ইরানের ওপর নতুন করে সামরিক হামলা ঠেকাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে অনুরোধ করেছেন সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান (এমবিএস)। সম্ভাব্য আঞ্চলিক সংঘাত সৌদি আরবের উচ্চাভিলাষী অর্থনৈতিক কর্মসূচি ভিশন ২০৩০ এর জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে রিয়াদের আশঙ্কা।
সোমবার (৩ আগস্ট) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এ তথ্য জানিয়েছে।
মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, শনিবার ফোনালাপে এমবিএস ট্রাম্পের সঙ্গে ইরানের ওপর সম্ভাব্য নতুন হামলার পরিকল্পনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, জর্ডানে একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা এবং হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচলে বিঘ্নের পর ইরানের জ্বালানি স্থাপনাগুলোতে হামলার বিষয়টি বিবেচনা করছে ওয়াশিংটন।
অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবদুল্লাহ বিন ফারাহ আল-শায়া নিউজউইককে বলেন, ভিশন ২০৩০ কেবল একটি অর্থনৈতিক পরিকল্পনা নয়, বরং সৌদি আরবকে বিনিয়োগ, জ্বালানি, লজিস্টিকস, পর্যটন ও উদ্ভাবনের বৈশ্বিক কেন্দ্রে পরিণত করার একটি জাতীয় প্রকল্প।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের ওপর বড় ধরনের হামলা হলে উপসাগরীয় অঞ্চলে তার গুরুতর প্রভাব পড়তে পারে বলে সৌদি আরব আশঙ্কা করছে। তেহরান ইতোমধ্যে সতর্ক করেছে, যুক্তরাষ্ট্র নতুন হামলা চালালে তারা ইসরায়েল ও উপসাগরীয় দেশগুলোর জ্বালানি ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে পাল্টা হামলা চালাতে পারে।
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম ঘনিষ্ঠ মিত্র হলেও, তেহরানের সঙ্গে উত্তেজনা মোকাবিলার কৌশল নিয়ে সৌদি আরব কূটনৈতিক সমাধানের ওপর জোর দিচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা ও মধ্যপ্রাচ্য বিশেষজ্ঞ ডানা স্ট্রোল বলেন, ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের মোকাবিলায় দীর্ঘ অভিজ্ঞতা থেকে সৌদি আরব বুঝেছে যে শুধু সামরিক শক্তি দিয়ে এ সংকটের সমাধান সম্ভব নয়। তার মতে, হুথিদের সঙ্গে নতুন করে বড় সংঘাতে জড়ালে সৌদি আরবের ভিশন ২০৩০ বাস্তবায়ন ব্যাহত হতে পারে।
এদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি পাকিস্তান, তুরস্ক ও সৌদি আরবের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের যেকোনো হামলা কিংবা এ ধরনের হামলায় অন্য কোনো দেশের সমর্থনের জবাব কঠোরভাবে দেবে তেহরান।
অন্যদিকে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রাখতে কাতার মধ্যস্থতার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এ লক্ষ্যে কাতারের কর্মকর্তারা ইরান, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি এবং ওমানের সঙ্গে পৃথক আলোচনা করেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।







