সিলেট থেকে: সবশেষ ২০২৩ সালে জাতীয় দলের জার্সিতে দেখা মিলেছিল তামিম ইকবালের। এরপর আর লাল সবুজের জার্সিতে দেখা যায়নি টাইগার এই ওপেনারকে। শুক্রবার রাতে আনুষ্ঠানিকভাবে নিজের অবসরের কথা জানিয়ে দিয়েছেন তামিম। দেশসেরা ওপেনারের বিদায় নিয়ে কথা বলেছেন তামিমের সাবেক দুই সতীর্থ মোহাম্মদ আশরাফুল ও ইমরুল কায়েস। আশরাফুলের মতে জাতীয় লিগে তামিমকে দেখতে চান আরও কয়েকবছর। আর ইমরুল বলেছেন তামিম চাইলেই খেলতে পারতেন আরও ২-৩ বছর।
বিপিএলের চলতি আসরে খুলনা টাইগার্সের হয়ে খেলছেন ইমরুল কায়েস। আর রংপুরের ব্যাটিং কোচের দায়িত্ব পালন করছেন মোহাম্মদ আশরাফুল। শুক্রবার সিলেটে জাতীয় দলের সাবেক দুই ক্রিকেটার তামিমকে নিয়ে সংবাদমাধ্যমে কথা বলেন। সেখানে নিজেদের অভিব্যক্তি জানান।
তামিমের অবসর নিয়ে খানিক আক্ষেপের সুরে কথা বলেছেন মোহাম্মদ আশরাফুল। তামিম আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরার বিষয়ে আশা ছিল তার। বলেছেন, ‘২০২৩ বিশ্বকাপের পর থেকেই তো সে বাংলাদেশ দলে খেলছে না। ২০০৬ সাল থেকে লম্বা একটা ক্যারিয়ার ছিল তার। বাংলাদেশি ব্যাটার টপ অর্ডারে ব্যাটিং করে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ১৫-১৬ হাজার রান করেছে, বড় অর্জন। বাংলাদেশের ইতিহাসের সেরা ক্রিকেটারদের একজন। আমরা আশা করেছিলাম সে ফিরে আসবে কিন্তু সবারই নিজস্ব সিদ্ধান্ত নেয়ার অধিকার আছে। ভবিষ্যতের জন্য শুভকামনা।’
তামিমের দেড় যুগের ক্যারিয়ারের প্রতিও সম্মান জানালেন আশরাফুল, ‘আমি মনে করি, আরো কয়েক মৌসুম আমরা তাকে ঘরোয়া ক্রিকেটে দেখব। অসাধারণ একজন খেলোয়াড় ছিলেন। বিশেষ করে নতুন বলে ব্যাটিং করা আমরা সবসময় র্যাংকিংয়ে ৯-১০ এ থাকতাম। সেখান থেকে টপ র্যাংকিংয়ের থাকা দলের বোলারদের খেলা চ্যালেঞ্জ ছিল সেখানে সফল হয়েছেন। অধিনায়ক হিসেবে ভালো করেছেন। সেরা ২-৩ জনের একজন। ১৭ বছরের অসাধারণ ক্যারিয়ারের জন্য তাকে স্যালুট দিতেই হবে।’
২০২৩ সালে তামিম একবার অবসরের ঘোষণা দিয়েছিলেন। যদিও পরে ফিরেছেন। সেই সিদ্ধান্তে হতবাক হয়েছিলেন ইমরুল। তবে এবার তামিমের সিদ্ধান্তকে সম্মান জানিয়েছেন জাতীয় দলের সাবেক এই ব্যাটার। বলেছেন,‘ও যেদিন প্রথম অবসরের ঘোষণা দেয় আমি হতবাক হয়েছিলাম। হয়ত আবেগী সিদ্ধান্ত ছিল। আমি মনে করি, তামিম ইকবালের বাংলাদেশের ক্রিকেটে দেয়ার আরো অনেক কিছু ছিল। ও চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি পর্যন্ত খেললে হয়ত আমাদের দলের জন্য ভালো হতো। কিন্তু এটা ওর ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। আমাদের এখানে কিছু বলার নাই। আমি তার সিদ্ধান্তকে সম্মান করি।’
আরো ২-৩ বছর তামিম খেলতে পারতেন বলে মনে করেন ইমরুল, ‘খেলোয়াড় হিসেবে সে যখন স্টপ করেছিল ওইসময় থেকে খেলা চালিয়ে গেলে সে খেলতে পারতো। তার যে পারফরম্যান্স নিজেকে ফিট রাখলে সে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি সহজেই খেলতে পারতো, তার স্কিলের দিক থেকে কোন কমতি নেই। যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে সেটা তার একান্ত ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত এখানে কিছু বলার নাই।’








