অব্যাহত ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে কক্সবাজারের সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হওয়ায় জেলার বিভিন্ন উপজেলার অন্তত দেড় লাখ মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। এদিকে বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের প্রভাবে সাগর উত্তাল।
জেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্র জানায়, টানা কয়েক দিনের ভারী বৃষ্টি এবং পাহাড়ি ঢলে চকরিয়া, পেকুয়া, রামু ও মাতামুহুরী উপজেলার বন্যা পরিস্থিতি ক্রমেই অবনতির দিকে যাচ্ছে। এসব উপজেলার অন্তত ১০০টি গ্রামের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।সাগর উত্তাল থাকায় চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে পেকুয়া উপজেলার মেহেরনামা এলাকা। সেখানে মাতামুহুরী নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ভেঙে নদীর পানি লোকালয়ে ঢুকে পড়ায় কয়েকটি গ্রাম সম্পূর্ণ জলমগ্ন হয়ে গেছে। বর্তমানে মাতামুহুরী নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পাহাড়ি ঢল ও বন্যার পানিতে চকরিয়া উপজেলার কাকারা, কৈয়ারবিল, লক্ষারচর ও ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়ন, মাতামুহুরী উপজেলার পূর্ব বড় ভেওলা ও বিএমচর ইউনিয়ন এবং পেকুয়া উপজেলার সদর, পৌরসভা, মেহেরনামা ও শীলখালী ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা তলিয়ে গেছে।
অন্যদিকে রামু উপজেলার গর্জনিয়া, কচ্ছপিয়া ও রাজারকুল ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামেও জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। বাকখালী নদীর পানিও বিপৎসীমার কাছাকাছি দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে, যা পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে।বন্যাকবলিত এলাকার বাসিন্দারা জানান, পানিবন্দি হয়ে তারা চরম দুর্ভোগে রয়েছেন। অনেক এলাকায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী সংগ্রহ করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।
এদিকে টানা বর্ষণে পাহাড় ধসের ঝুঁকিও বেড়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর আজও ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়ায় দুর্যোগপ্রবণ এলাকায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং করে সতর্কতা জারি করা হয়েছে এবং ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ে বসবাসকারীদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে। জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, গত এক সপ্তাহে কক্সবাজারে পাহাড় ধসের ঘটনায় রোহিঙ্গা নারী ও শিশুসহ ২২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া বন্যার পানিতে ডুবে তিন শিশুরও মৃত্যু হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনার প্রস্তুতি রাখা হয়েছে।







