হারিয়ে ফেলা ডান চোখে শেষবার হামলাকারীকেই দেখেছিলেন বলে জানিয়েছেন ২০২২ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে ছুরি হামলার শিকার স্বনামধন্য ব্রিটিশ লেখক সালমান রুশদি। তিনি বলেন, একটি কঠিন বা ভয়ঙ্কর কিছু ছুটে আসছে। ডান চোখে এটাই ছিল শেষ কিছু দেখা।
বিবিসি’র কাছে দেওয়া একটি একান্ত সাক্ষাৎকারে দুই বছর আগে মঞ্চে প্রকাশ্যে হামলার শিকার হওয়ার অভিজ্ঞতা বিশদভাবে বর্ণনা করেছেন আধুনিক সময়ের অন্যতম প্রভাবশালী লেখক ৭৬ বছর বয়সী সালমান রুশদি।
বুকার পুরস্কার বিজয়ী স্বনামধন্য এই ব্রিটিশ লেখক বলেন, মনে আছে, যখন আমাকে ছুরিকাঘাত করা হয়। আমার চোখ নরম সেদ্ধ ডিমের মতো মুখের নিচে ঝুলে ছিল। এই চোখ হারানোর ঘটনা প্রতিদিন আমাকে বিচলিত করে। আমার মনে হচ্ছিলো আমি মারা যাচ্ছি। সৌভাগ্যবশত, আমি ভুল ছিলাম।
২০২২ সালের আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে হামলাটি ঘটে। তখন মঞ্চে বক্তব্য দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন সালমান রুশদি। এমন সময় আততায়ী সিঁড়ি বেয়ে ওপরে উঠে আসে। ২৭ সেকেন্ড স্থায়ী আক্রমণে ১২ বার ছুরিকাঘাত করে সে। রুশদি মেঝেতে পড়ে যান। তাকে হেলিকপ্টারে করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ছয় সপ্তাহে সেরে ওঠেন তিনি।

হামলায় ভারতীয় বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ-আমেরিকান লেখক সালমানের লিভার ও হাত ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং তার ডান চোখের স্নায়ু ছিঁড়ে যায়। তিনি এক চোখে দেখতে পান। তবে সিঁড়ি বেয়ে হাঁটার সময়, রাস্তা পার হওয়ার সময় বা গ্লাসে পানি ঢালার সময় তাকে বিড়ম্বনায় পড়তে হয়। তবুও মস্তিষ্কের ক্ষতি এড়াতে পেরে নিজেকে ভাগ্যবান মনে করেন তিনি।
১৯৮৮ সালে প্রকাশিত রুশদির চতুর্থ উপন্যাস ‘স্যাটানিক ভার্সেস’ বিশ্বজুড়ে ধর্মীয় বিতর্কের জন্ম দেয়। পরের বছর ১৯৮৯ সালে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ খোমেনি এই লেখকের মৃত্যুদণ্ডের ফতোয়া ঘোষণা করেন। সেসময় রুশদির মাথার দাম ঘোষণা করা হয় ৩০ লাখ ডলার। ইরানে সেই ঘোষণা এখনো বহাল আছে। সেই ফতোয়া কার্যকর করতে ওই দিন রুশদির ওপর হামলা চালায় হাদি মাটার নামের এক যুবক।
আদালতে মাটার জানান, তিনি নিজেকে নিরপরাধ বলেই মনে করেন। তার অপরাধ নির্ধারণ করে সাজা ঘোষণার আগে বেশ কিছুদিন বিচার প্রক্রিয়া চলবে। তখন আদালতে হাজিরা দিতে যেতে হবে রুশদিকে। আততায়ীর মুখোমুখি হলে তার ট্রমা আরও বেড়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন এই লেখক।
১৯৪৭ সালে ভারত ভাগের ঠিক আগে আগে দেশটির মুম্বাইয়ের এক কাশ্মিরি মুসলিম পরিবারে সালমান রুশদির জন্ম। ১৯৮১ সালে তার দ্বিতীয় উপন্যাস ‘মিডনাইটস চিলড্রেন’ প্রকাশিত হলে লেখক হিসেবে তার খ্যাতি সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়তে থাকে। শুধু যুক্তরাজ্যেই বইটির ১০ লাখ কপি বিক্রি হয়।










