রিজিক নিয়ে মানুষের চিন্তার শেষ নেই। জীবনের প্রয়োজন মেটাতে হালাল উপার্জনের চেষ্টা যেমন জরুরি, তেমনি আল্লাহ তাআলার ওপর ভরসা রেখে তার কাছে দোয়া করাও মুমিনের গুরুত্বপূর্ণ আমল। ইসলামের দৃষ্টিতে রিজিকের প্রকৃত মালিক আল্লাহ। তিনি যাকে ইচ্ছা রিজিক দান করেন এবং তার বান্দার জন্য যে কল্যাণকর, সেটিই নির্ধারণ করেন। আল্লাহ তাআলার ৯৯টি নামের প্রতিটিরই রয়েছে অসংখ্য গুণ ও ফজিলত। তবে রিজিকের বরকতের জন্য এই তিনটি নাম বিশেষভাবে স্মরণ করে দোয়া করা যেতে পারে।
মনে রাখতে হবে, রিজিক মানে শুধু টাকা-পয়সা বা সম্পদ নয়। সুস্থ শরীরে বেঁচে থাকা, শান্তিতে থাকা, পরিবার-পরিজনের ভালো থাকা, সময়ের বরকত, মানসিক প্রশান্তি এবং জীবনের প্রতিটি কল্যাণও আল্লাহ তাআলার দেওয়া রিজিকের অন্তর্ভুক্ত।
আল্লাহ তাআলা বলেছেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহই রিজিকদাতা, শক্তির অধিকারী, পরাক্রমশালী।’
—সূরা আয-যারিয়াত, আয়াত ৫৮
আল্লাহর সুন্দর নামগুলো দিয়ে তাঁর কাছে দোয়া করা কোরআনের নির্দেশিত একটি পদ্ধতি। রিজিক, দান ও কল্যাণের প্রার্থনায় অর্থের দিক থেকে বিশেষভাবে প্রাসঙ্গিক তিনটি নাম হলো আর-রাযযাক, আল-ফাত্তাহ ও আল-ওয়াহহাব।
আর-রাযযাক—পরম রিজিকদাতা
الرَّزَّاقُ | আর-রাযযাক
‘আর-রাযযাক’ অর্থ পরম রিজিকদাতা। আল্লাহ তাআলা তার সব সৃষ্টির রিজিকের ব্যবস্থা করেন। কোরআনে তার এই গুণের কথা স্পষ্টভাবে এসেছে।
তাই হালাল ও প্রশস্ত রিজিকের জন্য দোয়া করার সময় আল্লাহর এই নাম ধরে প্রার্থনা করা যেতে পারে।
আল-ফাত্তাহ—উন্মুক্তকারী ও ফয়সালাকারী
الْفَتَّاحُ | আল-ফাত্তাহ
‘আল-ফাত্তাহ’ অর্থ উন্মুক্তকারী ও ফয়সালাকারী। জীবনের নানা সংকট, বাধা ও অনিশ্চয়তার সময়ে আল্লাহর কাছে সাহায্য চেয়ে তার এই নাম ধরে দোয়া করা যেতে পারে।
কোরআনে এসেছে, ‘আর তিনিই শ্রেষ্ঠ ফয়সালাকারী, সর্বজ্ঞ।’
—সূরা সাবা, আয়াত ২৬
আল-ওয়াহহাব—মহাদাতা
الْوَهَّابُ | আল-ওয়াহহাব
‘আল-ওয়াহহাব’ অর্থ মহাদাতা—যিনি অনুগ্রহ করে দান করেন। হজরত সুলাইমান (আ.) তার দোয়ায় আল্লাহকে ‘আল-ওয়াহহাব’ বা মহাদাতা হিসেবে সম্বোধন করেছিলেন।
কোরআনে তার দোয়া এসেছে, ‘হে আমার রব, আমাকে ক্ষমা করুন এবং আমাকে এমন রাজত্ব দান করুন, যা আমার পরে আর কারও জন্য উপযুক্ত হবে না। নিশ্চয়ই আপনি মহাদাতা।’
—সূরা সাদ, আয়াত ৩৫
কীভাবে দোয়া করবেন?
আল্লাহর এই নামগুলো স্মরণ করে নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী দোয়া করা যায়। যেমন—
‘হে আল্লাহ, আপনি আর-রাযযাক—পরম রিজিকদাতা। আপনি আল-ফাত্তাহ—উন্মুক্তকারী। আপনি আল-ওয়াহহাব—মহাদাতা। আমাকে হালাল ও বরকতময় রিজিক দান করুন। আমার উপার্জনের পথ সহজ করে দিন, আমার রিজিকে বরকত দিন এবং আপনার দেওয়া নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় করার তাওফিক দিন।’
তবে একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি ‘আর-রাযযাক, ‘আল-ফাত্তাহ বা ‘আল-ওয়াহহাব’ নির্দিষ্ট সংখ্যায় পাঠ করলে নিশ্চিতভাবে রিজিক বৃদ্ধি পাবে এমন সহিহ হাদিস নেই। তাই এগুলোকে নির্দিষ্ট সংখ্যা বা নিশ্চিত ফলাফলের আমল হিসেবে প্রচার না করে আল্লাহর সুন্দর নাম ধরে দোয়া করা উত্তম।
রিজিকের জন্য দোয়ার পাশাপাশি হালাল পথে পরিশ্রম, আল্লাহর ওপর ভরসা, তাকওয়া ও কৃতজ্ঞতাও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ একজন মুমিনের জন্য প্রকৃত সফলতা শুধু বেশি সম্পদ অর্জন নয়; বরং হালাল রিজিক, তাতে বরকত এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন।








