সিলেটের সীমান্ত দিয়ে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার সময় আটক হওয়া সাবেক বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিককে স্থানীয় লোকজন প্রথমে চেনেননি। এক ব্যক্তিকে অবৈধ পথে ভারতে পাঠানো হচ্ছে- শুধু এ তথ্য পেয়ে এলাকাবাসী তৎপর হন। বিষয়টি বিজিবি ক্যাম্পেও জানান তারা। পরে শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিককে আটকের দুটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়ি পড়ে।
সিলেট সীমান্তবর্তী এলাকায় ধারণ করা একটি ভিডিওতে দেখা গেছে: জঙ্গলের মতো একটি স্থানে শামসুদ্দিন ক্লান্ত ও বিধ্বস্ত অবস্থায় কলাপাতায় শুয়ে আছেন। তার পরনে গাঢ় নীল চেকের হাফহাতা শার্ট আর মাটিমাখা ময়লা-ভেজা প্যান্ট।
ভিডিওতে একজনের উদ্দেশে শামসুদ্দিনকে বলতে শোনা যায়: আমি তোমাদের পয়সা দিয়ে দেব। পয়সা আমি দেব। আমার ভাইবোনেরা দিয়ে দেবে।
জবাবে ওই ব্যক্তি বলেন: আমাদের পয়সার কোনো প্রয়োজন নেই। ঠিক আছে? আপনি যদি সেফটি মানে…কথার মাঝখানে ওই ব্যক্তিকে থামিয়ে শামসুদ্দিন চৌধুরী বলেন, ওই ফালতু লোক দুইটারে আনিও না। আমি এই দেশে (ভারতে) এত কষ্ট করে এসেছি কি বাংলাদেশে ফেরত যাওয়ার জন্য?
শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিককে আটক করার পর অপর একটি ভিডিওতে দেখা যায়:এক ব্যক্তি শামসুদ্দিনের গলায় থাকা গোলাপি রঙের মাফলার ধরে আছেন। তাকে বিভিন্ন প্রশ্ন করা হচ্ছে। শামসুদ্দিনকে তখন আতঙ্কিত, ভীত ও হতাশ দেখাচ্ছিল।
ওই ভিডিওতে একজনকে বলতে শোনা যায়:আপনার বাড়ি কোথায়? উত্তরে তিনি বলেন, বাড়ি মুন্সিগঞ্জ। এরপর নাম জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার নাম বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক।
তখন একজনকে বলতে শোনা যায়: বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক? ওই মানিক্যা…, যে কয় দিন আগে একজন উপস্থাপককে ইয়ে করছে! চ্যানেল আইতে, তখন শামসুদ্দিন বলেন, হ্যাঁ।
প্রশ্নকর্তা এবার পিতার নাম জানতে চাইলে তিনি বলেন: পিতার নাম মরহুম আবদুল হাকিম চৌধুরী।
এবারের প্রশ্ন ছিলো আপনি ইন্ডিয়া পালাইতেছিলেন কেনে? বলেন? শামসুদ্দিন বলেন: ভয়ে পালাইতেছি।
প্রশ্নকর্তা এবার জিজ্ঞেস করেন-কার ভয়ে? উত্তরে মানিক বলেন: প্রশাসনের ভয়ে। প্রশ্নকর্তা এবার বলেন, ওই যে একটি মেয়েকে (উপস্থাপক) বলেছিলেন ইয়ের বাচ্চা। পাশ থেকে আরেকজন বলেন, দীপ্তি চৌধুরীকে বলেছিলেন। তখন তিনি বলেন, তার জন্য আমি ক্ষমাও চেয়েছি। আমি বলি আপনারে, আমি ইয়ের রোগী…।
শার্ট তুলে মানিক তখন বুকের অস্ত্রোপচারের ক্ষত দেখানোর চেষ্টা করলে তাকে থামিয়ে দিয়ে প্রশ্নকর্তা বলেন: কত রোগী…মিডিয়াতে তো খুব সুন্দর কথা বলেন। এ সময় আরেকজন প্রশ্নকর্তা বলেন, আচ্ছা আচ্ছা শোনেন, আপনাকে যখন ধরেছে, তখন কী কী ছিল আপনার সাথে?
শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক বলেন: আমার সাথে ছিল ব্রিটিশ পাসপোর্ট, বাংলা পাসপোর্ট, টাকা, কয়টা ডেবিট কার্ড আর ক্রেডিট কার্ড। এরপর প্রশ্নকর্তা আবার প্রশ্ন করেন, কালকে যে টাকাগুলো ছিল, আজকে কি কোনো টাকা ছিল সাথে?
জবাবে তিনি বলেন: আজকে টাকা ছিল না। কত জানি, ৪০ হাজার টাকা ছিল। প্রশ্নকর্তা এরপর জানতে চান, কালকে যে দুজন টাকা নিয়েছিল, ওদের কাছে কত টাকা ছিল?’শামসুদ্দিন বলেন, ধরেন ৬০-৭০-এর মতো। ওরা নিয়ে গেছে।’ প্রশ্নকর্তা জানতে চান, ৬০-৭০ লাখ? মানিক বলেন, হ্যাঁ।
প্রশ্নকর্তা জানতে চান, নৌকাওয়ালাও সাথে নিয়ে গেছে? শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক বলেন, না, ওই দুই ছোকরা নিছে। আর কেউ ছিল না। প্রশ্নকর্তা এবার বলেন, ওনাদের ফোন নম্বর আছে আপনার কাছে? যারা নিছে? শামসুদ্দিন বলেন, না, কিচ্ছু নাই। আমার ফোন নম্বরটম্বর সব নিয়ে গেছে।
প্রশ্নকর্তা এবার জানতে চান, আপনি কত টাকা কন্ট্রাক্টে আসছেন?’ মানিক জবাবে বলেন, আমি ১৫ হাজার টাকা ওদের বলছিলাম। ওইটা আমি দিছি। কিন্তু পরে ওই দুই ছেলে আমারে মাইরাধইরা টাকা নিয়ে গেছে।
তখন অন্য আরেক ব্যক্তি জানতে চান, এই মাইরটা কোন জায়গাত মারছে, ভাইয়া? বর্ডারে আইনা মারছে, না? মানিক জবাবে বলেন, না, ভিতরে। ওই প্রশ্নকর্তার এবার জিজ্ঞাসা, তারার ভিতরে? ইন্ডিয়ার ভিতরে। মানিক বলেন, ইন্ডিয়ার ভিতরে।
এবার আরেকজন প্রশ্ন করেন, আপনে তো আমাদের বাংলাদেশের অনেকের নামে অনেক অন্যায় করেছেন, জুলুম করেছেন। এটা সঠিক? মানিক উত্তরে বলেন, আমি জুলুম করি নাই। বিচারপতি হিসেবে যেগুলো রায় করার, সেগুলো দিছি।
তখন একজন বিজিবি সদস্য বাধা দিয়ে বলেন, এইগুলো আইনি প্রক্রিয়ায় চলবে। এ কথা বলতে পারি না। বাকি যা জিজ্ঞাসা করার আমাদের ঊর্ধ্বতনরা জিজ্ঞাসা করবেন। চলেন আমরা যাই।







