হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে বাড়তে থাকা সামরিক উত্তেজনা ও নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে মধ্যপ্রাচ্যের তেলনির্ভর দেশগুলো বিকল্প জ্বালানি পরিবহন ব্যবস্থার দিকে ঝুঁকছে। সমুদ্রপথের বদলে এখন পাইপলাইন, মহাসড়ক ও রেলপথভিত্তিক অবকাঠামো গড়ে তোলার উদ্যোগ জোরদার করেছে উপসাগরীয় দেশগুলো।
রোববার (১৭ মে) মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য ন্যাশনালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের চলমান সংঘাতের প্রভাবে কৌশলগত হরমুজ প্রণালিতে তেল ও গ্যাস পরিবহন ক্রমেই অনিশ্চিত হয়ে উঠেছে। ড্রোন হামলা, ক্ষেপণাস্ত্রের হুমকি, সমুদ্রে মাইন বিস্ফোরণের আশঙ্কা এবং জাহাজের বিমা ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল এখন অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।
বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেলের প্রায় ২০ শতাংশ এতদিন হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই নির্ভরতা কমানোর চেষ্টা চলছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি অ্যাডনক ওমান উপসাগরঘেঁষা ফুজাইরাহ বন্দর পর্যন্ত তাদের বিদ্যমান পাইপলাইন সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে হরমুজ প্রণালি ব্যবহার ছাড়াই দেশটি দৈনিক ৩০ থেকে ৩৪ লাখ ব্যারেল তেল রপ্তানি করতে পারবে।
একইভাবে সৌদি আরবও পূর্বাঞ্চলীয় তেলক্ষেত্র থেকে লোহিত সাগর পর্যন্ত বিস্তৃত পূর্ব-পশ্চিম পাইপলাইন ব্যবহার করে বিকল্প রপ্তানি ব্যবস্থা সচল রেখেছে। এই পদক্ষেপ দেখে কুয়েত, কাতার, বাহরাইন ও ইরাকও নতুন বিকল্প রুট তৈরির পরিকল্পনা করছে। শুধু জ্বালানি নয়, উপসাগরীয় অঞ্চলের সামগ্রিক অর্থনীতিও দীর্ঘদিন ধরে সমুদ্রপথনির্ভর ছিল। তেল শোধনাগার, এলএনজি, পেট্রোকেমিক্যাল, সার ও অ্যালুমিনিয়াম শিল্পের কাঁচামাল আমদানি এবং পণ্য রপ্তানির প্রধান মাধ্যম ছিল সমুদ্রবন্দরগুলো।
তবে বর্তমান সংকটে সৌদি আরবের লোহিত সাগর উপকূলীয় বন্দর ও আমিরাতের ভারত মহাসাগরমুখী বন্দরগুলো নতুন গুরুত্ব পাচ্ছে। পাশাপাশি আঞ্চলিক রেলপথ প্রকল্পেও গতি এসেছে। যুদ্ধের আগে শারজাহর খোরফাক্কান বন্দরে সপ্তাহে প্রায় দুই হাজার কনটেইনার খালাস হলেও বর্তমানে তা বেড়ে প্রায় ৫০ হাজারে পৌঁছেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।এদিকে ইরানও দীর্ঘদিন ধরে হরমুজের বাইরে ওমান উপসাগরের জাস্ক বন্দরে বিকল্প পাইপলাইন অবকাঠামো গড়ে তোলার চেষ্টা করছে।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার কারণে প্রকল্পটি এখনও আন্তর্জাতিক বাজারে কার্যকর বিকল্প হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে পারেনি।বর্তমানে তেহরান হরমুজ প্রণালিতে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ আরও জোরদার করতে চাইলেও, এতে আরব দেশগুলো আরও দ্রুত বিকল্প স্থলপথ ব্যবস্থার দিকে ঝুঁকবে।







