ইরান যুদ্ধ নিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, তা নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু-র মধ্যে মতপার্থক্যের খবর প্রকাশ পেয়েছে।
বৃহস্পতিবার ২১ মে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, ইরানকে ঘিরে কৌশল নির্ধারণে দুই নেতার মধ্যে প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী উত্তেজনাপূর্ণ ফোনালাপ হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফোনালাপে নেতানিয়াহু ইরানের বিরুদ্ধে বিমান হামলা পুনরায় শুরু করার পক্ষে জোর দেন। অন্যদিকে ট্রাম্প যুদ্ধের পথে ফেরার আগে কূটনৈতিক আলোচনাকে আরও সময় দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
অ্যাক্সিওস-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, আলোচনার সময় নেতানিয়াহু ট্রাম্পকে বলেন, সম্ভাব্য হামলা স্থগিত করা একটি ‘ভুল’ সিদ্ধান্ত ছিল এবং পরিকল্পনা অনুযায়ী অভিযান চালিয়ে যাওয়া উচিত ছিল। ইসরায়েলি সূত্রগুলোর দাবি, ফোনালাপের পর নেতানিয়াহু চরম হতাশ ও ক্ষুব্ধ ছিলেন। একজন মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, ফোন কলের পর বিবির (নেতানিয়াহু) মেজাজ খুব খারাপ ছিল।
তবে ট্রাম্প মনে করছেন, এখনও আলোচনার মাধ্যমে একটি সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব। সূত্রের বরাতে জানা যায়, মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাতার ও পাকিস্তান একটি ‘অভিপ্রায়পত্র’ বা সমঝোতার কাঠামো নিয়ে কাজ করছে, যাতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষর করতে পারে। এরপর ৩০ দিনের আলোচনা পর্বে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও হরমুজ প্রণালী উন্মুক্ত রাখাসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ট্রাম্প প্রকাশ্যে দুই দেশের পরিকল্পনায় ঐক্যের বার্তা দেন। তিনি বলেন, ইরান ইস্যুতে নেতানিয়াহু ‘আমি যা চাইব তাই করবেন’, একইসঙ্গে দুজনের সম্পর্ককে ‘ভালো’ বলেও উল্লেখ করেন।
এদিকে উপসাগরীয় মিত্রদের অনুরোধে ট্রাম্প সম্প্রতি ইরানে সম্ভাব্য সামরিক অভিযান স্থগিত করেন বলে জানা গেছে। আলোচনায় অগ্রগতি আনতে কাতার, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, তুরস্ক ও মিশর-সহ একাধিক আঞ্চলিক পক্ষ মধ্যস্থতায় যুক্ত রয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
অন্যদিকে, ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনা তাদের ‘১৪ দফা প্রস্তাব’-এর ভিত্তিতে চলছে। একইসঙ্গে তারা শর্ত দিয়েছে-যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানি জাহাজ জব্দ বন্ধ করতে হবে এবং ইসরায়েলকে লেবাননে সামরিক অভিযান থামাতে হবে।
তবে কূটনৈতিক উদ্যোগ সত্ত্বেও, নতুন প্রস্তাবে তেহরান রাজি হবে কি না এবং দুই পক্ষ সমঝোতায় পৌঁছাতে পারবে কি না—তা নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।







