বন্যা ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে প্রায় তিন সপ্তাহ বন্ধ থাকার পর আজ থেকে আবারও শুরু হচ্ছে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের এইচএসসি ও সমমানের স্থগিত পরীক্ষা। একই দিনে দেশের অন্য নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডেও পূর্বঘোষিত সূচি অনুযায়ী পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।
আজ (২৭ জুলাই) সোমবার নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে সকাল ১০টা থেকে পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, জীববিজ্ঞান (তত্ত্বীয়) প্রথম পত্র এবং ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা প্রথম পত্র পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। বিকেলে অনুষ্ঠিত হবে খাদ্য ও পুষ্টি প্রথম পত্রের পরীক্ষা। পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় বর্তমানে কার্যকর নিয়মিত রুটিন অনুসারেই অবশিষ্ট পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। তবে স্থগিতাদেশ জারির আগে যেসব পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব হয়নি, সেগুলোর জন্য পরবর্তী সময়ে নতুন সময়সূচি প্রকাশ করা হবে।
চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষার্থীরা গত ৮ জুলাইয়ের পর প্রথমবারের মতো পরীক্ষার হলে ফিরছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের ভিত্তিতে গত বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন ঘোষণা দেন, (২৭ জুলাই) সোমবার থেকে বোর্ডটির অবশিষ্ট পরীক্ষা পুনরায় শুরু হবে। অন্যদিকে, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের আলিম পরীক্ষায় ইসলামের ইতিহাস, পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র (তত্ত্বীয়) এবং তাজভিদ দ্বিতীয় পত্র (মুজাব্বিদ মাহির বিভাগ) বিষয়ে পরীক্ষা নেওয়া হবে। কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের এইচএসসি (বিএমটি) পরীক্ষার্থীরা অংশ নেবেন হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট-১ বিষয়ের পরীক্ষায়।
বন্যা–পরবর্তী পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার সার্বিক অবস্থা, পরীক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক পরিস্থিতি এবং সড়ক যোগাযোগব্যবস্থার দুর্ভোগ বিবেচনায় গত ১৬ জুলাই চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীন ২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমানের অবশিষ্ট সব পরীক্ষা স্থগিত করা হয়। একই সঙ্গে মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের আলিম এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের এইচএসসি (বিএমটি), এইচএসসি (ভোকেশনাল) ও ডিপ্লোমা ইন কমার্স পরীক্ষার অবশিষ্ট বিষয়গুলোর পরীক্ষাও স্থগিত করা হয়েছিল।
চলতি বছর দেশের নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ড মিলিয়ে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় মোট ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন নিবন্ধিত পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছেন। এর মধ্যে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীন পরীক্ষার্থী ৯৯ হাজার ৬৮৮ জন। তারা ১১৪টি কেন্দ্রে পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন। সারা দেশে পরীক্ষার জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৯ হাজার ৪৩৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং ২ হাজার ৬৯৭টি পরীক্ষা কেন্দ্র।







