খাগড়াছড়িতে স্কুলছাত্রী ধর্ষণের ঘটনার জেরে শুরু হওয়া উত্তেজনা থামেনি। টানা তৃতীয়দিনের মতো আজও জুম্মু ছাত্র জনতার ডাকে সড়ক অবরোধ কর্মসূচি চলছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে জারি করা ১৪৪ ধারা বহাল রয়েছে, ফলে পুরো জেলায় জনজীবন কার্যত অচল হয়ে পড়েছে।
আজ (২৯ সেপ্টেম্বর) সোমবার অবরোধের কারণে খাগড়াছড়ির সড়কগুলো প্রায় জনশূন্য। পিকেটাররা চোরাগোপ্তাভাবে সড়কে ব্যারিকেড বসিয়ে অবরোধ পালন করছে। শহর ও শহরতলীর সড়কে কোনো যানবাহন চলাচল করছে না। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কেউ ঘর থেকে বের হচ্ছেন না। লংগদু ও বাঘাইছড়িসহ বিভিন্ন বাজারের জন্য কাঁচামাল বোঝাই ট্রাক ও পিকআপ আটকে আছে পথে। ব্যবসা-বাণিজ্যসহ স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় স্থবিরতা নেমে এসেছে।
গতকাল (রবিবার) জেলার গুইমারায় সহিংসতা চলাকালে দুর্বৃত্তদের গুলিতে তিনজন পাহাড়ি নিহত হয়েছেন। এছাড়া সেনাবাহিনীর একজন মেজরসহ বেশ কয়েকজন পাহাড়ি ও বাঙালি আহত হয়েছেন। থমথমে পরিস্থিতির মধ্যে নিহতদের মরদেহ শেষ বিকেলে খাগড়াছড়ি জেলা সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। আজ (সোমবার) মরদেহগুলোর ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হতে পারে।
২৩ সেপ্টেম্বর রাতে এক স্কুলছাত্রী ধর্ষণের শিকার হন। এ ঘটনায় সন্দেহভাজন একজনকে গ্রেপ্তার করা হলেও আরও দু’জন পলাতক রয়েছে। এই ঘটনার প্রতিবাদে পাহাড়ি সংগঠনগুলোর ব্যানারে কয়েকদিন ধরে খাগড়াছড়িতে উত্তেজনা চলছে। হামলা ও পাল্টা হামলার ঘটনায় পাহাড়ি ও বাঙালিদের বেশ কয়েকটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর হয়েছে। অবস্থা নিয়ন্ত্রণে রাখতে খাগড়াছড়ি পৌরসভা, সদর উপজেলা ও গুইমারায় প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারি করে। তা সত্ত্বেও জুম্মু ছাত্র জনতা অনির্দিষ্টকালের সড়ক অবরোধ কর্মসূচি অব্যাহত রেখেছে।
চলমান পরিস্থিতি নিয়ে মারমা সম্প্রদায়ের দুটি সংগঠন— মারমা উন্নয়ন সংসদ এবং মারমা ঐক্যপরিষদ— এক যৌথ বিবৃতিতে জানিয়েছে, মারমারা শান্তিপ্রিয় জনগোষ্ঠী এবং চলমান সহিংসতার সঙ্গে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা প্রকৃত অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও ধর্ষণ মামলার বিচার দাবি করেছেন।








