ওয়েস্ট ইন্ডিজকে চেপে ধরেছিল নিউজিল্যান্ড। টসে হেরে ব্যাটিংয়ে নামা ক্যারিবীয়রা নিয়মিত উইকেট হারিয়ে বিপদে ছিল। শেরফান রাদারফোর্ডের শেষ মুহূর্তের ঝড়ে স্বাগতিকরা চ্যালেঞ্জিং লক্ষ্য ছুঁড়ে দেয় প্রতিপক্ষকে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের ১৩ রানের জয়ে সুপার এইট নিশ্চিতে রাদারফোর্ডের ইনিংসটা হয়ে যায় ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট।
ব্যাট হাতে জ্বলে ওঠা রাদারফোর্ড ৩৯ বলে ২ চার ও ৬ ছক্কায় ৬৮ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন। কাকতালীয়ভাবে তার জার্সি নম্বর ৬৮। এ প্রসঙ্গে ম্যাচসেরা হয়ে বললেন, ‘আমি সুযোগ পাওয়ার জন্য ঈশ্বরকে ধন্যবাদ জানাতে চাই। ৬৮ সংখ্যাকে আমার হৃদয়ের কাছাকাছি রাখতে যাচ্ছি।’
সাড়ে পাঁচ বছর আগে আন্তর্জাতিক টি-টুয়েন্টিতে অভিষেক হলেও ১৫টির বেশি ম্যাচ খেলার সুযোগ পাননি। অনিয়মিত হয়ে বিশ্বকাপে এসে দলের বিপর্যয়ে হাল ধরেছেন। ক্যারিয়ারসেরা ইনিংস খেলে জয়ের নায়ক বনে গেলেন। আইপিএলে কলকাতা নাইট রাইডার্সে থাকাকালীন টুর্নামেন্টের জন্য প্রস্তুতি কেমন ছিল, তা নিয়েও কথা বলেছেন।
‘আমি দুইমাস আইপিএলে ছিলাম। যদিও খেলছিলাম না, তবুও প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। অনেক কাজ এবং পরিকল্পনা করেছি। এটা সহজভাবে ধরে রাখা এবং নিজের দক্ষতার উপর ভরসা থাকা মূল চাবিকাঠি ছিল।’
কিউইদের বিপক্ষে ম্যাচের আগে নিজের ভাবনার জায়গা ও হেড কোচ ড্যারেন স্যামির সঙ্গে কথোপকথনের বিষয়ে খোলামেলা জানালেন ২৫ বর্ষী অলরাউন্ডার। বলেছেন, ‘আমার এবং স্যামির মধ্যে আলোচনা হয়েছিল। আমি জানতাম, যদি আমরা খেলায় গতি পেয়ে যাই, তবে শেষপর্যন্ত সুযোগ তৈরি করতে পারবো।’
ট্রেন্ট বোল্ট, টিম সাউদি, লোকি ফার্গুসন ও জেমস নিশামকে দিয়ে চার ওভারের কোটা পূরণ করিয়েছিলেন ব্ল্যাক ক্যাপস অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসন। মিচেল স্যান্টনার পঞ্চম বোলার হিসেবে ছিলেন খরুচে, দুই ওভারে দেন ২৭ রান। গ্লেন ফিলিপস এক ওভারে ৯ রানের বেশি দেননি। ড্যারিল মিচেল এক ওভারে ১৯ রান ব্যয় করে বসেন। প্রতিপক্ষের বোলিং আক্রমণের উপর তীক্ষ্ণ নজর রেখে পরিকল্পনা সাজিয়েছিলেন রাদারফোর্ড।
‘তাদের বোলিং লাইনআপ দেখে জানতাম মূল বোলারদের দিয়ে বল করানোর জন্য তাদের হাতে দুই ওভার কম ছিল। জানতাম, তাদের সেই ওভারগুলো পার্ট টাইম বোলারদের দিয়ে করাতে হবে। সেই সুযোগের সর্বোচ্চ ব্যবহার করতে চেয়েছিলাম।’
সি-গ্রুপ থেকে সুপার এইটের টিকিট কাটলেও ম্যাচসেরা তারকা তৃপ্তির ঢেকুর তুলতে নারাজ। তার ভাষ্য, ‘বক্সে একটা টিক চিহ্ন পড়েছে। এটা কেবলমাত্র বড় কিছুর সূচনা। আশা করি, আমরা এগিয়ে চলার গতি অব্যাহত রাখতে পারবো।’







