কতটা বছর পেরিয়ে গেলে ফাইনালের দেখা পাওয়া যায়? প্রশ্নটার উত্তর এখন ক্রিকেট বিশ্বের জানা। দুঃসহ স্মৃতি পেছনে ফেলে ৩২ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে সাউথ আফ্রিকা প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালের টিকিট কাটল। ৯ উইকেটের বিশাল জয়ে শিরোপা জয় থেকে একধাপ দূরে এইডেন মার্করামের দল।
ত্রিনিদাদ অ্যান্ড টোবাগোর ব্রায়ান লারা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রথম সেমিফাইনালে বৃহস্পতিবার টস জিতে আগে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় আফগানিস্তান। ১১.৫ ওভারে সবগুলো উইকেট হারিয়ে মাত্র ৫৬ রানে গুটিয়ে যায়। প্রোটিয়ারা ৮.৫ ওভারে ১ উইকেট হারিয়ে বহুল কাঙ্ক্ষিত ফাইনালের টিকিট কাটে।
১৯৯২ সালে প্রথমবার ওয়ানডে বিশ্বকাপ খেলা সাউথ আফ্রিকা সেমিফাইনালে হেরে বেদনায় পুড়েছিল। টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপেও পথচলা ছিল না সহায়। অবশেষে নেলসন ম্যান্ডেলার দেশ হাসল। দীর্ঘ প্রতীক্ষা আর ধৈর্যের ফল পাওয়া দলটি প্রথমবার শিরোপা জয়ের স্বপ্নে এখন বিভোর।
ওয়ানডে বিশ্বকাপে পাঁচবার সেমিতে খেলেও সাউথ আফ্রিকা ফাইনালের দেখা পায়নি। ২০০৯ ও ২০১৪ সালে টি-টুয়েন্টির বিশ্বআসরে সেমিতে থামতে হয়। এবার সেই ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি হতে দিল না মার্করামবাহিনী। শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে বিজয়ী হলে টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথম দল হিসেবে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হবে সাউথ আফ্রিকা।
স্বল্প রানে জয়ের লক্ষ্য তাড়ায় শুরুতে অবশ্য প্রোটিয়ারা ধাক্কা খায়। ফজলহক ফারুকির দ্বিতীয় ওভারের পঞ্চম বলে ব্যক্তিগত ৫ রানে বোল্ড হন কুইন্টন ডি কক। পরের ওভারে বল হাতে নেন নাভিন-উল-হক। ওভারের চতুর্থ বলটি এইডেন মার্করামের ব্যাট ছুঁয়ে উইকেটরক্ষকের গ্লাভসবন্দি হয়। বিস্ময়করভাবে রাহমানুল্লাহ গুরবাজ রিভিউয়ের আবেদন না করায় বেঁচে যান সাউথ আফ্রিকা অধিনায়ক।
পাওয়ার প্লের ৬ ওভারে শান্ত মেজাজের ব্যাটিংয়ে বোর্ডে সাউথ আফ্রিকা তোলে ১ উইকেটে ৩৪ রান। জয়ের বন্দরে পৌঁছাতে দলটি তাড়াহুড়ো করেনি।
রেজা হেনড্রিক্স ও মার্করামের অবিচ্ছিন্ন ৫৫ রানের জুটিতে একপেশে খেলায় অনায়াসে ফাইনালে পা রাখে সাউথ আফ্রিকা। হেনড্রিক্স ২৫ বলে ৩ চার ও এক ছক্কায় ২৫ এবং মার্করাম ২১ বলে ৪টি চারে ২৩ রানে অপরাজিত থাকেন।
এর আগে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুটা ভালো হয়নি আফগানিস্তানের। টুর্নামেন্টজুড়ে ছন্দে থাকা ওপেনিং ব্যর্থ হয় প্রোটিয়াদের বিপক্ষে। ১৬ রানে দুই ওপেনার রাহমানুল্লাহ গুরবাজ শূন্য ও ইব্রাহিম জাদরান ২ রানে ফিরে গেলে চাপে পড়ে এশিয়ার দলটি।
এরপর আর কাজটা ঠিকঠাক করতে পারেননি কেউ। পাওয়ার প্লেতে ৫ উইকেট হারিয়ে কেবল ২৮ রান সংগ্রহ করে ইতিহাসে প্রথমবার সেমিফাইনাল খেলা আফগানিস্তান।
বড় টুর্নামেন্টের স্নায়ুচাপ ধরে রাখতে না পেরে একে একে আউট হতে থাকে আফগান ব্যাটাররা। কেবল আজমাতুল্লাহ ওমরজাইয়ের ব্যাট থেকে আসে ১২ বলে ১০ রান। বাকিদের কেউই ছুঁতে পারেননি দুঅঙ্কের ঘর। শেষপর্যন্ত ৫৬ রানে গুটিয়ে যায় ফাইনাল খেলার স্বপ্ন দেখা আফগানিস্তান।
সাউথ আফ্রিকার হয়ে স্পিন জাদু দেখান তাবরাইজ শামসি। ১.৩ ওভার বল করে ৬ রান দিয়ে ৩ উইকেট নেন এ বাঁহাতি। মার্কো জানসেন শিকার করেন ৩ উইকেট। রাবাদা ও নর্টজে নেন ২টি করে উইকেট।







