স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ) পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে বহু বিতর্কিতদের রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অনেকে দাবি করেছেন, সাবেক ছাত্রদল ও শিবির কর্মীদের স্থান দেওয়া হয়েছে। নতুন কমিটিতে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) বহু মামলার আসামিসহ রয়েছেন চিহ্নিত দুর্নীতিবাজ, টেন্ডারবাজ, ঘুষখোর। তবে কমিটির ঊর্ধ্বতন সদস্যদের দাবি, যারা পদ বঞ্চিত হয়েছেন তারা বিদ্বেষ থেকে এসব কথা রটাচ্ছেন। নিয়ম মেনেই কমিটি করা হয়েছে বলেও জানান তারা।
সংগঠনের জ্যেষ্ঠ নেতা-কর্মীরা অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেছেন: সংগঠনের রীতি অনুসারে বিদায়ী কমিটির সভাপতি ও মহাসচিবের সঙ্গে আলোচনা ছাড়াই কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে।
গত ২৭ জুন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ)পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়। ওই রাতে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সই এক বিজ্ঞপ্তিতে অনুমোদিত পূর্ণাঙ্গ কমিটির তালিকা প্রকাশ করা হয়।
এর আগে গত বছরের ২৫ নভেম্বর স্বাচিপের সভাপতি হিসেবে জামাল উদ্দীন চৌধুরী ও মহাসচিব হিসেবে কামরুল হাসানের নাম ঘোষণা করা হয়েছিল।
কমিটিতে আর্দশবিরোধী জামায়াত শিবির
অভিযোগ উঠেছে, নতুন কমিটিতে ঠাঁই পাওয়া সহ-বিজ্ঞান সম্পাদক ডা. ইসমে আজম জিকো ও ডা. মোহাম্মদ রাকিব ঢাকা মেডিকেল কলেজে ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতা ছিলেন।
স্বাচিপের সিনিয়র এক সদস্য সূত্রে জানা যায়, ডা. ইসমে আজম জিকো ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতা ছিলেন। তিনি নভেম্বর ২০২২ স্বাচিপ সম্মেলনের আগেও নানাভাবে স্বাচিপ সদস্য হওয়ার আবেদন ও চেষ্টা করলে তাতে ঐ সময়কার সভাপতি অধ্যাপক ডা. এম ইকবাল আর্সলান ও মহাসচিব অধ্যাপক ডা. এম এ আজিজ সম্মত হননি এবং তাকে সদস্যও করেননি। সম্মেলনের পর নবনির্বাচিত সভাপতি ও মহাসচিব তাকে নতুন কমিটিতে সহসম্পাদক পদ দিয়েছেন।
নতুন কমিটির সদস্য ডা. মোহাম্মদ রাকিব ছাত্রাবস্থায় ইসলামী ছাত্র শিবিরের রাজনীতির সাথে সংশ্লিষ্ট ছিলেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। কমিটির সহ-দপ্তর সম্পাদক ডা. কাওছার আলম ছাত্রদলের রংপুর মেডিক্যাল কলেজের শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হোস্টেল কমিটির ২০০৬-০৭ সেশনের সহ-সম্পাদক ছিলেন বলে জানা গেছে।
কমিটিতে ঠাসা বিতর্কিতরা
স্বাচিপের জ্যেষ্ঠ এক সদস্য জানান: ঘোষিত পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে সংগঠনের সুনাম ক্ষুন্নকারী চিহ্নিত দূর্নীতিবাজ, টেন্ডারবাজ, ঘুষখোর ও দুর্নীতি দমন কমিশনের বহু মামলার আসামি, এক এগারোর সময় গ্রেপ্তার হওয়া, এমনকি জালিয়াতির মাধ্যমে মেডিক্যালে ভর্তি পরীক্ষায় অংশ না নিয়েও সরকারী মেডিকেলে ভর্তি হয়ে চিকিৎসক বনে যাওয়া চিহ্নিতরাও এ কমিটিতে অন্তর্ভূক্ত হয়েছেন।
অচেনা মুখ ও দীর্ঘদিন বিদেশ বসবাসকারীরা
জানা যায়, নবঘোষিত পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে স্থান পাওয়া সিংহভাগ কর্মকর্তা ও সদস্যদের বিভাগীয় বা জেলা পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের সাথে কোন যোগাযোগ নেই, কারণ কেন্দ্রে স্থান পাওয়া সিংহভাগই অচেনা মুখ! এ কমিটিতে দীর্ঘদিন বিদেশে বসবাস করে আসছেন এমন অনেককেই কমিটিতে স্থান করে দেয়া হয়েছে। কমিটির কমপক্ষে অর্ধেক চিকিৎসকই স্বাচিপ রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত নন এমন অনেক অপরিচিত নাম ও কমিটিতে স্থান পেয়েছে।
বিদায়ী সভাপতি ও মহাসচিবের সঙ্গে আলোচনা করা হয়নি
গত বছরের ২৫ নভেম্বর অনুষ্ঠিত সম্মেলনের প্রথম অধিবেশন শেষে স্বাচিপের সাংগঠনিক প্রধান আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মৌখিক নির্দেশে দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সভাপতি পদে ডা. জামাল উদ্দিন চৌধুরী এবং সাধারণ সম্পাদক পদে ডা. কামরুল হাসান মিলনের নাম ঘোষণা করেন। তিনি বিদায়ী সভাপতি অধ্যাপক ডা. এম ইকবাল আর্সলান ও মহাসচিব অধ্যাপক ডা. এম এ আজিজের সঙ্গে আলোচনা করে কমিটির বাকি নেতৃবৃন্দ ও সদস্যদের নাম চূড়ান্ত করতে বলেন। তবে পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণার আগে বিদায়ী সভাপতি ও মহাসচিবের সঙ্গে আলোচনা করা হয়নি। এমনকি আগের কমিটির ন্যূনতম ৪০ শতাংশ সদস্য নতুন কমিটিতে রাখার সাংগঠনিক রেওয়াজও মানা হয়নি।
বিদায়ী মহাসচিব অধ্যাপক ডা. এম এ আজিজ চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন: সংগঠনের রেওয়াজ অনুসারে বিদায়ী সভাপতি ও মহাসচিব হিসেবে আমাদের সঙ্গে কোনো আলোচনা করা হয়নি।
যা বলছে বর্তমান কমিটি
বর্তমান স্বাচিপের সভাপতি পদে ডা. জামাল উদ্দিন চৌধুরী চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন: ঈর্ষাপরায়ণ হয়ে পদ বঞ্চিতরা এমনটা করছেন। যারা এসব বলছেন তারা গত পাঁচ-সাত বছরেও স্বাচিপের সঙ্গে সম্পৃক্ততা রাখেন নি। আমরা যাচাই বাছাই করেই সদস্যদের নিয়েছি। তারা প্রত্যেকেই ছাত্রাবস্থায় ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিল।
কমিটিতে ছাত্রদল ও জামায়াত শিবির সদস্য সম্পর্কে তিনি বলেন: বিএনপি জামায়াতের সময়ে তাদের অত্যাচার থেকে বাঁচতে এবং হলে সিট পেতে কেউ কেউ হয়তো তাদের সহযোগিতা নিয়েছিল।
দুদকের মামলার আসামি সম্পর্কে জানতে চাইলে স্বাচিপ সভাপতি বলেন: অভিযোগ যে কেউই দিতে পারে। কিন্তু অভিযোগ তো প্রমাণিত হয়নি।








