সামরিক বিমানে করে শ্রীলঙ্কা থেকে পালিয়ে মালদ্বীপে আশ্রয় নিয়েছেন প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপাকসে। আজ আনুষ্ঠানিকভাবে তার পদত্যাগ করার কথা রয়েছে। গোতাবায়ার ভাই সাবেক অর্থমন্ত্রী বাসিল রাজাপাকসেও দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন।
তাদের পলায়নে শ্রীলঙ্কার রাজনীতিতে রাজাপাকসে পরিবারের শাসনের আপাতত সমাপ্তি ঘটলেও দ্বীপরাষ্ট্রের নেতৃত্ব সংকট আরও ঘণীভূত হয়েছে।
অর্থনৈতিক সংকটের মুখে রাস্তায়-রাস্তায় বিক্ষোভ, বাসভবন আন্দোলনকারীদের দখলে-এমন অবস্থায় সামরিক বাহিনীর কাছে আশ্রয় নিয়েছিলেন গোতাবায়া রাজাপাকসে। ঘোষণা দিয়েছিলেন বুধবার পদত্যাগ করবেন। তবে তার আগেই দেশ ছেড়ে পালালেন গোতাবায়া। তাকে বহনকারী সামরিক বিমান বুধবার বাংলাদেশ সময় ভোর ৪টায় মালদ্বীপের মালেতে পৌঁছায়। সে সময় গোতাবায়ার সাথে ছিলেন স্ত্রী ও দু’জন নিরাপত্তা কর্মকর্তা।
পালাতে গিয়ে বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের বাধার মুখে পড়েন গোতাবায়ার ভাই সাবেক অর্থমন্ত্রী বাসিল রাজাপাকসে। পরে আরেকটি ফ্লাইটে দেশ ছাড়েন তিনি। বিভিন্ন গণমাধ্যম বলছে: যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমিয়েছেন মার্কিন নাগরিকত্বধারী বাসিল।
শ্রীলঙ্কার রাজনীতিতে রাজাপাকসে পরিবারের প্রভাব প্রায় ৭ দশকের। ১৯৩৬ সাল থেকে এই পরিবারের সদস্যরা আঞ্চলিক বা কেন্দ্রীয় সরকারে এমপি বা মন্ত্রী। ২০০৯ সালে তামিল টাইগারদের পরাজিত করে ২৬ বছরের গৃহযুদ্ধের অবসান ঘটিয়ে জনপ্রিয়তা পান প্রেসিডেন্ট মাহিন্দা রাজাপাকসে। সেই সময়ে প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ছিলেন তার ভাই গোতাবায়া। ২০১৯ সালে গোতাবায়া প্রেসিডেন্ট হন। ভাই মাহিন্দাকে প্রধানমন্ত্রী করেন এবং সংবিধান সংশোধন করে প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা বাড়ান। গভীর অর্থনৈতিক সংকটের মুখে শ্রীলঙ্কায় বিক্ষোভ দানা বাঁধে। লঙ্কান রাজনীতিতে রাজাপাকসেদের পরিবারতন্ত্রকেই এ জন্য দায়ী করা হয়।
গোতাবায়া রাজাপাকসের পালিয়ে যাওয়ার খবরে কলম্বোসহ শ্রীলঙ্কার বিভিন্ন শহরে আনন্দ-উল্লাস করছেন আন্দোলনকারীরা। একইসাথে প্রশ্ন উঠেছে-কে আসছেন শ্রীলঙ্কার নেতৃত্বে? বিরোধীদলগুলো সর্বদলীয় জোট সরকারের কথা বললেও সমঝোতার উদ্যোগ নেই। আবার সর্বদলীয় জোট সরকারে জনগণ সমর্থন দেবে কিনা তা নিয়েও প্রশ্ন আছে। সংবিধান অনুুযায়ী প্রধানমন্ত্রী রনিল বিক্রমাসিংহের প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালনের কথা থাকলেও, বিক্ষোভের মুখে তিনিও পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন। সংবিধান বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ক্ষমতা গ্রহণে এগিয়ে আসতে পারেন স্পিকার মাহিন্দা ইয়াপা আবেওয়ার্দানা। তবে তাকেও রাজাপাকসে পরিবারের বন্ধু হিসেবে দেখেন বেশিরভাগ আন্দোলনকারী। ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট যিনি হবেন, ভোটের মাধ্যমে এমপিদের মধ্য থেকে নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ৩০ দিন সময় পাবেন তিনি।








