বিরোধীদলীয় নেতা তার স্বাক্ষরিত চিঠিতে নিজের পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা ড. মাহমুদুল হাসানের দক্ষতা, পেশাদারিত্ব ও বিচক্ষণতার প্রশংসা করে দেশের পররাষ্ট্রনীতিকে একত্রে এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যে তাকে মন্ত্রী পদমর্যাদায় মন্ত্রণালয়ে পদায়নের জন্য পররাষ্ট্রমন্ত্রীর নিকট সুপারিশ করেন।
তিনি বিষয়টিকে বিশেষভাবে বিবেচনার জন্য পররাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রতি অনুরোধ জানান। চিঠির নিচে শুধুমাত্র বিরোধীদলীয় নেতার স্বাক্ষর রয়েছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে এসব তথ্য জানিয়েছে।
এছাড়াও বিবৃতিতে বলা হয়, বিরোধীদলীয় নেতা লিখিতভাবে সম্মতি প্রদান করলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় চিঠিটির পূর্ণ পাঠ জনসমক্ষে প্রকাশ করতে প্রস্তুত রয়েছে।
চিঠিটি বিরোধীদলীয় নেতার জাতীয় সংসদের প্যাডে লেখা ছিল। চিঠির বিষয়বস্তু হচ্ছে-ড. মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসানকে ‘বিরোধীদলীয় নেতার পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা’ হিসেবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে উপদেষ্টা বা মন্ত্রী পদমর্যাদায় নিয়োগ ও সুপারিশ।
বিবৃতিতে বলা হয়, গত ২২ ফেব্রুয়ারি ড. মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসান সংসদের বিরোধীদলীয় নেতার পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে বিরোধীদলীয় নেতার পক্ষ থেকে পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে লেখা একটি চিঠি ইলেকট্রনিক মাধ্যমে প্রেরণ করেন। পরবর্তীতে তিনি একই চিঠি সরাসরি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছেও হস্তান্তর করেন।
এদিকে একটি পত্রিকার প্রতিবেদন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দৃষ্টিগোচর হয়েছে, যেখানে বলা হয়েছে, “জামায়াতের পক্ষ থেকে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সরাসরি ফোনে যোগাযোগ করা হয়। সেখানে জানানো হয় যে উক্ত চিঠির বিষয়ে আমিরে জামায়াত অবগত ছিলেন না”। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় স্পষ্টভাবে জানাচ্ছে যে, এ ধরনের কোনো ফোনালাপ সংঘটিত হয়নি।
অন্যদিকে মঙ্গলবার জামায়াতে ইসলামীর এক বিবৃতিতে বলা হয়, গণমাধ্যমে প্রকাশিত ঘটনাটি প্রায় দুই সপ্তাহ আগের। সেসময় অধ্যাপক মাহমুদুল হাসান জামায়াত আমিরের পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। দেশের পররাষ্ট্র বিষয়ে জামায়াতে ইসলামীর কিছু অবস্থান স্পষ্ট করার স্বার্থে পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে একটি চিঠি পাঠানোর বিষয়ে তিনি দায়িত্বপ্রাপ্ত ছিলেন। কিন্তু তিনি আমির কর্তৃক নির্দেশিত বিষয়াবলির বাইরে কিছু বিষয় যুক্ত করে চিঠিটি মন্ত্রণালয়ে পাঠান। বিশেষ করে চিঠিতে উল্লিখিত মন্ত্রীর পদমর্যাদা-সংক্রান্ত অংশটি জামায়াত আমিরের নির্দেশনায় ছিল না।
এছাড়াও জামায়াতের বিবৃতিতে বলা হয়, জামায়াতে ইসলামী দায়িত্বশীল, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক রাজনৈতিক আচরণে বিশ্বাসী। কোনো বিষয়ে বিভ্রান্তি বা ভুল–বোঝাবুঝি তৈরি হলে জামায়াত তা দ্রুত সংশোধনের নীতিতে বিশ্বাস করে। আলোচ্য ঘটনার ক্ষেত্রেও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ ইতিমধ্যে গ্রহণ করা হয়েছে।
এরপর আজ বুধবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে বিবৃতি প্রকাশ করেছে।








