সিলেট থেকে: ঢাকা পর্বে মিডলঅর্ডারে ভুগছিল ঢাকা ক্যাপিটালস। তিন ম্যাচে জয়ের খাতা শূন্য ছিল। অথচ মিডলের ভরসা হওয়ার কথা সাব্বির রহমানকে দেখা যায়নি এক ম্যাচেও। অভিজ্ঞ ব্যাটারকে একাদশে না রাখার কারণ জানালেন ঢাকার কোচ খালেদ মাহমুদ সুজন। শৃঙ্খলাভঙ্গের শাস্তি হিসেবে ঢাকা পর্বে খেলানো হয়নি সাব্বিরকে।
পহেলা জানুয়ারি সকাল ৯টায় মিরপুর একাডেমি মাঠে অনুশীলন করেছিল ঢাকা। কাউকে না জানিয়ে অনুশীলনে আসেননি সাব্বির। সে কারণে সিনিয়র এ ক্রিকেটারকে শাস্তি দিয়েছেন খালেদ মাহমুদ।
মঙ্গলবার সিলেট পর্বের দ্বিতীয় দিনের প্রথম ম্যাচে নামবে ঢাকা ক্যাপিটালাস। রংপুর রাইডার্সের মুখোমুখি হবে দলটি। আগেরদিন সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামের আউটারে অনুশীলন সেরেছে ঢাকা। সেখানে সংবাদমাধ্যমে সাব্বিরকে না খেলানোর বিষয়টি জানান খালেদ মাহমুদ। শুরুতে দলীয় সমন্বয়ের কারণে সাব্বিরকে একাদশে রাখা হয়নি বললেও পরে শাস্তির কথা জানান ঢাকার কোচ।
‘সাব্বিরকে আমরা খেলাতে পারিনি, কম্বিনেশনের কারণে। এছাড়াও কিছু অন্য ইস্যু ছিল, অনেকেই হয়তো বলেছেন ফেসবুক বা সামাজিক মাধ্যমে। ভেতরের অনেককিছু অনেকে জানে না বলে হয়তো মন্তব্য করে দেয়াটা অনেক সহজ। এখানে আমার হাত ছিল না। অধিনায়কও ছিল দলে, তারও বলার থাকে অনেককিছু। ট্রেনিংয়ের ব্যাপারগুলো থাকে, যেগুলো আমরা বলতে পারি না অনেককিছু।’
পরে অনুশীলনে না থাকার বিষয়টি বলেন খালেদ মাহমুদ। ঢাকা কোচের ভাষ্য, ‘হ্যাঁ, ট্রেনিংয়ে সাব্বির অনুপস্থিত ছিল। দ্বিতীয় ও তৃতীয় ম্যাচের মাঝে সে অনুশীলনে আসেনি। টিম ডিসিপ্লিনের ব্যাপারও ছিল, এই কারণেই তাকে খেলানো হয়নি, বিশেষ করে তৃতীয় ম্যাচটি, যেটি ছিল ২ তারিখে। ওই ম্যাচটি খেলানো হয়নি ১ তারিখে অনুশীলনে না আসার জন্য। এটা পুরোপুরি ডিসিপ্লিনারি ইস্যু।’
ঢাকা পর্বে সাব্বিরকে না খেলানো হলেও সিলেট পর্বে নিজেদের প্রথম ম্যাচ থেকেই খেলানো হতে পারে। সবকিছু ছাপিয়ে সাব্বিরের কাছ থেকে সেরাটা পেতে আশাবাদী খালেদ মাহমুদ। বললেন, ‘সাব্বির ভালো ক্রিকেটার। আশা করি, কালকের ম্যাচ থেকে ওকে খেলাতে পারব। আশা করি সেরাটা খেলবে। অভিজ্ঞ ক্রিকেটার সে, একজন অভিজ্ঞ ক্রিকেটারের অভাব আছে আমাদের মিডলঅর্ডারে। সাব্বিরের অন্তর্ভুক্তি আমাদের জন্য খুব ভালো হবে। এটা খুব সহজে পাবলিকলি বললাম, কারণ একটা দূরত্ব থেকে যেত, এজন্য বলে দিলাম। ওর ভক্তরাও বুঝতে পারবে যে ও কেনো খেলেনি। এই একটা কারণই ছিল। আশা করি ওকে কালকের ম্যাচ থেকে খেলাতে পারব, ওর সার্ভিসটা পাবো।’
পরে অবশ্য খালেদ মাহমুদের কাছে ভুল স্বীকার করেছেন সাব্বির। জানিয়েছেন একই ভুল আর করবেন না। ঢাকা কোচ বললেন, ‘এটা ওকে বলেছি যে, না-ই আসতে পারে অনুশীলনে। অনেক ক্রিকেটারই ম্যাচের আগেরদিন অনুশীলন করে না। কিন্তু আমি চাই, আমার প্রত্যেকটি ক্রিকেটার ম্যাচের আগেরদিন ট্রেনিং করুক বা না করুক, ড্রেসিংরুমে যেন থাকে। সাব্বিরকে এটিই বুঝিয়েছি।’
“১ তারিখের অনুশীলনে সে আসবে না, এটা আমরা কেউ জানতাম না যে কেনো আসেনি। ডিসিপ্লিনারি ইস্যু এজন্যই বললাম, যদি বলে নিতো, তাহলে সেটা ডিসিপ্লিনারি ইস্যু নয়। কিন্তু আমি বা ম্যানেজার বা কেউই জানতাম না। মাঠে গিয়ে যখন তাকে খুঁজি, জানি না যে সে কেনো নেই, তাহলে তো সত্যিই শকিং ব্যাপার। আমি ওর সঙ্গে কথা বলেছি। সে অনুধাবন করতে পেরেছে। সে বলেছে যে, ‘সুজন ভাই ভুল হয়েছে, আপনি রাগ করবেন না।”
৩৩ বর্ষী সাব্বিরের থেকে আরও দায়িত্বশীলতা আশা করছেন ঢাকার কোচ। আশা, আসরের বাকি সময়ে সিনিয়র ক্রিকেটার হিসেবে তাকে সহযোগিতা করবেন সাব্বির। বলেছেন, ‘আমার বিশ্বাস, ঢাকা ক্যাপিটালসের বাকি পুরো পথচলায় সিনিয়র ক্রিকেটার হিসেবে সে আমাকে সাপোর্ট করবে এবং সিনিয়র ক্রিকেটারের মতো আচরণ করবে। যেন ওর কাছ থেকে আমরা ভালো সার্ভিস পাই। আমি মনে করি, এই ব্যাপারগুলো সে মেনে নেবে এবং কালকে নতুনভাবে নিজের সেরাটা দেবে দলের জন্য।’
এর আগেও বিভিন্ন সময়ে শৃঙ্খলাভঙ্গের নানা ঘটনায় নাম এসেছে সাব্বিরের। ঘরোয়া ক্রিকেটের ম্যাচে এক কিশোর দর্শককে পেটানোয় ২০২০ সালের জানুয়ারিতে ৬ মাসের জন্য ঘরোয়া ক্রিকেটে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল তাকে। সঙ্গে ২০ লাখ টাকা জরিমানা এবং বোর্ডের কেন্দ্রীয় চুক্তি থেকে বাদ দেয়া হয়েছিল। ২০১৮ সালে ফেসবুকে এক ব্যক্তিকে গালাগাল ও মারধরের হুমকি দিয়ে ঘরোয়া ক্রিকেটে ৬ মাসের নিষেধাজ্ঞা পান। ২০১৬ সালে বিপিএলে বড় অঙ্কের আর্থিক জরিমানা করা হয়েছিল তাকে। সেবার বিসিবি অপরাধ সুনির্দিষ্ট করে না জানালেও বলেছিল, গুরুতর শৃঙ্খলাভঙ্গের দায়ে শাস্তি দিয়েছিল। একই বছর জুনে আফগানিস্তানের বিপক্ষে টি-টুয়েন্টি সিরিজের সময় দেরাদুনে ড্রেসিংরুমে বিতণ্ডার এক পর্যায়ে সতীর্থ মেহেদী হাসান মিরাজের গায়ে সাব্বির হাত তুলেছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছিল। নানা সময়ে তার বিরুদ্ধে ছোটখাটো অনেক অভিযোগও উঠেছিল।








