দীর্ঘ ১৭ বছর পর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশে ফেরাকে কেন্দ্র করে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এলাকায় নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
বুধবার সন্ধ্যা থেকেই পুরো বিমানবন্দর এলাকাকে কয়েক স্তরের নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে দেওয়া হয়েছে। এই বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরবর্তী ২৪ ঘণ্টা বলবৎ থাকবে।
নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) নিজস্ব সিকিউরিটি বিভাগ ‘এভসেক’, বিমানবাহিনী, সেনাবাহিনী, এয়ারপোর্ট আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন, র্যাব ও ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) যৌথভাবে কাজ করছে। ইতোমধ্যে কয়েক হাজার নিরাপত্তা সদস্য বিমানবন্দর ও এর আশপাশের এলাকায় তাদের অবস্থান নিশ্চিত করেছেন।
বেবিচক জানায়, বুধবার বিকেল থেকেই বিমানবন্দরের ভেতরে যাত্রী ছাড়া প্রবেশাধিকার সীমিত করা হয়েছে। পুরো এলাকায় ড্রোন ওড়ানোর ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। পোশাকধারী সদস্যদের পাশাপাশি গোয়েন্দা সংস্থার বিপুলসংখ্যক সদস্য সাদা পোশাকে নজরদারি চালাচ্ছেন।
বিমানবন্দর সূত্র জানায়, তারেক রহমানের অবতরণ থেকে শুরু করে বিমানবন্দর থেকে বের হওয়া পর্যন্ত অন্তত পাঁচ স্তরের নিরাপত্তা বলয় কাজ করবে। বিমানবন্দর গোলচত্বর থেকে শুরু করে বেবিচক সদর দফতর, অভ্যন্তরীণ টার্মিনাল এলাকা এবং আমদানি-রপ্তানি পণ্যের ৯ নম্বর গেটসহ প্রতিটি প্রবেশ ও বহির্গমন পথে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। নির্দিষ্ট এলাকার বাইরে বিমানবন্দরের কর্মীদের চলাফেরাতেও বিধিনিষেধ দেওয়া হয়েছে।
শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগিব সামাদ বলেন, “তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনকে কেন্দ্র করে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পূর্ণমাত্রায় বলবৎ করা হয়েছে। এভসেক, বিমানবাহিনী, সেনাবাহিনী ও এয়ারপোর্ট আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন, র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন, আনসার ব্যাটালিয়ন এবং ডিএমপির পুলিশ সমন্বিতভাবে কাজ করছে। এছাড়া সাদা পোশাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরাও সার্বক্ষণিক নজরদারি করছেন।”
তারেক রহমানের বিমানবন্দরের অবতরণ থেকে শুরু করে বের হওয়া পর্যন্ত হাজার নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন থাকবে বলেও জানান তিনি।
ওয়ান-ইলেভেন সরকার ২০০৭ সালে তারেক রহমানকে গ্রেপ্তার করে। ২০০৮ সালে কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে চিকিৎসার জন্য সপরিবারে যুক্তরাজ্যে যান তিনি। এরপর থেকে সেখানেই আছেন। লন্ডন থেকেই দল পরিচালনা করে আসছেন তিনি।
ওয়ান-ইলেভেন সরকার এবং বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তারেক রহমানের বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক অনেক মামলা করা হয়েছিল। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হলে শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে ভারতে চলে যান। এরপর বিভিন্ন মামলায় তারেক রহমানের সাজার রায় বাতিল হয় এবং কোনো কোনো মামলায় আইনি প্রক্রিয়ায় তিনি অব্যাহতি পান। তখন থেকে তার দেশে ফেরার আলোচনা শুরু হয়।







