ভারতের বিপক্ষে টেস্ট খেলার পর আর দলে জায়গা হয়নি কিংবদন্তি অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানের। দলে নিয়মিত থাকা অবস্থায় জানিয়েছিলেন, ২০২৫ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে খেলে ওয়ানডেতে অবসরে যাবেন। সেই চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির দলে জায়গা হয়নি ৩৭ বর্ষী মহাতারকার। ব্যাখ্যাও দিয়েছেন প্রধান নির্বাচক গাজী আশরাফ হোসেন লিপু।
গত সেপ্টেম্বরে সারে কাউন্টি ক্রিকেট ক্লাবে খেলার পর প্রশ্নবিদ্ধ হয় সাকিবের বোলিং অ্যাকশন। ইংল্যান্ড এন্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ডের (ইসিবি) সবধরনের টুর্নামেন্টে বোলিং থেকে নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয় তাকে। যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও কার্যকর হয়। পরে দুবার বোলিং অ্যাকশনের পরীক্ষা দিয়ে সাকিব পাননি ইতিবাচক ফল।
সাকিবকে নিয়ে প্রধান নির্বাচক গাজী আশরাফ বললেন, ‘সাকিবের বোলিং অ্যাকশন নিয়ে যে সমস্যায় আছে, সেটা থেকে উত্তরণের জন্য পরীক্ষা দিয়েছিল। ফলাফল নেগেটিভ হওয়ায় এখন শুধু ব্যাটার হিসেবে খেলতে পারবে। সিলেকশন প্রসেসে ওর অবস্থান ছিল ব্যাটার হিসেবে। এই দলে টিম কম্বিনেশন সাজাতে গিয়ে শুধু ব্যাটার হিসেবে ১৫ জনের দলে জায়গা দিতে পারিনি।’
‘বোর্ড সভাপতি বলেছেন কেউ রিটায়ার না করলে বিবেচনায় থাকবে। বোলিং অ্যাকশনের পর আমরা আর দ্বিতীয়বার ভাবিনি। আমাদের প্ল্যানিংয়ে সাকিব না থাকার কারণেই সেই ইস্যু নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি। আমাদের দলে থাকলে হয়তো বোর্ড থেকে আরও স্পষ্ট অবস্থান জানতে পারতাম।’
প্রধান নির্বাচক আরও বলেন, ‘পাবলিকলি, এত ওপেনলি একজন লিজেন্ডারি ক্রিকেটারকে কেন দলে রাখা গেল না এটা আলোচনা করা ভালো কথা না। এ মুহূর্তে দলে যারা আছেন তারা এগিয়ে আছেন, ঘরোয়া ক্রিকেটে খেলছেন, আস্থা সে কারণেই।’
সাকিবের ফিটনেস নিয়েও কথা বলেছেন লিপু। তার মতে, ‘একজন ২৫ বছরের তরুণ যতটা সতেজ থাকে, ৩৫ বা ৩৭ বছরের খেলোয়াড় ফিটনেসের জায়গায়, সবাই বলব না তবে অনেকের জন্য ধরে রাখা কঠিন হয়। বয়সের সাথে সাথে রিফ্লেক্স কমে, মুভমেন্ট স্লো হয়। কেউ ব্যাটিংয়ে কভার করে দেয়। যে দুটো নাম বললেন সেটাই না, বিভিন্ন নামের ক্ষেত্রেই বিবেচনায় আনতে হয়। শুধু ব্যাটার না, বোলারদের ক্ষেত্রেও।’
৫ আগস্ট দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পরিবর্তনে সাকিবের ভাগ্যেরও পরিবর্তন হয়েছে। দেশের বাইরে থেকে তিনি ভারতে এসে টেস্ট সিরিজ খেলে গেছেন। সেখানে ঘোষণা দেন অবসরের। জানান দেশের মাটিতে সাউথ আফ্রিকার বিপক্ষে মিরপুর টেস্টে খেলে আনুষ্ঠানিক বিদায়ের ইচ্ছার কথা। নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে অবশ্য শেষঅবধি দেশেই আসতে পারেননি টাইগার অলরাউন্ডার। তার টেস্ট ক্যারিয়ারও আটকে আছে সেখানেই।








