বেসবলের জনপ্রিয়তার কাছে হার মেনে ১০০ বছর আগেই যুক্তরাষ্ট্র থেকে ক্রিকেটের অস্তিত্ব প্রায় বিলীন হয়ে গিয়েছিল। কালের বিবর্তনে দেশটিতে হারিয়ে যাওয়া খেলাটি অভিবাসীদের হাত ধরে আবারও ফিরেছে মার্কিনমুলুকে। ওয়ানডে মর্যাদা পাওয়ার পর পথচলা আরও একধাপ এগিয়ে যায়। ঘরের মাঠে টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের সহ-আয়োজক হয়েই কেবল ক্ষান্ত হয়নি যুক্তরাষ্ট্র, কানাডাকে হারিয়ে পায় শুভ সূচনা। এরপর উত্তেজনায় ভরপুর, বিনোদনে ঠাঁসা ও মহানাটকীয় ম্যাচে পাকিস্তানকে সুপার ওভারে হারিয়ে বিশ্ব ক্রিকেটকে চমকে দিয়েছে।
মার্কিনমুলুকে ক্রিকেটের অস্তিত্ব বেশ পুরনো। ১৮৪৪ সালে কানাডার বিপক্ষে দেশটি খেলেছিল ইতিহাসের সর্বপ্রথম আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ম্যাচেই। ১৯০৪ ও ১৯০৮ সালে যুক্তরাজ্য সফরে কাউন্টি দল ল্যাঙ্কাশায়ার, কেন্ট এবং সারেকে পরাজিত করেছিল। ম্যাচগুলো পেয়েছিল প্রথম শ্রেণির মর্যাদা।
ক্যারিয়ারের শেষ ইনিংসে স্যার ডন ব্র্যাডম্যান শূন্য রানে আউট হওয়ায় টেস্ট গড় ১০০তে নিতে পারেননি। সেই ইতিহাস অনেকেরই জানা। তবে বিয়ের পর স্ত্রীর সঙ্গে মধুচন্দ্রিমায় গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতেও তার শূন্য রানে সাজঘরে ফেরার গল্পটা হয়ত অনেকের অজানা। আর্থার ম্যালি নামের এক ভদ্রলোকের আয়োজনে ১৯৩২ সালে নর্থ আমেরিকা সফরে গিয়ে ম্যাচ খেলেছিল অস্ট্রেলিয়া একাদশ। সেবার দলটি যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে বেশ কয়েকটি ম্যাচ ড্র করেছিল।
প্রয়াত কিংবদন্তি ধারাভাষ্যকার টনি গ্রেগ ইংল্যান্ডের হয়ে খেলেছিলেন ৫৮ টেস্ট ও ২২ ওয়ানডে। তার নেতৃত্বে ওয়ার্ল্ড অল স্টারস একাদশ নামের একটি দল যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে খেলেছিল। গ্যারি সোবার্স, অ্যালান নট, গ্রেগ চ্যাপেলদের নিয়ে গড়া দলটি আশ্চর্যজনকভাবে হেরে যায়। যুক্তরাষ্ট্রের হয়ে যারা খেলেছিলেন, তাদের বেশিরভাগই মূলত ক্যারিবীয় অঞ্চলের ছিলেন। ব্রঙ্কসের শিয়া স্টেডিয়ামে হওয়া সেই প্রদর্শনী ম্যাচে আট হাজার দর্শক উপস্থিত ছিল।
ফিলাডেলফিয়ার কাছে হ্যাভারফোর্ড কলেজের ইউনাইটেড স্টেটস ক্রিকেট মিউজিয়ামের কিউরেটর জো লিন। দেশটিতে ক্রিকেট মরে যাওয়ার বিষয়টি তিনি সরাসরি অস্বীকার করেন। টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে পাকিস্তানের বিপক্ষে জয়কে যুক্তরাষ্ট্রের ক্রিকেট ইতিহাসের জন্য বিশাল বড় ঘটনা হিসেবে অভিহিত করেছেন।
‘মার্কিন দৃষ্টিকোণ থেকে টুর্নামেন্টের শুরুটা এরচেয়ে ভালো হতে পারত না। কানাডার বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে জেতা একটা ইতিবাচক ব্যাপার ছিল। কিন্তু পাকিস্তানের মতো পূর্ণ সদস্য দেশকে হারানোটা ভিন্ন ব্যাপার।’
‘সম্ভবত, সবসময় ভুল বলা হয়েছে যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বেসবলের হাতে ক্রিকেট মারা গেছে। কিন্তু আমি মনে করি এটি অন্য যেকোনো কিছুর চেয়ে বেশি হাইবারনেশনে ছিল। মেজর লিগ ক্রিকেট এবং এই বিশ্বকাপের মধ্য দিয়ে এটি এক ধরনের পুনর্জাগরণ।’








