কানাডার ক্যালগেরি বঙ্গীয় পরিষদের আয়োজনে আসন্ন শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষ্যে নিজস্ব উপাসনা গৃহের মিলনায়তনে ‘মহালয়া’র পুণ্যলগ্নে প্রায় দুই’শ দর্শকের উপস্থিতিতে পরিবেশিত হলো সোয়া এক ঘন্টার গীতি-নৃত্য-আলেখ্য ‘তমসো মা জ্যোতির্গময়’।
গ্রন্থনা করেছেন অধ্যাপক শেখর সান্যাল। উপস্থাপনায় মহুয়া চ্যাটার্জী ও সৌভিক মহান্ত। স্তোত্র ও চণ্ডীপাঠ শেখর সান্যাল ও কিরীটি রায়। সংগীত পরিচালনা ড. রীতা কর্মকার। সঙ্গতে সঞ্জয় মল্লিক ও মন্দিরায় অজিত মুহুরী। শঙ্খে মৌসুমী ব্যানার্জী। নৃত্যে প্রকৃতি দত্ত, প্রার্থনা দত্ত, জয়তী সিকদার, আর্যা তালুকদার, বৃন্দা দে ও সেরা বণিক। নান্দনিক মঞ্চসজ্জার রূপকার নীলাঞ্জনা রায়।
খোকন দেবনাথের নেতৃত্বে তীর্থদীপ সান্যাল ও আদিত্যের সুনিপুণ শব্দনিয়ন্ত্রণ সম্পূর্ণ অনুষ্ঠানকে সুখশ্রাব্য করেছে।
সংগীতে অংশ নিয়েছেন রীতা কর্মকার, করবী রায়, মৌসুমী ব্যানার্জী, নীলাঞ্জনা রায়, শাপলা রায়, মাধবী রায়, সুবর্ণশ্রী ঘোষ দত্ত, সুপ্রিয়া দে, রূম্পা সেনগুপ্তা, অপর্ণা দাস, গার্গী রায়, চম্পা সেন, চন্দ্রিমা ঐশী, শ্রাবস্তী নন্দী, সুমি বণিক, সায়নী সাহা, মুন্নি গোস্বামী, পিয়া গায়েন, জীবন দাস, খোকন সিকদার, পিনাক দে, রাতুল চক্রবর্তী, অর্ক গায়েন ও আনীক পাল।
ড. রীতা কর্মকারের নেতৃত্বে প্রায় দু’মাসের নিবিড় অনুশীলনের প্রতিফলন ঘটেছে শ্রুতিনন্দন গীতি-নৃত্য-আলেখ্যে। শিল্পী ও কলাকুশলীদের সম্মিলিত প্রয়াস দর্শকদের অকুণ্ঠ প্রশংসা পেয়েছে।
অনুষ্ঠানে সম্মেলক গানসমূহ ছিল- “আনন্দধারা বহিছে ভুবনে”, ‘আমরা বেঁধেছি কাশের গুচ্ছ’, ‘আজি শঙ্খে শঙ্খে মঙ্গল গাও জননী এসেছে দ্বারে’, ‘শরতে আজ কোন অতিথি এল প্রাণের দ্বারে’, ‘জয় জয় জপ্য জয়ে জয় শব্দ পরস্তুতি তৎপর বিশ্বনুতে’, ‘হিংসায় উন্মত্ত পৃথ্বী নিত্য নিঠুর দ্বন্দ্ব’, ‘বরিষ ধরা মাঝে শান্তির বারি’, ‘রূপং দেহি জয়ং দেহি যশো দেহি দ্বিষো জহি’ ও ‘অসতো মা সদ্গময়’।
একক গান পরিবেশন করেন পিয়া গায়েন “শিশিরে শিশিরে শারদ আকাশে’, রীতা কর্মকার ”যা চণ্ডী মধুকৈটভাদিদৈত্যদলনী যা মাহিষোন্মূলিনী”, ‘চন্দ্রিমা ঐশী ‘অয়ি গিরি নন্দিনি’ এবং সুবর্ণশ্রী ঘোষ দত্ত ‘কালো মেয়ের পায়ের তলায় দেখে যা আলোর নাচন।’
ক্যালগেরি বঙ্গীয় পরিষদের সভাপতি কল্যাণ রায় এবং এবং অন্যতম ট্রাস্টি কিরণ শংকর বণিক সংগীত পরিচালক ড. রীতা কর্মকারকে আন্তরিক অবদানের জন্য এবং খোকন দেবনাথকে ক্যালগেরি বঙ্গীয় পরিষদের সকল অনুষ্ঠানে শব্দনিয়ন্ত্রণে সহযোগীতার জন্য পুষ্পস্তবক দিয়ে সংবর্ধনা করে এবং শিল্পী-কলাকুশলী ও দর্শকদের ধন্যবাদ জানিয়ে অনুষ্ঠানের শেষ হয়।
অনুষ্ঠান শেষে দর্শক-শ্রোতা ও শিল্পী-কলাকুশলীদের সুস্বাদু নৈশভোজ স্পন্সর করেন শুভ্র-সঞ্চিতা-সুচিস্মিতা রায় পরিবার।







