রাবেয়া খাতুনের লেখা নির্বাচিত ৪ টি ছোটগল্প নিয়ে ইংরেজি ভাষায় প্রকাশ পেল বই ফ্রিডম’স ফ্লেমস। বৃহস্পতিবার দুপুরে চ্যানেল আই কার্যালয়ে ইরাজ আহমেদের করা অনুবাদে বইটির মোড়ক উন্মোচন করেন বিশিষ্টজনেরা।
অনুষ্ঠানে অনুবাদক ইরাজ আহমেদ ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মুকিত মজুমদার বাবু, বিশিষ্ট রন্ধনশিল্পী কেকা ফেরদৌসী, অন্য প্রকাশের কর্ণধার মাজহারুল ইসলাম, নির্মাতা ও অভিনেত্রী আফসানা মিমি, শিশু সাহিত্যিক আমীরুল ইসলাম, আনন্দ আলোর সম্পাদক রেজানুর রহমান, কবি রাজু আলীম, গল্পকার মোজাফফর হোসেনসহ অনেকে।
বাংলাদেশের সাহিত্যজগতে অনন্য এক নাম কথাসাহিত্যিক রাবেয়া খাতুন। যার সাহিত্যেকর্মের বিরাট অংশ জুড়ে রয়েছে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস। তারই লেখা মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক ৪ টি ছোটগল্প নিয়ে ইংরেজি ভাষায় প্রকাশ পেল বই “ফ্রিডম’স ফ্লেমস”। বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন- এই ধরনের বইয়ের মাধ্যমে রাবেয়া খাতুন পৌঁছে যাবেন প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে।
ইরাজ আহমেদের করা অনুবাদে বইটি প্রকাশ করেছে প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান অন্যপ্রকাশ। আয়োজনে রাবেয়া কন্যা কেকা ফেরদৌসী বলেন, “আম্মা (রাবেয়া খাতুন) প্রায় পাঁচশোর উপরে ছোট গল্প লিখেছেন। যার ভেতর তার লেখা ছোট গল্পের একটি বই আছে যেখানে ১০টা ছোট গল্প রয়েছে। সেখান থেকেই বাছাই করে মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক ছোট গল্পের অনুবাদ করে এই বইটি লিখেছেন ইরাজ আহমেদ। যার প্রতি আমরা রাবেয়া খাতুন পরিবার চিরকৃতজ্ঞ।”
তিনি বলেন, আমার মনে হয় অনুবাদকৃত এই বইটি থেকে বর্তমান প্রজন্ম মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে অনেক কিছু জানতে পারবে। একই সাথে এই বইয়ের মাধ্যমে আম্মার (রাবেয়া খাতুন) অবদান সম্পর্কেও জানবে নতুন এই প্রজন্ম।
এসময় ইরাজ আহমেদ তার বক্তব্যে বলেন,“এই বইটির ইংরেজি করার প্রস্তাবটি আমার কাছে এসেছিল শিশু সাহিত্যিক আমিরুল ইসলামের তরফ থেকে। উনি বহুবার আমাকে দিয়ে অনেক কঠিন কাজ করিয়েছেন। এই বইটির অনুবাদের কাজটিও ছিল ঠিক তেমনই। তবে এই বইটি অনুবাদ করতে গিয়ে আমি অনেক কিছু নতুন করে জেনেছি। মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে নতুন ভাবে জেনেছি। যুদ্ধের সময়কার বাঙালির সংগ্রাম সম্পর্কে জেনেছি। যেটি ছিল আমার কাছে অন্যরকম এক পাওয়া।”
আয়োজনে রাবেয়া খাতুনের পরিবারের সদস্যরা বলেন – মুক্তিযুদ্ধে সরাসরি অংশগ্রহণ না করলেও মুক্তিযুদ্ধের সময়কে গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেছিলেন রাবেয়া খাতুন। বাংলাদেশের ইতিহাস রক্ষার ক্ষেত্রে তার লেখনী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করেন তারা।








