আফ্রিকার তিন শক্তিশালী ফুটবল দল আইভরি কোস্ট, ডিআর কঙ্গো এবং সেনেগালকে চোখের জলে বিদায় নিতে হয়েছে বিশ্বকাপের ৩২-এর লড়াই থেকে। আইভরি কোস্ট নরওয়ের কাছে ১-২ গোলে, ডিআর কঙ্গো ইংল্যান্ডের কাছে ১-২ গোলে এবং সেনেগালকে ২-৩ গোলে পরাজিত হতে হয়েছে বেলজিয়ামের কাছে। কিন্তু পরাজিত ডিআর কঙ্গো এবং সেনেগাল ম্যাচে বেশ এগিয়ে ছিল। বিশেষ করে সেনেগাল খেলার ৮৫ মিনিট পর্যন্ত ২-০ গোলে এগিয়ে থেকেও জয়ী হতে পারেনি। শেষঅবধি এক নির্মম পেনাল্টি তাদের সব স্বপ্ন ভেঙেচুরে চুরমার করে দেয়। আর তাই ওয়াশিংটনের সিয়াটল স্টেডিয়াম সেনেগালের খেলোয়াড়দের চোখের জলে ভেসেছে। সেনেগালের প্রধান কোচ পাপে থিয়াও বলেছেন, ২-০ গোলে লিড থাকার পরও ফলাফল ধরে রাখতে না পারাটা এক বড় ব্যর্থতা। এই রাউন্ডে আফ্রিকার দেশের মধ্যে এখন কেপ ভার্দে, ঘানা এবং মিশরের খেলা বাকি রয়েছে। রাউন্ড অব থাটি টু থেকে এই তিনটি দল বাদ পড়লে শেষ ষোলো হবে ইউরোপ আর লাতিন আমেরিকার ফুটবলে লড়াই। কেননা এক অর্থে এশিয়ার দেশগুলোও বিশ্বকাপের লড়াই থেকে ছিটকে গেছে। জাপানকে নিয়ে সবাই আশায় ঘর বেধেছিল। কিন্ত শেষপর্যন্ত ব্রাজিলকে পরাস্ত করতে ব্যর্থ হয় জাপান।
দীর্ঘদিন ধরে কানাডা প্রবাসী সাবেক তারকা ফুটবলার রুমি বলছিলেন, ‘এবারে বড় দলগুলোর বাইরে আইভরি কোস্টের লড়াকু খেলা বেশি ভালো লেগেছে। এশিয়ার প্রিয় দেশ জাপানের খেলা ভালো লেগেছে। কিন্তু দুটি দলই শেষ ষোলোতে পৌঁছাতে পারেনি। এদুটি দেশ শেষ ষোলোতে গেলে আরও ভালো লাগতো। তবে বিশ্বকাপ দেখে মনে হচ্ছে কোন অনুমানই হয়ত সঠিক হবে না। কোন দল চ্যাম্পিয়ন হবে সেটাও সময় বলে দেবে।’
বাংলাদেশের ফুটবলে ‘রুমি’ নামটা এখনও ভীষণ উজ্জ্বল ও মুগ্ধময় হয়ে আছে। ফুটবল বিষয়ক আলোচনায় এ নামটি অনিবার্যভাবেই উঠে আসে। নুতন প্রজন্মের কাছে খানিকটা অজানা হলেও পুরনো ফুটবলমোদীদের কাছ থেকে এ নামটি হারিয়ে বা ক্ষয়ে যায়নি। ফুটবলের সোনালী সময়ের শেষবেলা পর্যন্ত যারা অন্যরকম আলো ছড়াতে সক্ষম হয়েছিলেন রুমি তাদেরই একজন। ‘আবাহনীর রুমি’ হিসেবেই ট্রেডমার্ক হয়ে উঠেছিলেন। এখনও ঐ নামেই ট্রেডমার্ক। ফুটবল জীবনের দীর্ঘসময় ছিলেন আবাহনীতে। আবাহনীতে খেলেছেন সামর্থ্য দিয়ে। সর্বশেষ আবাহনীর জার্সি পরেই নিঃশব্দে বিদায় নেন ফুটবল থেকে।
মনে থাকার কথা, আশির দশকের শেষভাগ আর নব্বই দশকের বড় অংশজুড়ে রুমি নিজস্ব ফুটবল শৈলি দিয়ে ফুটবলমোদীদের মন জয় করতে সক্ষম হয়েছিলেন। ড্রিবলিং আর ছোট পাসে চমৎকার খেলতেন। ঐ সময়ে ঢাকার উত্তেজনাময় ফুটবল লিগে তারুণ্যময় আবাহনীর অনেক জয়েই ছিল তার অবদান। জাতীয় দলের হয়েও খেলেন অনেক অনেকদিন।
বিশ্ব মানচিত্রে রুমির প্রিয় দল আর্জেন্টিনা। সেই ম্যারাডোনার ফুটবলের মহা কাব্যকাল থেকেই আর্জেন্টিনার খেলা এনজয় করেন। লিওনেল মেসির খেলা বরাবরই খুব পছন্দ করেন। রুমি বললেন, ‘মেসি তো এখনও অনবদ্য। এই বয়সেও মেসি যা খেলছে তার তুলনা হয় না, অতুলনীয়। মেসির পাসিং, ড্রিবলিং, শট সেই আগের মতোই। মনেই হচ্ছে না মেসির বয়স হয়েছে। স্রষ্টার এক অপূর্ব সৃষ্টি মেসি। আর্জেন্টিনার পুরো টিমকে পরিচালনা করছে সে। গতবারের মতো এবারও মেসি আর্জেন্টিনাকে শীর্ষে নিতে নিজের সব উজাড় করে খেলছেন। নিজ দেশের প্রতি তার কমিটমেন্টের কোন অভাব নেই। গত তিনটি ম্যাচেই সে ভালো খেলেছে। কেপ ভার্দের সঙ্গেও সে একই মেজাজে, একই স্টাইলে খেলবে। সবচেয়ে বড় কথা মেসির খেলা বিশ্বেও কোটি কোটি ফুটবল অনুরাগী উপভোগ করছে। এখানেই মেসির জীবনের সার্থকতা। এত সার্থক, সফল জীবন কজনার হয়!’
রুমি আরও বললেন, ‘এবারও আর্জেন্টিনা চ্যাম্পিয়নের দৌড়ে আছে। সামনের ম্যাচে সেভাবেই খেলবে। বিশ্বকাপের ট্রফির জন্য ফ্রান্স, ব্রাজিলও নিজেদের সবটুকু নিঃশেষ করে খেলবে। শেষপর্যন্ত লড়াইটা কোনদিকে মোড় নেয় সেটাও দেখার বিষয়। কোন দেশ চ্যাম্পিয়ন হবে কেউ বলতে পারবে না।’
এবারের বিশ্বকাপে সেরা গোলদাতা কে হবেন? রুমি বললেন, ‘মেসি ও এমবাপে সমানতালে এগিয়ে যাচ্ছে। ইংল্যান্ডের হ্যারি কেনও এগিয়ে এসেছে। তবে সামনে আর্জেন্টিনা, ফ্রান্স, ইংল্যান্ডের মধ্যে যে দল ফাইনালের দিকে এগিয়ে যাবে সেই বিবেচনায় এই তিনজনের গোলসংখ্যা আরও বেড়ে চলবে বলে মনে করি। ফলে অনেক অনুমানই উল্টেপাল্টে যাবে দ্রুত।’








