বিনোদন

‘স্বপ্নজাল’-এর শুভ্রা, পরীর অভিনয়জীবনের সেরা অধ্যায়?

‘স্বপ্নজাল’-এর শুভ্রা, পরীর অভিনয়জীবনের সেরা অধ্যায়?

সম্পর্ক, সংসার, মাতৃত্ব, আলোচিত ঘটনা কিংবা বিতর্ক, সবকিছু ছাপিয়ে চিত্রনায়িকা পরীমনির অভিনয়জীবনে ফিরে তাকালে যে চরিত্রটি সবচেয়ে উজ্জ্বল হয়ে ওঠে, সেটি ‘স্বপ্নজাল’-এর শুভ্রা। জন্মদিনে ঢাকাই চলচ্চিত্রের এই নায়িকার সাফল্য, বদলে যাওয়া জীবন আর অভিনয়ের শক্তি নিয়ে ফিরে দেখা।

ঢাকাই চলচ্চিত্রে পরীমনি এমন এক নাম, যাকে ঘিরে দর্শকের আগ্রহের কমতি নেই। কখনো তার অভিনয়, কখনো ব্যক্তিজীবন, কখনো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া কোনো পোস্ট, আবার কখনো কোনো ঘটনা কিংবা বিতর্ক তাকে নিয়ে আসে আলোচনার কেন্দ্রে। প্রায় এক যুগের পথচলায় পরীমনিকে ঘিরে তৈরি হয়েছে নানা গল্প, তর্ক ও কৌতূহল। কিন্তু এত কিছুর ভিড়ে একটি প্রশ্ন থেকেই যায়, অভিনয়শিল্পী পরীমনিকে মনে রাখার সবচেয়ে বড় কারণ কী?

উত্তর খুঁজতে গেলে ফিরে যেতে হয় গিয়াসউদ্দিন সেলিমের ‘স্বপ্নজাল’ ছবিতে। সেখানে পরীমনি শুধু নায়িকা নন, তিনি শুভ্রা। এমন এক চরিত্র, যার সৌন্দর্যের চেয়েও বড় হয়ে ওঠে তার অনুভূতি, ভালোবাসা, অভিমান আর জীবনের নির্মম বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড়ানোর গল্প।

২৪ অক্টোবর পরীমনির জন্মদিন। প্রতিবছরই দিনটি ঘিরে থাকে বিশেষ আয়োজন। এবারও তার ব্যতিক্রম হচ্ছে না। শিউলি ফুলের প্রতি ভালোবাসা থেকে এবারের জন্মদিনের আয়োজনে এই ফুলকে বিশেষভাবে তুলে ধরতে চান তিনি। এরই মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিউলি ফুল নিয়ে কয়েকটি পোস্ট দিয়েছেন। এমনকি দুই মণ শিউলি ফুলের প্রয়োজনের কথাও জানিয়েছেন। ফলে জন্মদিনের আয়োজনে শিউলি ফুলের আবহ যে বিশেষ জায়গা করে নেবে, তা অনুমান করা যায়।

তবে জন্মদিনের এই আয়োজন, তারকাখ্যাতি কিংবা ব্যক্তিগত জীবনের নানা আলোচনার বাইরে পরীমনিকে নিয়ে কথা বলতে গেলে ফিরে আসতেই হয় সেই শুভ্রার কাছে।

যে চরিত্রে নিজেকে নতুন করে চিনিয়েছিলেন

২০১৮ সালে মুক্তি পাওয়া ‘স্বপ্নজাল’ ছিল পরীমনির অভিনয়জীবনের গুরুত্বপূর্ণ একটি বাঁক। এর আগে বাণিজ্যিক ছবির নায়িকা হিসেবে পরিচিতি পেলেও এই ছবিতে তাকে ভিন্নভাবে দেখার সুযোগ তৈরি হয়। গিয়াসউদ্দিন সেলিমের নির্মাণে শুভ্রা হয়ে ওঠে এক জটিল সময়ের মধ্য দিয়ে যাওয়া তরুণীর প্রতিচ্ছবি। ভালোবাসা, পারিবারিক সংকট, সামাজিক বাস্তবতা আর বিচ্ছিন্নতার বেদনা তার জীবনের সঙ্গে মিশে যায়।

ছবিতে শুভ্রার বিপরীতে ছিলেন ইয়াশ রোহান। অপু ও শুভ্রার সম্পর্কের মধ্য দিয়ে নির্মাতা তুলে ধরেছেন সময়, সমাজ ও বাস্তবতার টানাপোড়েন। সেখানে পরীমনির অভিনয়ের বড় শক্তি ছিল চরিত্রটির আবেগকে বিশ্বাসযোগ্য করে তোলা। তার চোখের ভাষা, নীরবতা, অভিমান কিংবা অসহায় মুহূর্তগুলো দর্শকের কাছে পৌঁছে যায় সহজেই।

‘স্বপ্নজাল’-এর প্রিমিয়ার প্রদর্শনীতে নিজের অভিনীত ছবি দেখে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েছিলেন পরীমনি। সহশিল্পী ইয়াশ রোহানকে জড়িয়ে ধরে কেঁদেছিলেন বলেও সে সময় খবর প্রকাশিত হয়। ছবিটি নিয়ে দর্শকের প্রশংসায় তার সেই আবেগের পেছনে ছিল দীর্ঘদিনের পরিশ্রমের স্বীকৃতি পাওয়ার আনন্দ।

মুক্তির পর ‘স্বপ্নজাল’ নিয়ে আলোচনায় আসে গিয়াসউদ্দিন সেলিমের আগের ছবি ‘মনপুরা’র প্রসঙ্গও। কেউ দুই ছবির তুলনা করেছেন, কেউ ‘স্বপ্নজাল’কে ‘মনপুরা’র আরেক সংস্করণ হিসেবে দেখেছেন। তবে নির্মাতা সেসব তুলনায় না গিয়ে দর্শকের নিজস্ব মূল্যায়নকেই গুরুত্ব দিয়েছিলেন। আর সেই আলোচনার মধ্যেই শুভ্রা চরিত্রে পরীমনির অভিনয় আলাদা করে নজর কেড়েছিল।

আজও তার অভিনয়জীবনের উল্লেখযোগ্য কাজের তালিকায় ‘স্বপ্নজাল’ বিশেষভাবে উচ্চারিত হয়। পরবর্তী সময়ে নানা ধরনের কাজ করলেও শুভ্রার মতো গভীর আবেগনির্ভর চরিত্রে তাকে আবারও দেখার প্রত্যাশা দর্শকের মধ্যে রয়ে গেছে।

পর্দার বাইরের পরীমনি

পরীমনির জীবন অবশ্য কখনোই শুধু চলচ্চিত্রের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি। ব্যক্তিগত সম্পর্ক, বিয়ে, বিচ্ছেদ, নানা ঘটনা ও বিতর্ক তাকে বারবার সংবাদমাধ্যমের শিরোনামে এনেছে। তার জীবন নিয়ে মানুষের কৌতূহল যেমন প্রবল, তেমনি তাকে ঘিরে মতভেদও কম নয়।

এই আলোচনার একটি বড় অংশ তৈরি হয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। ফেসবুকে তার বিপুল অনুসারীসংখ্যা তাকে দেশের সবচেয়ে আলোচিত তারকাদের একজন করে তুলেছে। ব্যক্তিগত অনুভূতি থেকে শুরু করে সন্তানদের সঙ্গে কাটানো মুহূর্ত, জন্মদিনের আয়োজন কিংবা জীবনের নানা উপলব্ধি, প্রায় সবকিছুতেই অনুসারীদের আগ্রহ দেখা যায়।

তবে তারকাখ্যাতির এই উজ্জ্বল দিকের পাশাপাশি ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে অতিরিক্ত আলোচনা একজন অভিনয়শিল্পীর কাজকে কখনো কখনো আড়ালও করে দেয়। পরীমনির ক্ষেত্রেও সেটি ঘটেছে। তার অভিনীত ছবির চেয়ে ব্যক্তিজীবনের কোনো ঘটনা বেশি আলোচনায় এসেছে, এমন নজির রয়েছে।

কিন্তু একজন অভিনেত্রীকে মূল্যায়নের ক্ষেত্রে শেষ পর্যন্ত তার কাজই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি আলোচিত বা বিতর্কিত হতে পারেন, তার সিদ্ধান্ত নিয়ে দর্শকের ভিন্নমতও থাকতে পারে। তাতে অভিনয়শিল্পী হিসেবে তার সম্ভাবনা কিংবা কোনো নির্দিষ্ট চরিত্রে তার সাফল্যের গুরুত্ব কমে যায় না। পরীমনিকে নিয়ে নতুন করে ভাবতে গেলে এই পার্থক্যটি মনে রাখা জরুরি।

মাতৃত্বে বদলে যাওয়া জীবন

সাম্প্রতিক সময়ে পরীমনির কথাবার্তায় মাতৃত্বের প্রসঙ্গ বিশেষভাবে উঠে এসেছে। তার দুই সন্তান পূণ্য ও প্রিয়মকে ঘিরেই এখন জীবনের বড় অংশজুড়ে তার পরিকল্পনা। সন্তানদের ভবিষ্যতের জন্য অর্থ সঞ্চয় করা, তাদের ভালোভাবে বড় করে তোলা এবং তাদের সঙ্গে আরও বেশি সময় কাটানোর আকাঙ্ক্ষার কথা তিনি বিভিন্ন সময়ে জানিয়েছেন।

গেল বছর একটি পডকাস্টে পরীমনি বলেছিলেন, আগে তিনি উপার্জন থেকে সঞ্চয়ের বিষয়ে ততটা ভাবতেন না। এখন সন্তানদের কথা ভেবে নিয়মিত সঞ্চয় করেন। তার উপার্জন থেকে কিছু অর্থ সন্তানদের ভবিষ্যতের জন্য রেখে দিতে চান।

একই অনুষ্ঠানে মা হিসেবে নিজের দায়িত্ব নিয়েও কথা বলেছেন এই অভিনেত্রী। তার বক্তব্যে স্পষ্ট, ব্যক্তিগত জীবনে নানা অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যাওয়ার পর সন্তানদের ঘিরেই এখন তার ভবিষ্যৎ ভাবনা আবর্তিত হচ্ছে।

সন্তানদের জন্মদিন উদযাপনেও তার সেই ভালোবাসার প্রকাশ দেখা যায়। রঙিন আয়োজন, কেক কাটা, তারকাদের উপস্থিতি কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাগ করে নেওয়া মুহূর্তগুলোতে সন্তানদের নিয়ে তার উচ্ছ্বাস ধরা পড়ে।

বিষয়:গিয়াসউদ্দিন সেলিম চিত্রনায়িকা পরীমনি স্বপ্নজাল

আরও পড়ুন

পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…