চলতি বছর একাদশ শ্রেণিতে প্রায় ১৩ লাখ ৬১ হাজার আসন ফাঁকা থাকার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় গত ১৯ বছরের মধ্যে সবচেয়ে কমসংখ্যক শিক্ষার্থী পাস করায় এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি।
আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালে একাদশ শ্রেণিতে মোট আসন রয়েছে প্রায় ২৫ লাখ। এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ সব শিক্ষার্থী একাদশে ভর্তি হলেও অর্ধেকের বেশি আসন খালি থাকবে। গত বছরও একাদশ শ্রেণিতে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক আসন ফাঁকা ছিল। ২০২৫ সালে প্রায় ২৫ লাখ আসনের বিপরীতে শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছিল ৫৮ দশমিক ৭ শতাংশ। ফলে খালি ছিল ৪১ দশমিক ৩ শতাংশ আসন।
আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান বলেন, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রভাব খাটিয়ে আসনসংখ্যা বাড়ানো, শিক্ষার্থীদের শিক্ষা চক্র শেষ না করা এবং অকৃতকার্য হওয়ার মতো বিভিন্ন কারণে একাদশে বিপুলসংখ্যক আসন ফাঁকা থাকছে। এবারের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় ইংরেজি ও গণিতে বেশি শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হওয়ায় পাসের হারে বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে।
শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষার্থীর সংখ্যা ও বাস্তব চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য না রেখে কলেজগুলোতে আসন বাড়ানোর ফলে প্রতিবছরই বিপুলসংখ্যক আসন খালি থাকছে। এই পরিস্থিতিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আসনসংখ্যা নির্ধারণে নতুন করে পরিকল্পনা ও বাস্তবভিত্তিক নীতিমালা প্রয়োজন।
উল্লেখ্য, চলতি বছর দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় অংশ নেয় ১৮ লাখ ২৯ হাজার ৪৮৫ জন শিক্ষার্থী। এর মধ্যে পাস করেছে ১১ লাখ ৩৮ হাজার ৮৭৭ জন। অর্থাৎ প্রায় ৭ লাখ শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছে।








