উজানে ভারী বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলের প্রভাবে দেশের উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে আবারও স্বল্পমেয়াদি বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, আজ ও আগামীকাল শুক্রবারের মধ্যে সিলেট, ময়মনসিংহ ও রংপুর বিভাগের বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হতে পারে।
আজ ৬ আগস্ট বৃহস্পতিবার কেন্দ্রের সর্বশেষ পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ২৪ ঘণ্টায় রংপুর, সিলেট, ময়মনসিংহ ও চট্টগ্রাম বিভাগ এবং তৎসংলগ্ন উজানে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এর প্রভাবে দেশের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নদ-নদীর পানি দ্রুত বাড়তে পারে। আগামী দুই দিনে সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে সিলেট ও সুনামগঞ্জের কিছু এলাকায় বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। এতে ওই অঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
উত্তরাঞ্চলেও বন্যার ঝুঁকি রয়েছে। তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদের পানি আগামী এক দিন পর্যন্ত বাড়তে পারে। এর মধ্যে তিস্তা ও দুধকুমারের পানি কয়েকটি স্থানে বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। ফলে লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। এদিকে নীলফামারীর তিস্তা নদীর ডালিয়া পয়েন্টে বুধবার সকালে পানি বিপৎসীমার ১৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হলেও বিকেল থেকে পানি কমতে শুরু করে। সন্ধ্যা ৬টায় তা বিপৎসীমার দুই সেন্টিমিটার নিচে নেমে আসে।
তবে পানি কমলেও বেড়েছে নদীভাঙনের তীব্রতা। তিস্তার তীরবর্তী বিভিন্ন এলাকায় নদীরক্ষা বাঁধে বড় বড় ফাটল দেখা দিয়েছে। কয়েকটি স্থানে বাঁধ ধসে পড়ায় স্থানীয়দের চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে শাকসবজি, ভুট্টা ও বাদামের খেতসহ বিস্তীর্ণ কৃষিজমির ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। ডোমার ও জলঢাকা উপজেলার নদীতীরবর্তী আটটি ইউনিয়নের বাসিন্দারা আশঙ্কা করছেন, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে ঘরবাড়ির পাশাপাশি মসজিদ, কবরস্থান এবং বিস্তীর্ণ ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হতে পারে।
এছাড়া ময়মনসিংহ অঞ্চলের সোমেশ্বরী, ভুগাই ও কংস নদের পানিও বৃদ্ধি পেতে পারে। এর ফলে বৃহস্পতিবারের মধ্যেই শেরপুর, ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনার কিছু নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দিতে পারে বলে জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। অন্যদিকে ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদ-নদীর পানি আগামী পাঁচ দিন পর্যন্ত বাড়তে পারে। গঙ্গা-পদ্মার পানি প্রথম দুই দিন স্থিতিশীল থাকলেও পরে বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। একই সময়ে চট্টগ্রাম বিভাগের গোমতী, মুহুরী, সেলোনিয়া, ফেনী ও হালদা নদীর পানিও আগামী তিন দিন পর্যন্ত বাড়তে পারে।
এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আগামী পাঁচ দিন দেশের আট বিভাগেই দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টিপাত হতে পারে। কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণেরও সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিস্থিতি দেশের বিভিন্ন নদ-নদীর পানি বৃদ্ধির পাশাপাশি বন্যার ঝুঁকি আরও বাড়াতে পারে।

