বিনোদন

ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নের মামলায় দোষী রাসেল ব্র্যান্ড, নেওয়া হলো হেফাজতে

ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নের মামলায় দোষী রাসেল ব্র্যান্ড, নেওয়া হলো হেফাজতে

ব্রিটিশ অভিনেতা ও কৌতুকশিল্পী রাসেল ব্র্যান্ড ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নের মামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) লন্ডনের সাউথওয়ার্ক ক্রাউন কোর্টের জুরি বোর্ড তাকে একটি ধর্ষণ এবং তিনটি যৌন নিপীড়নের অভিযোগে দোষী ঘোষণা করেন। রায়ের পর তাকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

৫১ বছর বয়সী ব্র্যান্ডের বিরুদ্ধে মোট সাতটি অভিযোগে বিচার চলছিল। এর মধ্যে তিনটি ধর্ষণ, তিনটি যৌন নিপীড়ন এবং একটি শালীনতাবিরোধী আচরণের চেষ্টার অভিযোগ ছিল। তবে দুটি ধর্ষণ এবং শালীনতাবিরোধী আচরণের চেষ্টার অভিযোগ থেকে তাকে অব্যাহতি দিয়েছেন জুরিরা।

২০০৯ সালে এক নারীর সঙ্গে ধর্ষণের ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন ব্র্যান্ড। ওই নারী লন্ডনের হ্যামারস্মিথ অ্যাপোলোতে তার একটি অনুষ্ঠান দেখতে গিয়ে তার সঙ্গে পরিচিত হয়েছিলেন। আদালতে ব্র্যান্ড দাবি করেন, তাদের মধ্যে যা ঘটেছিল, তা পারস্পরিক সম্মতিতে হয়েছিল। তবে জুরি বোর্ড তার এই বক্তব্য গ্রহণ করেননি।

এ ছাড়া ২০০৪ বা ২০০৫ সালে একটি রেডিও স্টেশনে এক নারীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগেও দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন তিনি। ২০০৯ সালে চ্যানেল ফোরের সাবেক এক নারী কর্মীর সঙ্গে কর্মস্থলে অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণ এবং একই বছরে একটি বিজ্ঞাপনের শুটিংয়ের সময় আরেক নারীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগেও তাকে দোষী ঘোষণা করা হয়।

রায় ঘোষণার পর বিচারক জোয়েল বেনাথান জানান, ব্র্যান্ডকে উল্লেখযোগ্য মেয়াদের কারাদণ্ড ভোগ করতে হতে পারে। আগামী সোমবার (৯ নভেম্বর) তার সাজা ঘোষণা করা হবে। ধর্ষণের অপরাধে যুক্তরাজ্যে সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।

বিচার চলাকালে নিজের বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেন রাসেল ব্র্যান্ড। তার দাবি ছিল, নারীদের সঙ্গে তার সব শারীরিক সম্পর্কই পারস্পরিক সম্মতিতে হয়েছিল। তার আইনজীবী ইয়ান উইন্টার আদালতে দাবি করেন, ২০২৩ সালে চ্যানেল ফোরের ‘ডিসপ্যাচেস’ প্রামাণ্যচিত্র এবং সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনগুলো অভিযোগকারীদের বক্তব্য ও স্মৃতিকে প্রভাবিত করেছে।

অন্যদিকে, কৌঁসুলিদের বক্তব্য ছিল, নিজের পরিচিতি, জনপ্রিয়তা ও প্রভাব কাজে লাগিয়ে নারীদের সঙ্গে অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণ করতেন ব্র্যান্ড।

২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে চ্যানেল ফোরের ‘ডিসপ্যাচেস’ অনুষ্ঠানে রাসেল ব্র্যান্ডের বিরুদ্ধে যৌন অসদাচরণের অভিযোগ নিয়ে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। একই সময়ে ‘দ্য সানডে টাইমস’ ও ‘দ্য টাইমস’ পত্রিকাতেও এ বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এরপর একাধিক নারী তার বিরুদ্ধে অভিযোগ নিয়ে সামনে আসেন।

ওই বছরের সেপ্টেম্বরে লন্ডনের মেট্রোপলিটন পুলিশ তদন্ত শুরু করে। দীর্ঘ তদন্তের পর ২০২৫ সালের ৪ এপ্রিল তার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আনার অনুমোদন দেয় ক্রাউন প্রসিকিউশন সার্ভিস।

এদিকে, রাসেল ব্র্যান্ডের বিরুদ্ধে আরও দুটি ধর্ষণের অভিযোগের তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এসব অভিযোগের বিষয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়েছে। দ্য স্টেটসম্যান

বিষয়:ধর্ষণ মামলা যৌন নিপীড়ন রাসেল ব্র্যান্ড হেফাজত

আরও পড়ুন

পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…