জমে উঠেছে মিরপুর টেস্ট। বৃষ্টিতে অনেকটা সময় নষ্ট হলেও পঞ্চম দিন লাঞ্চ বিরতির আগেই ৯ উইকেটে ২৪০ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ। আগে ২৭ রানে পিছিয়ে থাকায় সফরকারী পাকিস্তানের জয়ের লক্ষ্য ২৬৮ রান, তাদের হাতে থাকবে প্রায় ৭৬ ওভার।
শুক্রবার মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টসে হেরে আগে ব্যাটে নামে বাংলাদেশ। প্রথম ইনিংসে ৪১৩ রানে অলআউট হয় শান্তর দল। জবাবে ৩৮৬ রানে গুটিয়ে যায় সফরকারীরা। ২৭ রানে লিড পেয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ৭০.৩ ওভারে ৯ উইকেটে ২৪০ রান করে ঘোষণা করেছে স্বাগতিকরা। সবমিলিয়ে বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়িয়েছে ২৬৭ রান।
১৭৯ রানের লিড নিয়ে শান্ত ৫৮ এবং মুশফিক ১৬ রানে মঙ্গলবার পঞ্চম দিনের খেলা শুরু করেন। পঞ্চম দিনের প্রথম বলেই হাসান আলীর বলে অল্পের জন্য টিকে যান মুশফিকুর রহিম। টাইগার ব্যাটারের ব্যাটের কানায় বল লাগে। স্লিপে থাকা সালমান আলী আঘা ঝাপিয়ে পড়েও অল্পের জন্য বলের নাগাল না। পাওয়ায় বল থার্ড ম্যান অঞ্চল দিয়ে সীমানার বাইরে যায়।
মুশফিক অল্প সময় পরই ড্রেসিংরুমের পথ ধরেন। ৩৭ বলে ৪টি চারে ২২ রান করেন। হাসানের ফুল লেংথ ডেলিভারিতে আক্রমণাত্মক শট খেলতে গিয়ে ড্রাইভের চেষ্টা করেন। মিড অফের ওপর দিয়ে মারতে গিয়ে শান মাসুদের তালুবন্দি হন।
এরপর রক্ষণাত্মক ব্যাট করতে থাকা লিটন ২৮ বলে এক চারে ১১ রানে ক্রিজ ছাড়েন। শাহিন শাহ আফ্রিদির শর্ট পিচ ডেলিভারিতে পুল করতে গিয়ে টাইমিং ঠিকঠাক করতে পারেননি। ডিপ ফাইন লেগে থাকা হাসান আলী তার বাম দিকে সরে বাউন্ডারি লাইনে হাত বাড়িয়ে বল তালুবন্দী করেন।
দলীয় ২১৬ রানে এলবিডব্লিউর শিকার হয়ে ১৩ রানের আক্ষেপ নিয়ে মাঠ ছাড়েন নাজমুল হোসেন শান্ত। নোমান আলীর রাউন্ড দ্য উইকেটে করা মিডল স্টাম্পে ফুল লেন্থ ডেলিভারিতে শান্ত রিভার্স-সুইপ করতে গিয়ে মিস করেন। বল প্যাডে লাগলে আম্পায়ার আউট দেন। রিভিউ নিয়েও রক্ষা পাননি টাইগার অধিনায়ক, ১৫০ বলে ৭ চারে ৮৭ রানে থামে তার ইনিংস। প্রথম ইনিংসে সেঞ্চুরি করেছিলেন।
বাংলাদেশের লিড আড়াইশো ছাড়ানোর পর সাজঘরের পথ ধরেন মেহেদী হাসান মিরাজ, তাতেই টেস্টে শততম উইকেটের মাইলফলকে পা দেন নোমান আলী। অফ স্টাম্পের খানিকটা বাইরের বলটি পিচ করে ঘুরে লাফিয়ে উঠেছিল। মিরাজ রক্ষণাত্মক ভঙ্গিতে খেলার জন্য সামনের দিকে ঝুঁকেছিলেন। কিন্তু বলের স্পিন ও বাউন্স সামলাতে পারেননি। বলটি বাতাসে ভাসিয়ে ভেতরে ঢুকে আসার পর বাইরের দিকে টার্ন করে ব্যাটের ওপরের অংশে লাগে। স্লিপে দাঁড়ানো সালমান আলি আঘার হাতে সহজ একটি ক্যাচ তুলে দেন। ৩ চার ও এক ছক্কায় ২৭ বলে ২৪ রান করেন মিরাজ। খানিক পর তাইজুল ইসলাম ৩ রান করে নোমান আলির বলে বোল্ড হন।
শেষে তাসকিন আহমেদ ৫ বলে এক চার ও এক ছক্কায় ১১ রানের ইনিংস খেলে লিড আরও বাড়িয়ে নেন। নবম ব্যাটার হিসেবে হাসান আলীর বলে ইমাম-উল-হকের হাতে ধরা পড়া মাত্র বাংলাদেশ ইনিংস ঘোষণা করে।
দ্বিতীয় ইনিংসে পাকিস্তান বোলারদের মধ্যে হাসান আলি ও নোমান আলি ৩টি করে উইকেট নেন। শাহিন আফ্রিদি দুটি ও মোহাম্মদ আব্বাস নেন একটি করে উইকেট।
এর আগে প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ রান করেন নাজমুল হোসেন শান্ত। ১৩০ বলে ১০১ রান করেন অধিনায়ক। ২০০ বলে ৯১ রান করেন মুমিনুল হক। ১৭৯ বলে ৭১ রান করেন মুশফিকুর রহিম।
প্রথম ইনিংসে পাকিস্তানের মোহাম্মদ আব্বাস ৫ উইকেট নেন। শাহিন আফ্রিদি নেন ৩ উইকেট। হাসান আলি ও নোমান আলি একটি করে উইকেট নেন।
জবাবে পাকিস্তানের হয়ে আজান আওয়াইস ১৬৫ বলে ১০৩ রান করেন। আব্দুল্লাহ ফজল ৬০, মোহাম্মদ রিজওয়ান ৫৯, সালমান আঘা ৫৮ এবং ইমাম উল হক ৪৫ রান করেন।
প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের মেহেদী হাসান মিরাজ ৫টি, তাসকিন ও তাইজুল ২টি করে উইকেট নিয়েছেন। নাহিদ রানা নেন ১টি উইকেট।








