ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল ও ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোরের বৈঠক ঘিরে দক্ষিণ এশিয়ার কূটনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। মঙ্গলবার নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে ভারত-যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত সম্পর্ক এবং দুই দেশের সহযোগিতা আরও গভীর করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে।
বুধবার (১২ আগস্ট) টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রকাশ্যে আসা তথ্য অনুযায়ী, বৈঠকের নির্দিষ্ট এজেন্ডা বা কোনো গোপন সমঝোতার বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি। তবে বৈঠকের সময়কালকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন আঞ্চলিক পর্যবেক্ষকেরা। বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক পুনর্গঠনের উদ্যোগ, শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ নিয়ে ঢাকার অনুরোধ এবং দক্ষিণ এশিয়ায় চীন-ভারত-যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত প্রতিযোগিতার প্রেক্ষাপটে দোভাল-গোরের আলোচনা বিশেষ নজর কেড়েছে।
বৈঠকের সময় বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী দিল্লিতে ছিলেন। তবে তিনি দোভাল ও গোরের বৈঠকে অংশ নিয়েছেন কি না, তা জানা যায়নি। এদিকে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণে বাংলাদেশের অনুরোধ ‘প্রতিষ্ঠিত প্রক্রিয়া’ অনুযায়ী পর্যালোচনা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে ভারত। মঙ্গলবার দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এ কথা জানান।
একই ব্রিফিংয়ে ঢাকায় ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার ভারতে আটক দুই প্রধান সন্দেহভাজনকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়টিকে ‘আইনি বিষয়’ হিসেবে উল্লেখ করেছে নয়াদিল্লি। বৈঠকের পর সার্জিও গোর ভারত-যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন, বৈশ্বিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ভারতের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ অংশীদারত্ব গুরুত্বপূর্ণ। দুই দেশের অভিন্ন লক্ষ্য রয়েছে এবং পারস্পরিক সম্পৃক্ততা ক্রমেই বাড়ছে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভারত-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক প্রতিরক্ষা, প্রযুক্তি, সরবরাহ-শৃঙ্খল, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশলসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিস্তৃত হয়েছে। ফলে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা পর্যায়ের এ ধরনের বৈঠককে কেবল আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সৌজন্য হিসেবে দেখছেন না পর্যবেক্ষকেরা। তবে দোভাল-গোরের আলোচনায় বাংলাদেশ বা শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ নিয়ে কথা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে কোনো পক্ষই কিছু জানায়নি।
দোভাল-গোর বৈঠকের এক দিন আগে ঢাকায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেন ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। ওই বৈঠকে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের জন্য ‘অনুকূল পরিবেশ’ তৈরির প্রয়োজনীয়তা এবং শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে বলে জানা গেছে। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে দ্বিপক্ষীয় সফরে ভারত যাওয়ার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে বলেও জানা গেছে। তবে আমন্ত্রণ গ্রহণের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় বা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। দুই সপ্তাহের মধ্যে এ সফর হতে পারে বলে একটি সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
নয়াদিল্লির পক্ষ থেকে তারেক রহমানকে প্রথম বিদেশ সফরে ভারত যাওয়ার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হলেও তিনি প্রথম বিদেশ সফরে মালয়েশিয়া এবং পরে চীন সফর করেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দিল্লি সফর করলে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের পাশাপাশি শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের বিষয়টিও আলোচনায় আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে ভারত এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানায়নি। বিষয়টি বর্তমানে আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
ফলে একই সময়ে ঢাকা ও দিল্লির মধ্যে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ এবং শরিফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার দুই সন্দেহভাজনকে ফেরত পাঠানোর মতো দুটি সংবেদনশীল ইস্যু আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে। এর মধ্যে দোভাল-গোরের বৈঠক আঞ্চলিক কূটনৈতিক সমীকরণে নতুন কোনো বার্তা দিচ্ছে কি না, সেদিকেই এখন নজর সংশ্লিষ্টদের।








