কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোর পদত্যাগের ঘোষণা দেশটির রাজনীতিতে নতুন মোড় নিয়ে এসেছে। মাসের পর মাস ধরে তাকে পদত্যাগের আহ্বান জানানো হচ্ছিল। অবশেষে, নিজের দলের ভেতরে বাড়তে থাকা চাপ ও জনগণের অসন্তোষের মুখে সোমবার (৬ জানুয়ারি) রিডো কটেজে সংবাদ সম্মেলনে তিনি পদত্যাগের ঘোষণা দেন। নয় বছরেরও বেশি সময় ক্ষমতায় থাকার পর, তিনি কানাডার সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ধরে দায়িত্ব পালনকারী প্রধানমন্ত্রীদের মধ্যে রয়েছেন।
বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রুডো বলেন, এই দেশ একটি বাস্তব বিকল্পের যোগ্য এবং যদি আমাকে অভ্যন্তরীণ লড়াই চালিয়ে যেতে হয় তবে আমি পরবর্তী নির্বাচনের জন্য সেরা বিকল্প হতে পারব না। তিনি আরও জানান, নতুন নেতা নির্বাচনের জন্য দলকে সময় দেওয়া হবে এবং মার্চের ২৪ তারিখ পর্যন্ত সংসদ স্থগিত থাকবে।
২০১৫ সালে তরুণ নেতৃত্ব এবং আশাবাদী বার্তার মাধ্যমে ট্রুডো ক্ষমতায় আসেন। তার নেতৃত্বে লিবারেল পার্টি তৃতীয় স্থান থেকে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে উঠে আসে। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ট্রুডো জনপ্রিয়তা হারাতে থাকেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক পল ওয়েলস বলেছেন, ট্রুডো গুরুত্বপূর্ণ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে স্মরণীয় থাকবেন, বিশেষ করে আদিবাসী পুনর্মিলন এবং জলবায়ু নীতিতে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য। তবে তিনি সময়ের পরিবর্তনের সাথে খাপ খাওয়াতে ব্যর্থ হয়েছেন।
ট্রুডো তার সাফল্যের মধ্যে কোভিড-১৯ মহামারির সফল মোকাবিলা, ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি পুনঃআলোচনা এবং শিশু ভাতার কার্যকর বাস্তবায়নের কথা উল্লেখ করেন। তবে নৈতিক কেলেঙ্কারির কারণে তার ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
২০১৯ সালের নির্বাচনে লিবারেল পার্টি সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারায় এবং ২০২১ সালের নির্বাচনে অবস্থার উন্নতি হয়নি। সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ, মূল্যস্ফীতি এবং অভিবাসন ইস্যুতে ট্রুডো কঠিন পরিস্থিতির মুখে পড়েন। গত বছর অভিবাসন নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে বাধ্য হন তিনি। এদিকে, তার বিরোধী নেতা পিয়েরে পোয়েলিয়েভ্রে বর্তমান জনমত জরিপে এগিয়ে আছেন।
লিবারেল পার্টির কৌশলবিদ অ্যান্ড্রু পেরেজ বলেছেন, ট্রুডোর ব্র্যান্ডই পার্টির সাফল্যের মূল কারণ ছিল, কিন্তু তা এখন ব্যর্থতার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সাবেক উপ-প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্টিয়া ফ্রিল্যান্ডের পদত্যাগের পর দলীয় সমর্থন আরও কমে যায়। সবশেষে, ট্রুডো তার বিদায়ের ঘোষণা দিয়ে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করলেন।








