ইসরায়েলগামী বিমানের ১৭৪ আরোহীর প্রাণ বাঁচালেন ছুরিকাহত ভারতীয় পাইলট

ছবি: সংগৃহীত
ছুরিকাঘাতে আহত হয়েও ইসরায়েলগামী বিমানের ১৭৪ আরোহীর প্রাণ বাঁচাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন ভারতীয় পাইলট ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্চার। তার সাহসিকতার প্রশংসা করে তাকে ‘সত্যিকারের নায়ক’ বলেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এ তথ্য জানিয়েছে।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দুবাই থেকে তেল আবিবগামী ফ্লাইদুবাইয়ের এফজেড ১০৭৩ ফ্লাইটে এ ঘটনা ঘটে। ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের দাবি, সহ-পাইলট ককপিটে ক্যাপ্টেন মাচ্চারকে ছুরিকাঘাত করেন এবং বিমানটি বিধ্বস্ত করার চেষ্টা করেন।
নেতানিয়াহু জানান, গুরুতর আহত হওয়ার পরও ক্যাপ্টেন মাচ্চার প্রতিরোধ করেন এবং ককপিটের দরজা খুলে দেন। পরে যাত্রী ও ক্রুরা মিলে হামলাকারীকে নিয়ন্ত্রণে আনেন। তার মতে, পাইলটের এই ভূমিকার কারণে বড় ধরনের বিমান দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে।
ঘটনার পর বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স ৮ বিমানটি সৌদি আরবের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় তাবুকে জরুরি অবতরণ করে। ফ্লাইট ট্র্যাকিং সেবা ফ্লাইটরাডার২৪-এর তথ্য অনুযায়ী, মাত্র এক মিনিটে বিমানটি ৩৩ হাজার ফুট থেকে প্রায় ১৭ হাজার ফুট উচ্চতায় নেমে যায়।
নেতানিয়াহু বলেন, বিমানের বেশিরভাগ যাত্রী ছিলেন ইসরায়েলি। ইসরায়েলের দিকে যাওয়ার সময় সহ-পাইলট বিমানটি বিধ্বস্ত করার চেষ্টা করেছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে তার পরিচয় ও হামলার উদ্দেশ্য এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। অবতরণের পর সৌদি কর্তৃপক্ষ তাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে।
ঘটনার তদন্ত চলায় ইসরায়েলগামী এবং ইসরায়েল থেকে আসা সব ফ্লাইট সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে ফ্লাইদুবাই। সংস্থাটি ঘটনাটিকে ককপিটে একটি ‘বিরোধ’ হিসেবে বর্ণনা করেছে।
এদিকে ইসরায়েলগামী সব বিমানের পাইলটদের পরিচয় ও নিরাপত্তা-সংক্রান্ত তথ্য যাচাই করার ঘোষণা দিয়েছে দেশটির সরকার।
ঘটনার সময় এক যাত্রী ইয়ানিভ হায়ুন ককপিটে ঢুকে বিমানটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করেন। তিনি জানান, টেলিভিশনে দেখা দৃশ্যের কথা মনে করে নিয়ন্ত্রণের স্টিক টেনে বিমানটি ওপরে তোলার চেষ্টা করেছিলেন। পরে ক্রুরা নিয়ন্ত্রণ নেন।
ফ্লাইদুবাইয়ের একটি উদ্ধারকারী ফ্লাইটে যাত্রীদের তাবুক থেকে তেল আবিবের বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরে নিয়ে যাওয়া হয়।
ভারতীয় দূতাবাস জানিয়েছে, আহত ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্চারকে তাবুকের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তিনি প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিচ্ছেন এবং তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানা গেছে।






