ভেনেজুয়েলায় শক্তিশালী জোড়া ভূমিকম্পের আট দিন পর ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে এক ব্যক্তিকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। তবে উদ্ধার অভিযানে এই সাফল্যের মধ্যেও দেশটিতে এখনও প্রায় ৫০ হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। একই সঙ্গে ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে প্রায় ২ হাজার ৬০০ জনে পৌঁছেছে।
এবিসি নিউজের খবরে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার ২ জুলাই উপকূলীয় কাটিয়া লা মার এলাকায় ধসে পড়া একটি সাততলা ভবনের ধ্বংসস্তূপ থেকে ৪৩ বছর বয়সী নিরাপত্তাকর্মী হার্নান গিলকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। দীর্ঘ ও জটিল উদ্ধার অভিযান শেষে তাকে স্ট্রেচারে করে বাইরে নিয়ে আসার সময় উপস্থিত উদ্ধারকর্মী ও স্বজনরা উল্লাসে ফেটে পড়েন। হার্নান গিলের স্ত্রী গুসবিমার গঞ্জালেস বলেন, স্বামীর জীবিত ফিরে আসা তাদের জন্য ‘অলৌকিক ঘটনা’।
উদ্ধারকারীরা জানান, গিলকে জীবিত রাখতে ধ্বংসস্তূপের ভেতরে পাইপের মাধ্যমে ১০ লিটারের বেশি পানি এবং একটি টিউব দিয়ে অক্সিজেন সরবরাহ করা হয়। শেষ পর্যায়ে প্রায় ৩০ জন উদ্ধারকর্মী ধ্বংসাবশেষ সরিয়ে এবং দুইজন তিন মিটার দীর্ঘ একটি টানেল খনন করে তার কাছে পৌঁছাতে সক্ষম হন। ২৪ জুন আঘাত হানা ভয়াবহ জোড়া ভূমিকম্পে এ পর্যন্ত অন্তত ২ হাজার ৫৯৫ জন নিহত এবং ১২ হাজার ৪০০ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেস। তিনি আরও জানান, মূল ভূমিকম্পের পর এখন পর্যন্ত ৮৬২টির বেশি আফটারশক অনুভূত হয়েছে।
আন্তর্জাতিক উদ্ধার সংস্থা (আইআরসি) জানিয়েছে, এখনও প্রায় ৫০ হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন, যাদের মধ্যে অনেক শিশু রয়েছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া জীবিতদের খুঁজে বের করতে উদ্ধারকারীরা দিন-রাত অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে আরও জীবিত মানুষ উদ্ধারের সম্ভাবনা কমে আসছে। গত এক সপ্তাহে অবশ্য আরও কয়েকটি অলৌকিক উদ্ধারের ঘটনা ঘটেছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে ১২০ ঘণ্টা আটকে থাকার পর দুই সন্তানের জনক এক ব্যক্তিকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। এছাড়া ভূমিকম্পের দুই দিন পর ধসে পড়া একটি অ্যাপার্টমেন্ট থেকে ১৮ দিন বয়সী শিশুসহ তার মাকেও জীবিত উদ্ধার করা হয়েছিল।
এদিকে বহু ভবন ধসে পড়ায় হাজার হাজার মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েছেন। বিভিন্ন এলাকায় নিরাপদ পানি ও খাদ্যের সংকট দেখা দিয়েছে, হাসপাতালগুলোতে বাড়ছে চাপ। বিশেষজ্ঞরা সংক্রামক রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। দুর্যোগ মোকাবেলায় সরকারের ভূমিকা নিয়ে সমালোচনার মধ্যেই ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেস দাবি করেছেন, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় দ্রুত সামরিক ও বেসামরিক সহায়তা পাঠানো হয়েছে এবং উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।








