এক নারী নাগরিকের সঙ্গে অনলাইন বার্তা বিনিময়কে ঘিরে সৃষ্ট বিতর্কের কারণে সিঙ্গাপুরের ভারপ্রাপ্ত মুসলিমবিষয়ক মন্ত্রী ফয়সাল ইব্রাহিম পদত্যাগ করেছেন। একই সঙ্গে তিনি ক্ষমতাসীন পিপলস অ্যাকশন পার্টি (পিএপি) এবং সংসদ সদস্যের পদও ছেড়েছেন।
সোমবার (২০ জুলাই) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম দ্য স্ট্রেইটস টাইমস-এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রধানমন্ত্রী লরেন্স ওংকে দেওয়া পদত্যাগপত্রে ফয়সাল ইব্রাহিম বলেন, ওই নারীর সঙ্গে তার কোনো শারীরিক সম্পর্ক ছিল না এবং তিনি কখনোই তাদের যোগাযোগকে সে ধরনের সম্পর্কে রূপ দিতে চাননি। তবে তিনি স্বীকার করেন, বিষয়টি পরিচালনায় তার বিচারবোধে ঘাটতি ছিল এবং একজন রাজনৈতিক নেতা হিসেবে তার কাছ থেকে যে আচরণ প্রত্যাশিত ছিল, তিনি সেই মান বজায় রাখতে পারেননি। তিনি লেখেন, আলোচনাগুলো যেভাবে সামলেছি এবং আরও আগে স্পষ্ট সীমারেখা নির্ধারণ করতে ব্যর্থ হয়েছি, তাতে আমার বিচারবুদ্ধির অভাব ছিল। পরিবারের প্রতি আরও সময় ও মনোযোগ দিতে রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলেও জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী লরেন্স ওং এক বিবৃতিতে জানান, প্রায় এক মাস আগে সংশ্লিষ্ট নারীর পাঠানো একটি ই-মেইলের মাধ্যমে বিষয়টি তার দপ্তরের নজরে আসে। এরপর ফয়সাল ও ওই নারীর সঙ্গে পৃথকভাবে কথা বলা হয়। পরে উভয় পক্ষ একে অপরের বিরুদ্ধে হয়রানির অভিযোগ করলে বিষয়টি পুলিশের কাছে পাঠানো হয়। তদন্ত শেষে পুলিশ এবং অ্যাটর্নি-জেনারেলের দপ্তর সিদ্ধান্তে পৌঁছায় যে, কোনো পক্ষই ফৌজদারি অপরাধ করেনি। ফলে কারও বিরুদ্ধে ফৌজদারি ব্যবস্থা নেওয়া হবে না। তবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আইনি দায় না থাকলেও একজন মন্ত্রী ও সংসদ সদস্য হিসেবে ফয়সালের আচরণ প্রত্যাশিত মান পূরণ করেছে কি না, সেটি ছিল আলাদা বিষয়। গভীরভাবে বিষয়টি বিবেচনার পর ফয়সাল নিজেই স্বীকার করেছেন যে তিনি সেই মান বজায় রাখতে ব্যর্থ হয়েছেন এবং পদত্যাগ করেছেন।
এদিকে, টেকসই উন্নয়ন ও পরিবেশ এবং প্রতিরক্ষা বিষয়ক সিনিয়র প্রতিমন্ত্রী জাকি মোহাম্মদ ভারপ্রাপ্ত মুসলিমবিষয়ক মন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। পিএপির চেয়ারম্যান ডেসমন্ড লি বলেন, ফয়সালের আরও বিচক্ষণতার পরিচয় দেওয়া উচিত ছিল এবং শুরুতেই স্পষ্ট সীমারেখা নির্ধারণ করা প্রয়োজন ছিল। তিনি বলেন, দলের সব সংসদ সদস্যের জন্য সততা ও আচরণের সর্বোচ্চ মান বজায় রাখা বাধ্যতামূলক এবং তা লঙ্ঘিত হলে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। ফয়সালের পদত্যাগ গ্রহণ করে প্রধানমন্ত্রী লরেন্স ওং তাকে লেখা এক চিঠিতে বলেন, এই পরিস্থিতিতে আপনি রাজনীতি ছাড়ছেন বলে আমি দুঃখিত। তবে আপনার আচরণ যে প্রত্যাশিত মানের নিচে ছিল, তা স্বীকার করে দায়িত্ব নেওয়ার সিদ্ধান্তের জন্য আমি আপনাকে প্রশংসা করি।
৫৮ বছর বয়সী ফয়শাল ইব্রাহিম স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র প্রতিমন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছিলেন। তিনি পিএপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ছিলেন এবং মেরিন প্যারেড-ব্র্যাডেল হাইটস গ্রুপ রিপ্রেজেন্টেশন কনস্টিটুয়েন্সির (জিআরসি) সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। ফেসবুকে দেওয়া এক বার্তায় ফয়সাল তার নির্বাচনী এলাকার বাসিন্দা ও সমর্থকদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, পরিবারের গোপনীয়তার প্রতি সম্মান জানিয়ে এ বিষয়ে আর কোনো মন্তব্য করবেন না এবং ভবিষ্যতে পরিবারের সঙ্গে আরও বেশি সময় কাটাবেন।
পিএপি জানিয়েছে, মেরিন প্যারেড-ব্র্যাডেল হাইটস জিআরসিতে কোনো উপনির্বাচন হবে না। ওই এলাকার বাকি চারজন সংসদ সদস্য বাসিন্দাদের সেবা অব্যাহত রাখবেন।







