জয়পুরহাটের পাঁচবিবি থানা ছাত্রদলের সাবেক সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডিপনের উপর হামলা ও মারপিটের ঘটনায় পাঁচবিবি উপজেলা বিএনপির সভাপতি সাইফুল ইসলাম ডালিম ও ছাত্রদল নেতা শামীম হোসেনের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও মারপিটের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। এর প্রতিবাদে একই সময় একই স্থানে উভয় পক্ষ সমাবেশ ডাকায় ১৪৪ ধারা জারি করেছে প্রশাসন।
বুধবার (১৬ অক্টোবর) পাঁচবিবি পৌরসভার তিনমাথা এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়। সংঘর্ষে আহতরা স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, জেলা আধুনিক হাসপাতাল ও বগুড়া শহীদ জিয়া মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
পুলিশ ও বিএনপির নেতাকর্মী সূত্রে জানা গেছে, গত ১৪ অক্টবোর রাতে পাঁচবিবির তিনমাথা এলাকায় অবস্থান করছিলেন সাবেক থানা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডিপন। তিনি ছিলেন ছাত্রদল নেতা শামীমের অনুসারী। বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দলে ওইদিন রাতে বিএনপির সভাপতি সাইফুল ইসলাম ডালিমের নেতৃত্বে ডিপনকে মারপিট করলে তিনি মাথায় আঘাত পেয়ে গুরুতর আহত হন। পরে তাকে উদ্ধার করে পাঁচবিবি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করানো হয়। এতে তার অবস্থার অবনতি হলে বগুড়া শহীদ জিয়া মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে হস্তান্তর করা হয়।
এ ঘটনার জের ধরে গত ১৫ অক্টোবর জেলা ছাত্রদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক শামীম হোসেনের নেতৃত্বে দলীয় নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে প্রতিবাদ মিছিলের জন্য অবস্থান করছিলেন। অন্যদিকে পৌর শহরের দানেজপুর এলাকায় বিএনপি নেতা জিয়াউল ফেরদৌস রাইটের চাতালে পাঁচবিবি উপজেলা বিএনপির সভাপতি সাইফুল ইসলাম ডালিম দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে আলোচনা সভা করছিলেন। আলোচনা শেষে একপর্যায়ে ডালিম ও শামীম গ্রুপের নেতাকর্মীরা লাঠিসোঁটা নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। এসময় অন্তত ১০ জন নেতাকর্মী গুরতর আহত হন বলে জানান বিএনপির সভাপতি সাইফুল ইসলাম ডালিম।
খবর পেয়ে ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. বেলায়েত হোসন, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো.কাওসার আলী ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে বিএনপির দু’পক্ষের নেতাকর্মীদের ছত্রভঙ্গে করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
আজ বুধবার বিকেলে পাঁচবিবি পৌরসভার তিনমাথা এলাকায় বিএনপির দুই গ্রুপ একই সময়ে প্রতিবাদ কর্মসূচির ঘোষণা করে। এতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতি ও জনগণের জানমালের ক্ষতির আশঙ্কায় বিকেল থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত ১৪৪ ধারা জারি করে প্রশাসন।
পাঁচবিবি পৌর বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক জিয়াউল ফেরদৌস রাইট অভিযোগ করে বলেন, দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে আমার চাতাল মিলে আলোচনা শেষে যে যার মতে চলে যাই। তখন শামীমের নেতৃত্বে প্রথমে আমার ভাইকে মারপিট করে টাকা ছিনতাই করে। পরে আমার ভাতিজাকে অস্ত্র ঠেকিয়ে মারপিট করে চলে যায়। এসময় আমার ভাতিজা গুরুত্বর আহত হলে তাকে উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়া মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করানো হয়। এদিকে হামলার সময় অন্তত ৭টি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে তারা। আমি এঘটনার সুষ্ঠ বিচার চাই।
পাঁচবিবি উপজেলা বিএনপির সভাপতি সাইফুল ইসলাম ডালিম সাবেক ছাত্রনেতা ডিপনকে মারপিটের বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, সেদিন রাতে আমি দলীয় কাজ শেষে বারোয়ারী চত্বরে যাই, সেখানে শামীম ও গফুর আমাকে উদ্দেশ্য করে অবাঞ্ছিত ভাষায় কথা বলে। আমি তাদের কথা কর্ণপাত না করে বাসায় চলে আসি। এসময় আমার নেতাকর্মীরা অসন্তোষ ছিলেন। পরে দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে থানায় গিয়ে পুলিশকে বিষয়টি অবগত করি। ডিপন নামের ওই ছেলেকে কে বা কারা মেরেছে সেটা আমার জানা নেই।
সাবেক ছাত্রদল নেতা শামীম হোসেন বলেন, গত ১৪ অক্টোবর রাতে থানা ছাত্রদলের সাবেক সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডিপনকে উপজেলা বিএনপির সভাপতি সাইফুল ইসলাম ডালিমের নেতৃত্বে মারপিটের ঘটনায় আমরা ১৫ অক্টোবর বিকেলে প্রতিবাদ মিছিল করছিলাম তখন প্রতিপক্ষের লোকজন আমাদের উদ্দেশ্য ইট পাটকেল নিক্ষেপ করে। তখন আত্মরক্ষার্থে আমরাও প্রতিরোধ করি। এসময় বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে।
পাঁচবিবি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কাওসার আলী বলেন, বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দলে বিএনপির দু’পক্ষের নেতাকর্মীদের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও মারপিটের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে সেনাবাহিনীর সদস্য ও পুলিশ ঘটনাস্থ গিয়ে ছত্র ভঙ্গে করে দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। এ ঘটনায় রকি নামে একজন বাদি হয়ে থানায় মামলা করেছে। মামলাটি তদন্তের মাধ্যমে আইনগত ব্যবস্থাগ্রহণ করা হবে।
পাঁচবিবি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) বেলায়েত হোসেন বলেন, বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষের ঘটনার পর বুধবার বিকেলে পাঁচবিবি পৌরসভার তিনমাথা এলাকায় উভয় গ্রুপ একই সময়ে প্রতিবাদ কর্মসূচির ঘোষনা করে। এতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতি ও জনগণের জানমালের ক্ষতির আশঙ্কায় বিকেল থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত ১৪৪ ধারা জারি করা হয়। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে সেনাবাহিনী, পুলিশসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পৌর এলাকায় টহল দিচ্ছে। বর্তমান সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।







