২১ বছরে পা রেখেছে চ্যানেল আইয়ের কৃষিভিত্তিক নিয়মিত প্রামাণ্য অনুষ্ঠান হৃদয়ে মাটি ও মানুষ। অনুষ্ঠানের ২১ বছরপূর্তি উপলক্ষে চ্যানেল আইয়ের তারকা কথন অনুষ্ঠানে নিজেদের গল্প দর্শকদের কাছে তুলে ধরছেন আমন্ত্রিত তারকা কৃষকরা।
বুধবার ২১ ফেব্রুয়ারি তারকা কথন অনুষ্ঠানে সরাসরি প্রচারে তারকা কৃষকরা নিজেদের গল্প দর্শকদের সামনে তুলে ধরছেন। অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে ৬ জন তারকা কৃষি উদ্দোক্তাকে।
অনুষ্ঠানে ঈশ্বরদীর কষি উদ্যোক্তা নুরুন্নাহার বলেন, ঘরের কাজের বাইরে যে নারীরা কৃষি কাজ বা খামার করে আয় করতে পারে এটা কখনও চিন্তায় আসে নাই। কাজ করতাম কিন্তু সেইটা বাড়ির পুরুষদের সাহায্য হিসেবেই করতাম। কিন্তু হৃদয়ে মাটি ও মানুষ অনুষ্ঠান দেখার পর বিশেষ করে যখন শাইখ সিরাজ স্যার ঈশ্বরদীতে আসেন তার কাছেই প্রথম শোনা যে নারী উদ্যোক্তা হিসেবে ঋণ নেয়া যায়। স্যারের সাহায্যেই আমার প্রথম ঋণ নেয়া। এখন আমার সফল খামার আছে। যেখানে প্রতিদিন ৫০ জন কর্মী কাজ করে।

কক্সবাজারের কৃষি উদ্যোক্তা রহীম উল্লাহ বলেন, আমি কর্মজীবন শুরু করি বিদেশে গিয়ে। সেখানে অনেক টাকাও উপার্জন করেছি। কিন্তু সব সময় ইচ্ছা ছিল দেশে কিছু একটা করার। সেই থেকেই কয়েক জন বন্ধু মিলে প্রায় ৪০ লাখ টাকা দিয়ে শুরু করি বরই বাগান। নতুন বাগান আমারও বুঝের কমতি ছিল সেই থেকে প্রথমে অনেক ধ্বস নামে ব্যবসায়। তখন মানুষ আমাকে পাগল বলতো কারণ এতো টাকা দিয়ে এই বাগান করে লাভ করতে পারিনি।

তিনি বলেন, তখন শাইখ সিরাজ স্যার কক্সবাজারে হৃদয়ে মাটি ও মানুষের একটি পর্ব সম্প্রচার করেন। সেখানে তিনি আমার বাগানও দেখান। তখন স্যার আমাকে বলেন তুমি আর বিদেশ যেও না, কিন্তু দেশে থাকলে বাগান করবে কিভাবে? তখন আমি বলি স্যার সব ছাড়তে পারবো কিন্তু এই বাগান ছাড়তে পারবো না। স্যার আমাকে জিজ্ঞেস করে এই বাগান বাঁচাতে কত টাকা লাগবে? আমি বলেছিলাম ৭ থেকে ৮ লাখ টাকা লাগবে। স্যার তখন আমাকে বলে সেই টাকা তিনি আমাকে দিবেন আমি যেন এই বাগানটায় আবার কাজ শুরু করি। স্যারের সেই টাকা দিয়ে বাগানে কাজ শুরু করে সেই বছর ২৭ লাখ টাকার বরই বিক্রি করেছি। এটা সম্ভব হয়েছে শুধু সিরাজ স্যারের জন্য।
তিনি আরও বলেন, আমার মনে একটা ইচ্ছা ছিল আমি আমার বাগানের বরই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এবং মহামান্য রাষ্ট্রপতিকে খাওয়াতে চাই। এই ইচ্ছাটা আমি সিরাজ স্যারকে জানাই। তখন স্যার আমাকে বলেন, তুমি আয়োজন করো আমি বিষয়টা দেখবো। পরে একদিন হৃদয়ে মাটি ও মানুষ অনুষ্ঠানেড় সরাসরি সম্প্রচারে মহামান্য রাষ্ট্রপতিড় আমাকে লেখা চিঠি আমাকে দেখানো হয়। চিঠিতে মহামান্য রাষ্ট্রপতি আমার মনোবল এবং কাজের জন্য আমাকে উৎসাহ দিয়েছিলেন।

নওগাঁর কৃষি উদ্যোক্তা আবুল কালাম আজাদ বলেন, আমাদের দেশে কয়েক বছর আগে পর্যন্তও ড্রাগন ফলের এতো বেশি উৎপাদন ছিল না। বিদেশি ফল হিসেবে দামও বেশ চড়া ছিল। দাম যে কমিয়ে আনব সেই জন্য তো প্রয়োজন উপযোগী আবহাওয়া। সেই থেকে আমি ড্রাগন ফলের চাষ নিয়ে রিসার্চ শুরু করি এবং একটি পদ্ধতি বের করি যেখানে ফলের চারাগুলোর ওপর বাতি লাগানো থাকবে। এতে ফলের উৎপাদন দ্বিগুণ হয়।
তিনি বলেন, নওগাঁয় যখন শাইখ সিরাজ স্যার তার অনুষ্ঠানের নতুন পর্বের সম্প্রচারের জন্য গেছেন তখন সে আমার এই নতুন প্রযুক্তির অনেক প্রশংসা করেন। গেল বছর অক্টোবর মাসে আমার ড্রাগন চাষের প্রযুক্তি হৃদয়ে মাটি ও মানুষ অনুষ্ঠানে সম্প্রচার হওয়ার পর থেকে অনেক কৃষক আমার সাথে যোগাযোগ করেছেন এবং আমি তাদের সাথে এই প্রযুক্তি শেয়ার করে খুশি। যাদের আমি সাহায্য করেছি প্রত্যেকে আমাকে জানিয়েছে তারা সবাই উপকৃত হয়েছেন।

হৃদয়ে মাটি ও মানুষ একটি টেলিভিশন অনুষ্ঠান হলেও অনুষ্ঠান শুরুর অল্পদিনের মধ্যেই এটি পরিণত হয়েছে সামাজিক আন্দোলনে। এ অনুষ্ঠানের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়েছে সারাদেশের কৃষক সম্প্রদায় থেকে শুরু করে বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ। এ অনুষ্ঠানের পক্ষ থেকে নেয়া একেকটি পদক্ষেপ দেশবাসীকে নতুন নতুনভাবে আলোড়িত করেছে। হৃদয়ে মাটি ও মানুষ-এর নাগরিক কৃষির নিয়মিত আয়োজন ছাদকৃষি। এ অনুষ্ঠানটি প্রচারিত হয় হৃদয়ে মাটি ও মানুষের আরেকটি আয়োজন হৃদয়ে মাটি ও মানুষের ডাক অনুষ্ঠানে। এ অনুষ্ঠানটিও পরিণত হয়েছে শহরে কৃষি অনুশীলনের এক সামাজিক আন্দোলন হিসেবে। ২১ বছরে পদার্পণ উপলক্ষে হৃদয়ে মাটি ও মানুষের উপস্থাপক, কৃষি উন্নয়ন ও গণমাধ্যমব্যক্তিত্ব শাইখ সিরাজ বাংলাদেশ ও বিশ্বময় বসবাসকারী বাঙালিদের অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।








