চারিথ আসালাঙ্কাকে দিয়ে শুরু হয়েছিল রিশাদ হোসেনের উইকেট শিকার। স্লগ সুইপ করতে গিয়ে ডিপ ব্যাকওয়ার্ড স্কয়ারে সাকিব আল হাসানের হাতে ধরা পড়ে ফেরেন। এরপর লঙ্কান অধিনায়ক ভানিডু হাসারাঙ্গাকে স্লিপে থাকা সৌম্য সরকারের ক্যাচ বানান। চমৎকার লেগ ব্রেকে ধনঞ্জয়া ডি সিলভাকে যেভাবে স্টাম্পিংয়ের ফাঁদে ফেললেন, সেই দৃশ্যটা বাংলাদেশের ক্রিকেটে বিরলই বলা যায়।
অনেক দলেই লেগ স্পিনারদের ভেল্কির দেখা নিয়মিত মিললেও লাল-সবুজের জার্সিতে তাদের দেখা পাওয়াটা যেন দুঃসাধ্য। ঘরোয়া ক্রিকেটেও তারা কখনো পরিত্যাজ্য, জাতীয় দল তো আরও দূরের ভাবনাই ছিল। রিশাদের উপর আস্থা রেখে টিম ম্যানেজমেন্ট যেন দিন বদলের বার্তাই দিচ্ছে। বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে স্কোয়াডে রাখার প্রতিদান ২১ বর্ষী ক্রিকেটার দারুণভাবে দিলেন। চার ওভারে ২২ রান খরচায় মূল্যবান তিনটি উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরার পুরস্কারটাও জিতলেন।
ডালাসের গ্র্যান্ড প্রেইরি স্টেডিয়ামে টান টান উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচের পর সংবাদ সম্মেলনে হাজির হন নাজমুল হোসেন শান্ত। বিজয়ী দলের অধিনায়কের কণ্ঠে রিশাদের প্রশংসা ঝরার পাশাপাশি ঝরেছে লেগ স্পিনারের অভাব পূরণের স্বস্তি।
‘অসাধারণ বোলিং করেছে। আমার মনে হয় বিগত কয়েকটা সিরিজ ধরেই ও ভালো বল করে আসছে। যেভাবে ও অনুশীলন করে, এতে তার প্রস্তুতি খুবই ভালো। আমরা সবসময় ভুগতে থাকি এজন্য যে, আমাদের লেগ স্পিনার নাই। ওই জায়গাটা আমাদের পূরণ হয়েছে। আমি আশা করবো যে সামনের ম্যাচগুলোতে রিশাদ এভাবে অবদান রাখবে।’
দ্বিপক্ষীয় সিরিজে নিকট অতীতেও নিয়মিত লেগ স্পিনারের দেখা লাল-সবুজের দলে নিয়মিত পাওয়া যেতো না। অতীতে জুবায়ের হোসেন লিখন হারিয়ে গেলেও রিশাদ নিজেকে লম্বা দৌড়ের ঘোড়া প্রমাণে যেন মরিয়া। আইসিসির কোনো ইভেন্টে কোনো লেগ স্পিনারের দৃষ্টিনন্দন বোলিংয়ের দৃশ্য এবার তার হাত ধরেই দেখা গেল। দেশের ক্রিকেটে যুগের পর যুগ পেরিয়েছে, তবু এমনটা আগে দেখা যায়নি। বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচ খেলতে নেমেই রিশাদ করলেন বাজিমাত। আর তাতেই যেন লেগস্পিনে যুগের পরিবর্তনটাই এসেছে।
আন্তর্জাতিক টি-টুয়েন্টিতে এই তরুণ ক্রিকেটার খেলেছেন ১৮ ম্যাচ, পেয়েছেন ১৮ উইকেট। সাধারণত লেগস্পিনাররা উইকেট শিকারি হতে গিয়ে হয়ে পড়েন ব্যয়বহুল। তবে রিশাদের ৭.০৫ ইকোনমি রেটটাকে মারকাটারি টি-টুয়েন্টিতে বেশ ভালো বলতেই হয়।







