থ্যাংক ইউ হোম মিনিস্টার

৩৩ হাজার ৮৫১টি পূজামণ্ডপ। সরকারি অনুদান পাঁচ কোটি টাকা। দুর্গাপূজার সরকারি ছুটি তিন দিন। সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে টানা পাঁচ দিনের অবকাশ।
উৎসবের পরিসর বেড়েছে। রাষ্ট্রীয় আয়োজন বিস্তৃত হয়েছে। মানুষের অংশগ্রহণের সুযোগও বেড়েছে। কিন্তু এই বৃহৎ আয়োজনের সামনে একটি প্রশ্ন ছিল। নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে কীভাবে?
প্রশ্নটি নিছক প্রশাসনিক ছিল না। এর সঙ্গে জড়িয়ে ছিল ধর্মীয় স্বাধীনতা, নাগরিকের আস্থা এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির প্রশ্ন। একটি পূজামণ্ডপে অস্থিরতা তৈরি হলে তার অভিঘাত কখনো কখনো বহু দূর পর্যন্ত পৌঁছে যায়। একটি গুজব মুহূর্তে ছড়িয়ে পড়তে পারে। একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা বড় সংকটের জন্ম দিতে পারে। অতএব, দুর্গাপূজার আয়োজন যত বিস্তৃত হয়েছে, নিরাপত্তার দায়িত্বও ততটা চ্যালেঞ্জ হয়ে এসেছে এবার। উৎসবের মহিমা রক্ষা করে তার নিরাপত্তাও নিশ্চিত করতে হয়েছে।
এই কঠিন সমীকরণের মুখোমুখি ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। এবারের আয়োজনের তাৎপর্য এখানেই। সরকার শুধু উৎসবের ব্যাপ্তি বাড়ানোর কথা বলেনি। নিরাপত্তা পরিকল্পনা, প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি এবং প্রশাসনিক সমন্বয়ের ওপরও গুরুত্ব দিয়েছে। সরকারি সহায়তা বাড়িয়েছে। ছুটি সম্প্রসারণ করেছে।
এসব সিদ্ধান্তের মধ্যে একটি স্পষ্ট প্রশাসনিক বার্তা রয়েছে। ধর্মীয় উৎসবের মর্যাদা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি গুরুত্বপূর্ণ সেই উৎসব নির্বিঘ্নে উদ্যাপনের পরিবেশ নিশ্চিত করা। সালাহউদ্দিন আহমদের ভূমিকার মূল্যায়ন শুরু হোক এই জায়গা থেকে। বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ইতিহাসে ২০২১ সালের দুর্গাপূজা একটি গভীর ক্ষত।
কুমিল্লায় একটি পূজামণ্ডপকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট উত্তেজনা দ্রুত দেশের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়ে। মন্দির আক্রান্ত হয়। পূজামণ্ডপে হামলা হয়। মানুষের প্রাণ যায়। হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িঘর ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানেও হামলার ঘটনা ঘটে।
হিউম্যান রাইটস ওয়াচের ২১ অক্টোবর ২০২১-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই সহিংসতায় অন্তত ৭১টি মামলা করা হয়েছিল। ৪৫০ জনকে গ্রেপ্তারের তথ্যও প্রকাশিত হয়। ঘটনাগুলো ঘটেছিল আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে।
এই ইতিহাস স্মরণ করার কারণ রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে আক্রমণ করা নয়। কারণটি আরও গভীর। রাষ্ট্রকে বুঝতে হবে, সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা কখনো শূন্য থেকে তৈরি হয় না। গুজব, উসকানি, দুর্বল প্রতিক্রিয়া এবং সমন্বয়ের ঘাটতি পরিস্থিতিকে বিপজ্জনক করে তুলতে পারে।
২০২১ সালের অভিজ্ঞতা তাই একটি কঠিন প্রশ্ন রেখে গেছে। রাষ্ট্র কি সম্ভাব্য সংকটের আগেই প্রস্তুত থাকতে পারে?
২০২৪ সালে পূজাকে কেন্দ্র করে ৩৫টি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার কথা জানিয়েছিল পুলিশ। এসব ঘটনায় ১১টি মামলা ও ২৪টি সাধারণ ডায়েরি করা হয়। গ্রেপ্তার করা হয়েছিল ১৭ জনকে।
২০২৫ সালে পুলিশের হিসাবে ৪৯টি ঘটনার বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। ১৫টি মামলা হয়। গ্রেপ্তার করা হয় ১৯ জনকে। একই সময়ে ‘শারদীয় সুরক্ষা’ অ্যাপে ১৩২টি অভিযোগ বা ঘটনার তথ্য জমা পড়ে।
এই সংখ্যাগুলোকে সরল অঙ্কে নামিয়ে আনা যাবে না। অভিযোগ আর যাচাইকৃত ঘটনা এক নয়। মামলা আর ঘটনার সংখ্যাও এক নয়। তাই শুধু এই পরিসংখ্যান দিয়ে নিরাপত্তার উন্নতি বা অবনতি ঘোষণা করা অনুচিত।
কিন্তু ইতিহাসের শিক্ষা স্পষ্ট। দুর্গাপূজার নিরাপত্তা বাংলাদেশের জন্য একটি দীর্ঘমেয়াদি রাষ্ট্রীয় চ্যালেঞ্জ। এর মোকাবিলায় প্রয়োজন আগাম প্রস্তুতি, দ্রুত তথ্য যাচাই এবং কার্যকর প্রশাসনিক সমন্বয়। ২০২৬ সালের দূর্গা পূজোর নিরাপত্তা উদ্যোগকে এই প্রেক্ষাপটেই দেখতে হবে।
সালাহউদ্দিন আহমদ: স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যেখানে সফল
এবার ৩৩ হাজার ৮৫১টি পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজার আয়োজন করা হয়েছে বলে সরকারি সংবাদমাধ্যমে জানানো হয়েছে। গত বছরের তুলনায় মণ্ডপের সংখ্যা বেড়েছে প্রায় দেড় হাজার। এই বৃদ্ধির অর্থ শুধু আরও বেশি পূজামণ্ডপ নয়। এর অর্থ আরও বেশি স্থানে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব। আরও বেশি স্থানীয় সমন্বয়। আরও বিস্তৃত নজরদারি। আরও দ্রুত প্রতিক্রিয়ার প্রয়োজন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের নেতৃত্বাধীন মন্ত্রণালয় এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে নিরাপত্তা পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর বাসস প্রতিবেদনে জাতীয়, বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে দায়িত্ব বণ্টনের কথা জানানো হয়। পুলিশ সদর দপ্তর এবং বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ে ২৪ ঘণ্টার মনিটরিং সেল চালু রাখার পরিকল্পনার কথাও প্রকাশিত হয়।
এখানে মূল বিষয়টি হলো সমন্বয়। হাজার হাজার পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা বিচ্ছিন্ন উদ্যোগ দিয়ে নিশ্চিত করা যায় না। প্রয়োজন একটি সমন্বিত কাঠামো। কেন্দ্রীয় নির্দেশনা ও স্থানীয় বাস্তবায়নের মধ্যে কার্যকর সংযোগ। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রশাসনিক নেতৃত্বের তাৎপর্য এখানেই।
তিনি সংশ্লিষ্ট বাহিনী ও প্রশাসনিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে একটি অভিন্ন লক্ষ্যে পরিচালিত করার দায়িত্বে রয়েছেন। তাঁর মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনায় সেই সমন্বয়কে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এটি ছোট কোনো বিষয় নয়। রাষ্ট্রের সক্ষমতা অনেক সময় নির্ভর করে প্রতিষ্ঠানগুলো কতটা সমন্বিতভাবে কাজ করতে পারে, তার ওপর।
প্রযুক্তি যখন নিরাপত্তার অংশ
এবারের নিরাপত্তা পরিকল্পনায় প্রযুক্তির ব্যবহারও গুরুত্ব পেয়েছে। সিসিটিভি নজরদারি, ড্রোন ও হেলিকপ্টারের মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ এবং বিশেষায়িত নিরাপত্তা ইউনিটের প্রস্তুতির কথা প্রকাশিত হয়েছে। এখানে একটি পরিবর্তিত নিরাপত্তা-দৃষ্টিভঙ্গি লক্ষ করা যায়। শুধু ঘটনা ঘটার পর ব্যবস্থা নেওয়া নয়। সম্ভাব্য ঝুঁকি আগে শনাক্ত করার চেষ্টা। তথ্য দ্রুত পৌঁছে দেওয়া। প্রতিক্রিয়ার সময় কমিয়ে আনা।
‘শারদীয় সুরক্ষা’ অ্যাপও এই ব্যবস্থার অংশ। এর মাধ্যমে অভিযোগ ও ঘটনার তথ্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত পৌঁছানোর সুযোগ তৈরি হয়।
অবশ্য প্রযুক্তি নিজে নিরাপত্তা নিশ্চিত করে না। তথ্য যাচাই করতে হয়। দায়িত্ব নির্ধারণ করতে হয়। সময়মতো ব্যবস্থা নিতে হয়। কিন্তু এত বড় আয়োজনের নিরাপত্তায় প্রযুক্তিকে গুরুত্ব দেওয়া যুক্তিসংগত। সালাহউদ্দিন আহমদের নেতৃত্বাধীন মন্ত্রণালয় এই দিকটিকে পরিকল্পনার অংশ করেছে। সমস্ত উদবিগ্নতা, ভয়ের বিপরীতে এটা আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর জয় বলা যেতে পারে।
পাঁচ দিনের অবকাশ, পাঁচ কোটি টাকার অনুদান
এবারের দুর্গাপূজার সরকারি ছুটি তিন দিন করা হয়েছে। সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে সরকারি কর্মচারীরা টানা পাঁচ দিনের অবকাশ পেয়েছেন। সরকারি অনুদান চার কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে পাঁচ কোটি টাকা করা হয়েছে বলেও প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। এই সিদ্ধান্তগুলোকে বিচ্ছিন্নভাবে দেখা উচিত নয়। উৎসবের নিরাপত্তা, আর্থিক সহায়তা এবং অংশগ্রহণের সুযোগ—তিনটি বিষয়ই বৃহত্তর উৎসব ব্যবস্থাপনার অংশ।
ছুটি বাড়লে মানুষের অংশগ্রহণের সুযোগ বাড়ে। সরকারি সহায়তা বাড়লে আয়োজকদের আর্থিক চাপ কিছুটা কমতে পারে। তবে বরাদ্দের সুষ্ঠু বণ্টন ও কার্যকর ব্যবহারও নিশ্চিত করতে হবে। এখানে সরকারের সিদ্ধান্তের সামাজিক তাৎপর্য রয়েছে। ধর্মীয় উৎসবের পরিসর ও মর্যাদাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিনের প্রত্যাশার প্রতিও সাড়া দেওয়া হয়েছে।
এই উদ্যোগগুলোর সঙ্গে নিরাপত্তা পরিকল্পনাকে একসঙ্গে দেখলে এবারের আয়োজনের ব্যাপ্তি আরও স্পষ্ট হয়। উৎসব বড় হয়েছে। সরকারি সহায়তা বেড়েছে। ছুটি বেড়েছে। আর সেই আয়োজনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনিক প্রস্তুতিকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
নেতৃত্বের মূল্যায়ন হোক বাস্তবতার ভিত্তিতে
একটি বড় উৎসব সফলভাবে পরিচালনা করা কোনো একক বাহিনীর কাজ নয়। পুলিশ, আনসার, র্যাব, বিজিবি, কোস্ট গার্ড, গোয়েন্দা সংস্থা, স্থানীয় প্রশাসন এবং পূজামণ্ডপের আয়োজকদের ভূমিকা এখানে অপরিহার্য। তবে এই সম্মিলিত ব্যবস্থাকে সমন্বিতভাবে পরিচালনা করার দায়িত্বও রয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সেই দায়িত্বের কেন্দ্রীয় পর্যায়ে রয়েছেন।
তাই সালাহউদ্দিন আহমদের ভূমিকা মূল্যায়নের যথেষ্ট কারণ আছে। তাঁর নেতৃত্বাধীন মন্ত্রণালয় নিরাপত্তা পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারিকে গুরুত্ব দিয়েছে। বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্ব বণ্টন করেছে। সরকারি সহায়তা ও ছুটি সম্প্রসারণের সিদ্ধান্তও বাস্তবায়নের পথে নিয়েছে। এসব পদক্ষেপ প্রশাসনিক উদ্যোগের প্রমাণ।
তবে পূজা-পরবর্তী পূর্ণাঙ্গ পুলিশি হিসাব ছাড়া এবারের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আগের বছরগুলোর তুলনায় নিশ্চিতভাবে উন্নত বলা যাবে না। প্রকৃত সাফল্যের জন্য যাচাইকৃত ঘটনা, পুলিশের প্রতিক্রিয়ার সময় এবং তদন্তের অগ্রগতির তথ্য প্রয়োজন। এই সতর্কতা নেতৃত্বের মূল্যায়নকে দুর্বল করে না। বরং তাকে তথ্যের ভিত্তিতে দাঁড় করায়। একজন মন্ত্রীর সাফল্য শুধু ঘোষণায় নয়। তাঁর নেতৃত্বে গৃহীত সিদ্ধান্ত কতটা বাস্তবায়িত হয়েছে, তার মধ্যেও নিহিত।
রাজনৈতিক ন্যায্যতার পরীক্ষা
বাংলাদেশের রাজনীতিতে প্রশংসা ও সমালোচনা প্রায়ই দলীয় পরিচয়ের কাছে আটকে যায়। বিরোধী পক্ষ ইতিবাচক উদ্যোগের স্বীকৃতি দিতে চায় না। ক্ষমতাসীন পক্ষ সমালোচনাকে গুরুত্ব দিতে চায় না। এই সংস্কৃতি বদলানো দরকার। একটি নির্দিষ্ট উদ্যোগকে স্বীকৃতি দেওয়া মানে সরকারের সব কাজকে সমর্থন করা নয়। আবার সরকারের সমালোচনা করা মানে তার প্রতিটি সিদ্ধান্তকে অস্বীকার করাও নয়।
সালাহউদ্দিন আহমদের ক্ষেত্রেও এই পার্থক্য জরুরি। দুর্গাপূজার নিরাপত্তা কোনো দলের একক বিষয় নয়। এটি নাগরিকের অধিকার। রাষ্ট্রের দায়িত্ব। প্রশাসনের পরীক্ষা। এই দায়িত্ব পালনে গৃহীত ইতিবাচক উদ্যোগের স্বীকৃতি দেওয়া রাজনৈতিক পক্ষপাত নয়। বরং এটি ন্যায্য মূল্যায়নের অংশ।
একজন হিন্দু নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের অনুগ্রহ নয়। এটি তাঁর অধিকার। সেই অধিকার রক্ষায় প্রশাসনিক প্রস্তুতি, সমন্বয় এবং দ্রুত প্রতিক্রিয়া অপরিহার্য। এবারের দুর্গাপূজাকে ঘিরে সালাহউদ্দিন আহমদের নেতৃত্বাধীন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই দায়িত্ব পালনের জন্য একটি বিস্তৃত নিরাপত্তা পরিকল্পনা সামনে এনেছে। প্রযুক্তির ব্যবহার, আন্তঃসংস্থা সমন্বয়, মনিটরিং এবং সরকারি সহায়তার উদ্যোগ তার অংশ। এসব উদ্যোগের পূর্ণাঙ্গ ফলাফল যাচাই করা প্রয়োজন। কিন্তু উদ্যোগগুলোর ইতিবাচক দিক স্বীকার করতেও দ্বিধা থাকা উচিত নয়।
সালাহউদ্দিন আহমদের সব সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত হতে হবে, এমন কোনো কথা নেই। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকবে। সমালোচনাও থাকবে। কিন্তু জনস্বার্থে গৃহীত একটি ইতিবাচক উদ্যোগকে স্বীকৃতি দিতে রাজনৈতিক আনুগত্যের প্রয়োজন হয় না। প্রয়োজন তথ্যের প্রতি শ্রদ্ধা। প্রয়োজন ন্যায্যতা। প্রয়োজন দায়িত্বশীল রাজনৈতিক সংস্কৃতি।
থ্যাংক ইউ, হোম মিনিস্টার!
এই ধন্যবাদ নিঃশর্ত রাজনৈতিক সমর্থন নয়। এটি একটি জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট দায়িত্ব পালনের উদ্যোগের স্বীকৃতি। একই সঙ্গে এটি একটি প্রত্যাশা—আগামী দিনেও রাষ্ট্রের প্রতিটি নাগরিকের ধর্মীয় স্বাধীনতা, নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষায় একই গুরুত্ব বজায় থাকবে। কারণ, উৎসবের মহিমা রক্ষা করা মানে শুধু উৎসবকে বড় করা নয়। সেই উৎসবে অংশ নেওয়া প্রতিটি মানুষের নিরাপত্তাও নিশ্চিত করা। আর সেই দায়িত্ব পালনের নেতৃত্ব যাঁরা দেন, তাঁদের ভূমিকা মূল্যায়নের সময় রাজনৈতিক পক্ষপাত নয়, তথ্য ও ন্যায্যতাই হওয়া উচিত।
(এই বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। চ্যানেল আই অনলাইন এবং চ্যানেল আই–এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)





