ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিটেন্স পাঠানোর ক্ষেত্রে প্রণোদনা ২.৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫ শতাংশ করার দাবি জানিয়েছেন সৌদি আরবে অবস্থানরত বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরা। পাশাপাশি প্রবাসীদের বিনিয়োগ ও বাণিজ্য সহজ করতে একগুচ্ছ প্রস্তাবও তারা উপস্থাপন করেছেন।
মঙ্গলবার (৫ মে) জেদ্দার আল আয়াত রেস্টুরেন্টের হলরুমে অনুষ্ঠিত এক সেমিনারে এসব দাবি ও প্রস্তাব তুলে ধরা হয়। সৌদি বাংলা গার্মেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে সৌদি আরবে বাংলাদেশ মিশনের কূটনীতিক, ব্যবসায়ী ও সাংবাদিকরা অংশ নেন।
সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনটির সভাপতি মোহাম্মদ রেজাউল করিম এবং সঞ্চালনা করেন সহ-সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ফিরোজ আলম। প্রধান অতিথি ছিলেন জেদ্দায় নিযুক্ত বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল মোহাম্মদ সাখাওয়াত হোসেন। প্রবাসী ব্যবসায়ীরা বৈঠকে রেমিটেন্স প্রণোদনা বৃদ্ধির পাশাপাশি ওয়েজ আর্নারস বন্ডের লভ্যাংশ বাড়ানোর দাবি জানান। তারা আরও বলেন, প্রবাসীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগে উৎসাহিত করতে বিশেষ ইপিজেড স্থাপন, আমদানি-রপ্তানিতে নন-স্টপ সার্ভিস, বিমানবন্দরে আলাদা প্রবাসী কাউন্টার এবং দ্রুত সেবা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
এছাড়া তারা বিদেশি ঋণের পরিবর্তে অবকাঠামো উন্নয়নে প্রবাসী বিনিয়োগ যুক্ত করার প্রস্তাব দেন, যার মধ্যে মহাসড়ক, ফ্লাইওভার ও বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পও রয়েছে। অনুষ্ঠানে কনসাল জেনারেল বলেন, প্রবাসীরা এখন শুধু শ্রমিক নন, তারা সৌদি আরবে গার্মেন্টস, হোটেল-রেস্তোরাঁ, কনস্ট্রাকশন ও আমদানি বাণিজ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। তিনি প্রবাসীদের সমস্যা সমাধানে কনস্যুলেটের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেন।
এছাড়া বৈধ পথে রেমিটেন্স প্রেরণ সহজ করতে এবং বাণিজ্যিক সমস্যা নিরসনে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করা হবে বলেও জানান তিনি। প্রবাসীদের আইনি সহায়তার জন্য কনস্যুলেটের মাধ্যমে একটি ল’ ফার্ম নিয়োগের তথ্যও দেন তিনি।
অনুষ্ঠানের আগে কনসাল জেনারেল জেদ্দার বাওয়াদি এলাকায় বাংলাদেশি গার্মেন্টস পণ্যের বৃহৎ পাইকারি মার্কেট পরিদর্শন করেন, যেখানে শতাধিক দোকানের মধ্যে প্রায় ৯৫ শতাংশ ব্যবসায়ী বাংলাদেশি প্রবাসী।








