আদালতের এজলাসকক্ষে সাবেক নৌ-পরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খানের রিমান্ড শুনানি চলাকালে দুই পক্ষের আইনজীবীরা চিৎকার ও বাকবিতণ্ডা করেছেন। তবে শাজাহান খান ছিলেন বরাবরের মতোও হাস্যমুখী।
আজ শুক্রবার ৬ সেপ্টেম্বর ঢাকার মহানগর হাকিম মাহবুব আহমেদের আদালতে শুক্রবার বিকেল ৪টা ৪ মিনিটে শাজাহান খানকে আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় তিনি আদালতে উপস্থিত নেতাকর্মীদের হাত নেড়ে আশ্বস্ত করেন।
শুক্রবার বিকেল ৪ টা ২৩ মিনিটে বিচারক এজলাসে উঠেন। তাকে ১০ দিনের রিমান্ডে নিতে আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ধানমণ্ডি উপপরিদর্শক মো. খোকন মিয়া।
এসময় শাজাহান খানের পক্ষের আইনজীবী প্রাণনাথসহ আরও অনেকেই জামিন বাতিল চেয়ে শুনানি করেন। শুনানিতে আইনজীবীরা বলেন, মানবিক দৃষ্টিতে শাহজাহান খানের রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিন চাচ্ছি।
এ সময় বিএনপিপন্থি আইনজীবীরা চিৎকার করে বলেন, অনির্বাচিত সরকার। কিছুক্ষণ তাদের মধ্যে বাগবিতণ্ডা চলে।
এরপর শাহজাহান খানের আইনজীবী বলেন, তার হার্টের ৫টা ব্লক ধরা পড়েছে। ৯০ শতাংশ ব্লক রয়েছে। হাটে রিং পড়ানো হয়েছে। এরপর আবারও বিএনপিপন্থি আইনজীবীরা চিৎকার শুরু করেন।
উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত শাজাহান খানের জামিন নামঞ্জুর করে সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
গতকাল বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে গুলিতে আব্দুল মোতালিব (১৪) নামে এক কিশোর নিহতের ঘটনায় গ্রেপ্তার হন শেখ হাসিনা সরকারের সাবেক নৌ-পরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান।
গত ৪ আগস্ট রাজধানীর ধানমণ্ডি এলাকায় ছাত্র জনতার আন্দোলনে যোগ দেন আব্দুল মোতালিব। পরে তিনি বুকে ও গলায় গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। এ ঘটনায় গত ২৭ আগস্ট নিহতের বাবা আব্দুল মতিন বাদী হয়ে ধানমণ্ডি থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় শেখ হাসিনাসহ ১৭৬ জনের নাম উল্লেখ করা হয়। এছাড়া অজ্ঞাত ২৫০ থেকে ৩০০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়। এ মামলায় শাজাহানকে ২৩ নম্বর আসামি করা হয়েছে।
শাজাহান খান মাদারীপুর-২ আসন থেকে টানা আটবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। শাজাহান খান বাংলাদেশ শ্রমিক ফেডারেশনের কার্যকরী সভাপতি। তিনি ১৯৮৬ সালে প্রথমবার স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মাদারীপুর-২ আসন থেকে জাতীয় সংসদের সদস্য নির্বাচিত হন।
একই আসন থেকে পরে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মনোনয়নে ১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০১, ২০০৮, ২০১৪, ২০১৮ ও সর্বশেষ ২০২৪ সালের নির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। শাজাহান খানকে ২০০৯ সালে নৌপরিবহনমন্ত্রীর দায়িত্ব দেয় আওয়ামী লীগ সরকার।
শাজাহান খান ১৯৫২ সালের ১ জানুয়ারি মাদারীপুরে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবার নাম অ্যাডভোকেট মৌলভী আচমত আলী খান এবং মা তজন নেসা বেগম। তার বাবা ছিলেন একজন রাজনীতিবিদ, শিক্ষাবিদ, সমাজকর্মী ও জাতীয় সংসদের সদস্য।
শাজাহান খানের সহধর্মিণী সৈয়দা রোকেয়া বেগম একজন কলেজ প্রভাষক। তার বড় ছেলে আসিব খান আওয়ামী যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য এবং তার একমাত্র মেয়ে ঐশী খান টাঙ্গাইল-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য তানভীর হাসান ছোট মনিরের স্ত্রী।







