বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনায় আজ শুক্রবার দেশের প্রতিটি মসজিদ, মন্দির এবং অন্যান্য ধর্মীয় সম্প্রদায়ের উপাসনালয়ে দোয়া ও প্রার্থনার কর্মসূচি ঘোষণা দিয়েছে বিএনপি।বৃহস্পতিবার রাজধানীর নয়াপল্টনে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কর্মসূচির ঘোষণা দেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
খালেদা জিয়ার আশু সুস্থতা কামনায় মন্দির, গির্জা ও প্যাগোডাসহ অন্যান্য উপাসনালয়ে স্ব স্ব ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মানুষদের সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা করার জন্য অনুরোধ জানিয়েছে বিএনপি।এর আগে বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা ২০ মিনিটে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার আশু রোগমুক্তি কামনা করে শুক্রবার বাদ জুমা দেশের সব মসজিদে দোয়ার আহ্বান জানিয়েছিল অন্তর্বর্তী সরকার।
খালেদা জিয়ার মেডিকেল বোর্ড ও বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা অপরিবর্তিত। কারিগরি সমস্যার কারণে এয়ার অ্যাম্বুলেন্স না আসায় তাঁর লন্ডন যাত্রা বিলম্ব হচ্ছে। তবে এটি দিনের যেকোনো সময়ে হতে পারে।আজ তার পুত্রবধূ জুবাইদা রহমান লন্ডন থেকে দেশে এসে পৌঁছালে খালেদা জিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য লন্ডনে নেওয়ার কথা রয়েছে।লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দর থেকে স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় জুবাইদা রহমান ঢাকার উদ্দেশে রওনা করেন। এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে তিনি খালেদা জিয়ার সঙ্গে লন্ডনে ফিরতে পারেন। তবে সব কিছু মিলিয়ে খালেদা জিয়ার লন্ডন যাত্রা সন্ধ্যা নাগাদ গড়াতে পারে বলে ধারণা করছেন সিভিল এভিয়েশন ও খালেদা জিয়ার চিকিৎসা ও নিরাপত্তা সংশ্লিষ্টরা।এদিকে কাতারের রয়্যাল এয়ার অ্যাম্বুলেন্সটি ঢাকায় অবতরণের আগাম প্রস্তুতি হিসেবে ইতোমধ্যে বিমানবন্দর সুইপিং করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। খালেদা জিয়ার নিরাপত্তায় নিয়োজিত স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্সের (এসএসএফ) সদস্যরাও বিমানবন্দরে রয়েছেন। এয়ার অ্যাম্বুলেন্সটি তারা পর্যবেক্ষণ ও নিরাপত্তার বিষয়টি পর্যালোচনা করবেন। তাদের নিরাপত্তা নিশ্চয়তা পাওয়ার পর খালেদা জিয়াকে হেলিকপ্টারে করে এভারকেয়ার হাসপাতাল থেকে বিমানবন্দরে নেওয়া হবে।
৮০ বছর বয়সী খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন ধরে আর্থ্রাইটিস, ডায়াবেটিস এবং কিডনি, লিভার, ফুসফুস ও চোখের বিভিন্ন জটিলতায় ভুগছেন। গত ২৩ নভেম্বর তাকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে গত ২৭ নভেম্বর তাকে হাসপাতালের করোনারি কেয়ার ইউনিটে নেওয়া হয়।
এভারকেয়ার হাসপাতালের করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা টানা এক সপ্তাহ ধরে অপরিবর্তিত আছে। বাংলাদেশের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের পাশাপাশি আমেরিকা (জনস হপকিন্স), ইউকে (লন্ডন ক্লিনিক) এবং চীনের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে গঠিত একটি যৌথ মেডিকেল টিমের অধীনে তার চিকিৎসা কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
গত বুধবার (৩ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে দেখতে এভারকেয়ার হাসপাতালে যান অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। এ ছাড়া গত মঙ্গলবার (২ ডিসেম্বর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে এভারকেয়ার হাসপাতালে যান বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। এ সময় তিনি বিএনপি চেয়ারপারসনের চিকিৎসার খোঁজখবর নেন। একইদিন বিএনপি চেয়ারপাসনকে দেখতে এভারকেয়ার হাসপাতালে যান সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর প্রধান। রাত ৯টার দিকে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল এম নাজমুল হাসান ও বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খান এভারকেয়ার হাসপাতালে যান।