কিশোরগঞ্জে পারিবারিক বিরোধের জের ধরে এক স্কুল শিক্ষিকার ওপর বর্বরোচিত হামলার ঘটনা ঘটেছে। হামলার সময় ওই নারীর কোল থেকে তার তিন বছর বয়সী শিশু সন্তানকে কেড়ে নিয়ে পুকুরের পানিতে ফেলে দেয় হামলাকারীরা।
ঘটনাটি ঘটেছে গত ১৭ ডিসেম্বর কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার জয়কা ইউনিয়নের পূর্ব মথুরাপাড়া এলাকায়। আহত স্কুল শিক্ষিকার নাম মোছা. তাসলিমা আক্তার। তিনি পূর্ব মথুরাপাড়া আদর্শ কিন্ডারগার্টেন স্কুলের প্রধান শিক্ষক।
আশঙ্কাজনক অবস্থায় আহত তিনি বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। প্রাণে বেঁচে গেলেও আতঙ্কে এখনও স্বাভাবিক হতে পারছে না শিশুটি।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, স্কুল চলাকালে তাসলিমাকে অফিস কক্ষ থেকে জোরপূর্বক ধরে এনে স্কুল মাঠে নিয়ে যায় তারই স্বজনরা। এরপর চাইনিজ কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে ও পিটিয়ে তাকে গুরুতর আহত করা হয়। এ সময় তার কোল থেকে তিন বছর বয়সী ছেলে মবিনকে কেড়ে নিয়ে পাশের একটি পুকুরে ছুড়ে ফেলে দেওয়া হয়।
প্রতিবেশীদের সহায়তায় শিশুটিকে দ্রুত পুকুর থেকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়। তবে আতঙ্কে সে এখনও স্বাভাবিক আচরণ করতে পারছে না। গুরুতর আহত অবস্থায় তাসলিমাকে উদ্ধার করে কিশোরগঞ্জ শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি হাসপাতালের আইসিইউ ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ঘটনার পর বাড়িতে শিশুটিকে কোলে নিয়ে আহত শিক্ষিকার স্বামী মো. মাসুম পারভেজের আহাজারিতে উপস্থিত অনেকেই কান্না ধরে রাখতে পারেননি।
আহত শিক্ষিকার স্বামী মো. মাসুম পারভেজ বলেন, “ওরা আমার স্ত্রীকে স্কুলের ভেতর থেকেই ধরে নিয়ে যায়। কুপিয়ে মেরে ফেলতে চেয়েছে। আমার তিন বছরের ছেলেটাকে মায়ের কোল থেকে ছিনিয়ে নিয়ে পুকুরে ফেলে দেয়। যদি মানুষজন সময়মতো না আসতো, তাহলে আজ আমি স্ত্রী-সন্তান দুজনকেই হারাতাম।”
তিনি আরও বলেন, “এটা শুধু হামলা না, এটা খুনের চেষ্টা। যারা এই কাজ করেছে তারা সবাই পরিচিত, আত্মীয়। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই, দ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তার চাই।”
এ ঘটনায় তাসলিমার স্বামী মো. মাসুম পারভেজ পরদিন করিমগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় মজিবুর রহমান, মাসুম কবীরসহ ছয়জনকে আসামি করা হয়েছে। অভিযুক্তদের মধ্যে মাসুম পারভেজের চাচাতো ভাই ও বোনের স্বামীও রয়েছেন বলে জানান স্বজনরা।
ঘটনার এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও এখনো কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। তবে অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন আহত শিক্ষিকার পরিবার ও এলাকাবাসী।
এ বিষয়ে করিমগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছে এবং তদন্ত চলমান রয়েছে।
এ বিষয়ে করিমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. এমরানুল কবির বলেন, “ঘটনার পরপরই মামলা গ্রহণ করা হয়েছে। আসামিরা ঘটনার পর থেকেই পলাতক রয়েছে। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। খুব শিগগিরই জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে।”
উল্লেখ্য, আহত মোছা. তাসলিমা আক্তারের স্বামী মো. মাসুম পারভেজ পূর্ব মথুরাপাড়া আদর্শ কিন্ডারগার্টেন স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্তরা বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়ে গেছে বলে জানিয়েছে স্থানীয়রা।







