মাঝে কিছু দিন দাম নিয়ন্ত্রণের মধ্যে থাকলেও আবারও বেড়েছে ডিমের দাম। ছাড়িয়েছে দেড়শ’ টাকা ডজন। খুচরা বাজারে এখন বিক্রি হচ্ছে ১৫৫ থেকে ১৬৫ টাকা পর্যন্ত। যদিও বাণিজ্য মন্ত্রণালয় প্রতি পিচ ডিমের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য নির্ধারণ করে দেয় ১২ টাকা। সে হিসেবে এক ডজন ডিমের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য হবার কথা ১৪৪ টাকা। রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে এ তথ্য পাওয়া গেছে।
সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) বাজার দরেও ডিমের এমন বাড়তি দাম পাওয়া গেছে। টিসিবি জানিয়েছে, প্রতি হালি ডিম বিক্রি হয়েছে ৫০ থেকে ৫৫ টাকায়। তাতে ডিমের দাম পড়ে ১৫০ থেকে ১৬৫ টাকা ডজন। এক সপ্তাহ আগেও বাজারে ডিমের হালি ৪৮ থেকে ৫০ টাকা ছিল।
ডিমের এমন বাড়তি দাম প্রসঙ্গে উৎপাদনকারী ও বিক্রেতারা জানিয়েছেন: ডিমের উৎপাদনে ঘাটতি তৈরির পাশাপাশি ভারি বৃষ্টির কারণে বাজারে ডিমের সরবরাহ কমছে।
এ নিয়ে এক বছরের কিছু বেশি সময়ের মধ্যে ডিমের ডজন তৃতীয়বারের মতো দেড়শ’ টাকা ছাড়াল। এক ডজন ডিমের দাম প্রথমবার দেড়শ’ টাকার ওপরে ওঠে গত বছরের আগস্টের শুরুতে।
রাজধানীর মোহাম্মদপুর টাউনহল, হাতিরপুল ও রামপুরা বাজার ঘুরে ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে: বাজারে ফার্মের মুরগির বাদামি রঙের ডিম বিক্রি হচ্ছে ডজন ১৫৫ থেকে ১৬০ টাকায়। তবে ১৫৫ টাকায় কিনতে হলে বড় বাজারে যেতে হচ্ছে। পাড়া-মহল্লার দোকানে বাদামি ডিম ১৬০ টাকার নিচে পাওয়া যাচ্ছে না। কোথাও কোথাও ১৬৫ টাকাও চাওয়া হচ্ছে। বাজারে সাদা রঙের ডিম পাওয়া যাচ্ছে ১৫০ টাকায়।
ঢাকায় ডিমের বড় দুটি পাইকারি বাজার কারওয়ান এবং কাপ্তান বাজারের ব্যবসায়ীরা বলছেন: পাইকারিতে ১০০ বাদামি ডিম বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ১৯০ থেকে ১ হাজার ১৯৫ টাকায়। অবশ্য সাদা রঙের ১০০ ডিম পাইকারিতে ২০ থেকে ২৫ টাকা কমে বিক্রি হয়েছে।
তেজগাঁওয় ডিম ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ আমানত উল্লাহ জানিয়েছেন: টানা বৃষ্টির কারণে চাহিদার তুলনায় পাইকারি বাজারে ডিম কম আসছে। সেই কারণে ডিমের দাম কিছুটা বেড়েছে। তার মতে, ডিমের দাম কমাতে হলে উৎপাদন বাড়াতে হবে অথবা ডিম দ্রুত আমদানি করে বাজারে নিয়ে আসতে হবে।
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ২০২২-২৩ অর্থবছরে দেশে ডিমের উৎপাদন ছিল ২ হাজার ৩৩৮ কোটি। আগের অর্থবছরে যার পরিমাণ ছিল ২ হাজার ৩৩৫ কোটি। দেশে উৎপাদিত এই ডিম দিয়েই চাহিদা মিটে যায়। এই ডিম খাওয়ার পাশাপাশি একটি বড় অংশ দিয়ে আবার বাচ্চাও ফোটানো হয়।
ডিমের দাম নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে গত ১৮ সেপ্টেম্বর বাণিজ্য মন্ত্রণালয় প্রথম ৪ কোটি ডিম আমদানির অনুমতি দেয়। এরপর দুই দফায় আরও ১১ কোটি ডিম আমদানির অনুমতি দেয়া হয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত ডিম আমদানি হয়নি।
ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রতিনিধিগণের সাথে মতবিনিময় সভায় ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান বলেছেন, বাজারে সিন্ডিকেটসহ যে কোনো অপতৎপরতা বন্ধে পুলিশ তৎপর রয়েছে।
তিনি বলেন: বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকার সবসময় আন্তরিক। প্রধানমন্ত্রী নিজেও প্রতিনিয়ত বাজারের খোঁজখবর নিয়ে থাকেন, কোথাও কোন সমস্যা হচ্ছে কী না খোঁজ নেন। বাজারে কেউ যেন কোন ধরণের অপতৎপরতা তৈরি করতে না পারে তা প্রতিরোধ করার উদ্দেশ্যে আজ আমরা সকলকে নিয়ে আলোচনায় বসেছি। যে কোনো সিন্ডিকেট ও যে কোনো অপতৎপরতা সমূলে নষ্ট করার জন্য ঢাকা মহানগর পুলিশ তৎপর আছে। যে কোনো সিন্ডিকেট ভেঙে দেওয়ার সক্ষমতা ঢাকা মহানগর পুলিশের রয়েছে।








