এই খবরটি পডকাস্টে শুনুনঃ
সাফ অনূর্ধ্ব-১৭ চ্যাম্পিয়নশিপের সেমিফাইনালে পাকিস্তানের বিপক্ষে ২-০ গোলে পিছিয়ে পড়েছিল বাংলাদেশ। লাল-সবুজদের আশার আলো দেখান মিঠু চৌধুরী। শেষ মূহুর্তে সমতায় ফেরান মোহাম্মদ মানিক। টাইব্রেকারে খেলা গড়ালে ঝলক দেখায় বাংলাদেশ। ৮-৭ ব্যবধানে পাকিস্তানকে হারিয়ে ফাইনাল নিশ্চিত করেছে কোচ সাইফুল বারী টিটুর দল।
ভুটানে সেমির লড়াইয়ে ২-২ গোলে সমতায় খেলা শেষ করে দুদল। বাংলাদেশের হয়ে গোল দুটি করেন মিঠু চৌধুরী ও মোহাম্মদ মানিক। আর পাকিস্তানের গোল দুটি আসে শাবাব আহমেদ ও আব্দুল রেহমানের পা থেকে। পরে টাইব্রেকারে শেষ হাসি হাসে বাংলাদেশ। ৩০ তারিখ ফাইনালে ভারতের মুখোমুখি হবে লাল-সবুজের দল। প্রথম সেমিফাইনালে নেপালকে ৪-২ ব্যবধানে হারিয়েছে তারা।
ম্যাচের শুরু থেকেই দারুণ করেছিল বাংলাদেশ। একের পর এক আক্রমণে পাকিস্তান রক্ষণের বেশ পরীক্ষা নিয়েছিল। তবে সুযোগ হাতছাড়ায় আর গোল আদায় করা হয়নি। ৩২ মিনিটে পিছিয়ে পড়ে লাল সবুজের দল। কর্নার থেকে আসা বলে গোল করেন শাবাব আহমেদ। জটলার মধ্যে লাফিয়ে হেডে বল জালে পাঠান। নিয়ন্ত্রিত ফুটবল খেললেও আর গোলশোধ করা সম্ভব হয়নি সাইফুল বারী শিষ্যদের। ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে বিরতিতে যেতে হয়।
বিরতির পর আরও এক হজম করতে হয় বাংলাদেশকে। ৬১ মিনিটে পাকিস্তানকে পেনাল্টি উপহার দেয় লাল সবুজের দল। পাকিস্তানের আক্রমণে নিজেদের বক্সে হ্যান্ডবল করেন বাংলাদেশি ডিফেন্ডার। স্পট কিক থেকে সহজেই গোল করেন পাকিস্তানের আব্দুল রেহমান। পরের মিনিটে পাকিস্তানের আক্রমণ পোস্টে লেগে ফেরত আসে।
দুই গোল হজমের পর দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন করে বাংলাদেশ। ৭০ মিনিটে গোলের সুযোগ আসে, তবে তাতে জালের দেখা মেলেনি। ৭৩ মিনিটে প্রথম গোলটি করে মিঠু চৌধুরী। কর্নার থেকে আসা বল জালে পাঠান লাল-সবুজের উইঙ্গার। শেষ ২০ মিনিটে বাংলাদেশ বেশ কয়েকবার আক্রমণে যায়। সফলতা আসে যোগ করা সময়ের চতুর্থ মিনিটে। বাংলাদেশের সংঘবদ্ধ আক্রমণে পাকিস্তান রক্ষণকে পরাস্ত করে মোহাম্মদ মানিক সমতায় ফেরান।
টাইব্রেকারে যাচ্ছে খেলা, এমন সম্ভাবনার পর দুদলই গোলরক্ষকদের বদলি করেন। শুরুটা করেছিল পাকিস্তান। ৯৫ মিনিটে গোলরক্ষক কাশিফকে উঠিয়ে গোলাম আব্বাসকে নামান। শেষ বাঁশি বাজার ঠিক আগমূহুর্তে পরিবর্তন আনে বাংলাদেশও। মোহম্মদ নাহিদুল ইসলামকে উঠিয়ে ভরসা করা হয় আলিফ রহমান ইমতিয়াজের ওপর।
স্নায়ুযুদ্ধের লড়াইয়ে ভরসার প্রতিফলন দেখান ইমতিয়াজ। টাইব্রেকারে প্রথম পাঁচ শটে দুই দলই পাঁচটি করে গোল করে। ৫-৫ সমতা থাকায় খেলা গড়ায় সাডেন ডেথে। সাডেন ডেথের প্রথম দুই শটেও দুই দলের সমতা ছিল। অষ্টম শটে পাকিস্তানের আব্দুল গনির শট ঠেকিয়ে দেন বাংলাদেশের গোলরক্ষক ইমতিয়াজ। ফিরতি শটে আশিকুর রহমান গোল করলে ফাইনাল নিশ্চিত হয় বাংলাদেশের।








