর্বক ফেরত পাঠানো মানবিক নীতির পরিপন্থী হতে পারে।
অন্যদিকে ইউরোপীয় অভিবাসন কমিশনার ম্যাগনাস ব্রুনার বলেছেন, আফগান অভিবাসন ব্যবস্থাপনায় বাস্তব কারণে তালেবান কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ অপরিহার্য হয়ে উঠেছে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০১৩ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে প্রায় ১০ লাখ আফগান নাগরিক ইউরোপীয় ইউনিয়নে আশ্রয়ের আবেদন করেছেন। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অভিবাসন নীতি কঠোর হওয়ায় আশ্রয় গ্রহণের হার কমেছে।
এদিকে জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির তথ্য অনুযায়ী, আফগানিস্তানের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ মানুষ খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মতে, মানবাধিকার সংকট ও অর্থনৈতিক দুরবস্থার মধ্যে আফগানদের ফেরত পাঠানোর বিষয়টি ইইউর জন্য একটি জটিল নীতিগত চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।







