স্কিম ‘প্রত্যয়’ বাতিলের দাবিতে বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনের আহ্বানে সাড়া দিয়ে কর্মবিরতি পালন করে আসছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) শিক্ষকরা। এতোদিন আন্দোলন চললেও ক্লাস-পরীক্ষা সচল ছিল, কিন্তু দাবি না মেনে নিলে পহেলা জুলাই থেকে কর্মবিরতির পূর্বনির্ধারিত নোটিশের ফলে আসন্ন পরীক্ষাগুলো নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে ইবি শিক্ষার্থীদের মাঝে।
পহেলা জুলাই থেকে আসলে কী হবে, সেবিষয়ে স্পষ্টভাবে জানেন না কিছুই ইবির শিক্ষার্থীরা। নির্ধারিত পরিক্ষাগুলো হবে কি হবে না এ নিয়ে একপ্রকার ধোঁয়াশা কাজ করছে শিক্ষার্থীদের মাঝে। এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাববিজ্ঞান ও তথ্য পদ্ধতি বিভাগ, ফার্মেসি বিভাগসহ বেশ কিছু বিভাগে সেমিস্টার ফাইনাল পরিক্ষার তারিখ রয়েছে এসময়ের মাঝে।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, আগামী ১ জুলাই বা এর পরবর্তী কাছাকাছি সময়ে থাকা পরীক্ষা নিয়ে কিছুটা উদ্বিগ্ন তারা। ঈদের ছুটি কাটিয়ে আবার ক্যাম্পাসে ফিরে আসা নিয়েও দোটানায় ভুগছেন বলে জানিয়েছেন কেউ কেউ। বিভাগ থেকেও পরীক্ষা হবে কি না সে বিষয়ে স্পষ্ট করে কিছু জানানো হচ্ছে না।
এবিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মামুনুর রহমান বলেন, ফেডারেশনের সিদ্ধান্ত মোতাবেক আমরা আগামী ১ তারিখ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল সকল কার্যক্রম থেকে সরে আসারা সিদ্ধান্ত নিয়েছি। সে অনুযায়ী ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ থাকার কথা আছে। তবে চলমান বিষয়টি নিয়ে কাঙ্ক্ষিত সমাধান পেয়ে গেলে আমাদের সিদ্ধান্তে পরিবর্তন আসতে পারে। তাই ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধের বিষয়টি শতভাগ নিশ্চয়তা দিয়ে বলা যাচ্ছে না।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মো: আনোয়ার হোসেন বলেন, দাবি মানা না হলে দাপ্তরিক কার্যক্রম বন্ধ থাকবে সেটা ফেডারেশনের প্রজ্ঞাপনেই বলা আছে। তখন বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।
পহেলা জুলাই থেকে পূর্বনির্ধারিত পরীক্ষা সমূহের বিষয়ে তিনি বলেন, আমাদের ১ তারিখ থেকে চলমান সকল পরীক্ষাও স্থগিত থাকাবে প্রজ্ঞাপনে এমনটা বলা আছে। বিষয়টি বিভাগের চেয়ারম্যান শিক্ষার্থীদের নোটিশের মাধ্যমে জানিয়ে দিবেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ আবদুস সালাম বলেন, পরীক্ষা নেয়ার বিষয়ে যারা আন্দোলনে আছেন তারাই ভালো বলতে পারবেন। বিভাগের শিক্ষকরা বিভাগের পরীক্ষার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। তবে আমি চাইবো যেনো দ্রুত এর একটা সমাধান হয়ে যায়।
শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগের বিষয়ে জানতে চাইলে বলেন, এধরণের আন্দোলন বা কর্মসূচি চলমান থাকলে অবশ্যই সাময়িকভাবে শিক্ষার্থীদের সমস্যা হতে পারে৷ তবে শিক্ষকরা চাইলে আবার সেই ক্ষতিটুকু পুষিয়ে নিতে পারবেন। আমার শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান থাকবে যখন বিষয়টি সমাধান হয়ে যাবে তারা যেনো এই বিষয়ে নজর দিয়ে শিক্ষার্থীদের এগিয়ে নিতে সহায়তা করে।
ফেডারেশন সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের ১৩ মার্চ অর্থ মন্ত্রণালয় জারিকৃত পেনশন সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন বাতিলের দাবি জানিয়ে ৪ জুন মঙ্গলবার সকল পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্ধদিবস কর্মবিরতি পালন করে। কর্মবিরতিতে তারা পেনশন সংক্রান্ত বৈষম্যমূলক প্রজ্ঞাপন প্রত্যাহার, সুপার গ্রেডে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের অন্তর্ভুক্তি এবং শিক্ষকদের জন্য স্বতন্ত্র বেতনস্কেল প্রবর্তনের দাবি জানান। সেখানে তারা ২৪ জুন ২০২৪ তারিখের মধ্যে জারিকৃত প্রজ্ঞাপন প্রত্যাহার না হলে (২৫-২৭) জুন ২০২৪ পর্যন্ত অর্ধদিবস কর্মবিরতি এবং ৩০ জুন পূর্ণদিবস কর্মবিরতি পালনের কথা বলেন। তবে এসময়ে পরীক্ষাসমূহ কর্মবিরতির আওতামুক্ত থাকবে বলে উল্লেখ্য করা হয়। তবে এসময়ের মধ্যে দাবি আদায় না হলে পহেলা জুলাই ২০২৪ তারিখ থেকে দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়সমূহে সর্বাত্মক কর্মবিরতি পালন করে হবে বলে জানায় ফেডারেশন।







