ব্রিটিশ এমপি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভাগনি টিউলিপ সিদ্দিক বলেছেন, কোন সন্দেহ নেই বাংলাদেশে কিছু মানুষ ভুল করেছে আর তাদের শাস্তি পাওয়া উচিত। শুধু বলতে চাই, আমি তাদের মধ্যে পড়ি না।
টিউলিপ বলেন, দিনশেষে তিনি (শেখ হাসিনা) আমার খালা আর এই সম্পর্ক অস্বীকার করবার কিছু নেই। যদিও বিষয়টি অদ্ভুত লাগবে শুনতে তা-ও মনে হয় কেউ যেন আমাকে বলছে, তোমার জন্ম কোথায় এবং কীভাবে হয়েছিল, এ নিয়ে তোমার আগে থেকেই জানা উচিত ছিল।
তিনি বলেন, এক সপ্তাহ আগে একজন সাংবাদিকের মাধ্যমে তিনি জানতে পারেন যে, বাংলাদেশে তার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করা হয়েছে।
ব্রিটিশ পত্রিকা দ্য গার্ডিয়ানকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন টিউলিপ।
টিউলিপের বিরুদ্ধে অভিযোগ, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভাগনি হিসেবে প্রভাব খাটিয়ে টিউলিপ মায়ের, ভাইয়ের ও বোনের জন্য ঢাকার পূর্বাচলে একটি জমি নিশ্চিত করেছিলেন। তিনি এই অভিযোগকে ‘সম্পূর্ণ হাস্যকর’ বলে মন্তব্য করেন।
টিউলিপ সিদ্দিক জানান, তিনি ব্রিটিশ আইনজীবী হুগো কিথ কেসির পরামর্শ নিচ্ছেন। এখনও তিনি কোনো আনুষ্ঠানিক সমন পাননি।
তিনি বলেন, ‘আমি যেন এক ধরনের ‘কাফকায়েস্ক দুঃস্বপ্নে’ আটকে আছি, যেখানে আমাকে বিদেশে বিচারের মুখোমুখি করা হচ্ছে অথচ আমি এখনো জানি না অভিযোগগুলো আসলে কী।’
গত বছরের জুলাইয়ে লেবার পার্টি ক্ষমতায় আসার পর ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের ঘনিষ্ঠ সহযোগী সিদ্দিক অর্থনৈতিক সচিব ও সিটি মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পান। তিনি আর্থিক খাত পর্যালোচনায় সক্রিয়ভাবে কাজ করছিলেন।
টিউলিপের দাবি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের শেষ দিকে নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ও শেখ হাসিনার ‘রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী’ ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের পর থেকেই, বাংলাদেশের রাজনীতি তার জীবনে প্রভাব ফেলতে শুরু করে। অচেনা কিছু ওয়েবসাইটে খবর ছাপা হতে থাকে যে, তিনি রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্প থেকে ৫০০ কোটি ডলার আত্মসাৎ করেছেন।
এ নিয়ে ২০১৩ সালের এক ছবি সামনে আসে, যেখানে মস্কোতে শেখ হাসিনা ও ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে সিদ্দিককে দেখা যায়। সিদ্দিক ব্যাখ্যা দেন, তিনি ও তার বোন কেবল বেড়াতে গিয়েছিলেন ও শেষ দিনে একটি আনুষ্ঠানিক চায়ের দাওয়াতে দুই মিনিটের জন্য পুতিনের সঙ্গে তার দেখা হয়েছিল।
টিউলিপ জানান, তিনি যুক্তরাজ্যে সফরকালে মুহাম্মদ ইউনুসের সঙ্গে দেখা করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা তা প্রত্যাখ্যান করেন।
অন্যদিকে, যুক্তরাজ্যের অপরাধ দমন সংস্থা শেখ হাসিনা সংশ্লিষ্ট দুই ব্যক্তির প্রায় ৯ কোটি পাউন্ড মূল্যের সম্পত্তি জব্দ করেছে, যার একটিতে টিউলিপের মা বসবাস করতেন। টিউলিপ বলেন, এর সঙ্গে তার কোনো সম্পর্ক নেই।







